‘লস্ট ল্যান্ড’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘লস্ট ল্যান্ড’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

দেশহারা মানুষের বেদনার গল্প ‘লস্ট ল্যান্ড’, জাপানে প্রশংসিত

বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পৃথিবীতে অভিবাসন যেন এক অনিবার্য মানবিক বাস্তবতা। কেউ যুদ্ধ, দমন-পীড়ন কিংবা রাষ্ট্রীয় সহিংসতা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়ে, কেউ–বা ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর ভবিষ্যৎহীন জীবন পেছনে ফেলে উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমায় দূরদেশে। বৈধ পথের পাশাপাশি সমানতালে সচল রয়েছে অবৈধ অভিবাসনের ভয়ংকর রুটও—যে পথে প্রতিটি মুহূর্তে ওত পেতে থাকে মৃত্যু, প্রতারণা, অনিশ্চয়তা আর সমুদ্রের অন্ধকার। সেই পথে হারিয়ে যায় অসংখ্য নাম-পরিচয়হীন মানুষ। কেউ পৌঁছায় গন্তব্যে, কেউ আর কখনো ফিরে আসে না।

জাপানি নির্মাতা আকিও ফুজিমোতোর নতুন চলচ্চিত্র ‘লস্ট ল্যান্ড’ বা রোহিঙ্গা ভাষায় হারা ওয়াতান এমনই এক দীর্ঘ, দুঃসহ, অথচ গভীর মানবিক যাত্রার গল্প। মিয়ানমারে জান্তা সরকারের নির্যাতন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত জীবন, শরণার্থীশিবিরের বন্দিদশা এবং সেখান থেকে মুক্তির আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ছবিটি। বর্তমানে জাপানের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়া এই চলচ্চিত্র দর্শকদের মনে তৈরি করছে গভীর আলোড়ন। কারণ, এটি শুধু শরণার্থীদের গল্প নয়; বরং দেশহারা মানুষের অস্তিত্বসংকট, স্মৃতি, ভয়, আশা ও টিকে থাকার সংগ্রামের এক অনন্য দলিল।

নির্মাণের পেছনের বেদনা
অভিবাসন, আত্মপরিচয় ও প্রান্তিক মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে কাজ করার জন্য আগেই পরিচিতি পেয়েছেন আকিও ফুজিমোতো। তাঁর নির্মিত ‘প্যাসেজ অব লাইফ’ (২০১৭)-এ উঠে এসেছিল জাপানে বসবাসের চেষ্টা করা এক বর্মী পরিবারের টানাপোড়েন। আবার ‘অ্যালং দ্য সি’ (২০২০)-তে দেখা যায় জাপানের গ্রামাঞ্চলে কর্মরত তিন ভিয়েতনামি নারীর সংগ্রামময় জীবন।

ফুজিমোতোর চলচ্চিত্রজগতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসীরা বারবার ফিরে আসে। কারণ, তিনি শুধু দূর থেকে তাদের গল্প দেখেন না; দীর্ঘ সময় ধরে তাদের জীবনযাপন, অনিশ্চয়তা ও ভাঙা স্বপ্নের সাক্ষী থেকেছেন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বারো বছর ধরে আমি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমারে চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেই সময় প্রায়ই রোহিঙ্গা জনগণের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা শুনেছি। আজকের পৃথিবীতে এমন নিষ্ঠুরতা এখনো সম্ভব—এটা বিশ্বাস করাও কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলাও নিষিদ্ধ ছিল। পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন নীরব থেকেছি। কিন্তু সেই নীরবতা আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিল। ‘লস্ট ল্যান্ড’ আসলে সেই নীরবতা ভাঙারই চেষ্টা।’

শিশুর চোখে দেখা অভিবাসনের দুঃস্বপ্ন
চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে—এটি কোনো রাজনৈতিক ভাষ্য দিয়ে শুরু হয় না। বরং পুরো গল্পটি এগোয় দুই শিশুর চোখ দিয়ে। চার বছরের শাফি (মুহাম্মদ শাফিক রিয়াস উদ্দিন) এবং তার ৯ বছরের বড় বোন সমীরা (সমীরা রিয়াস উদ্দিন) বাংলাদেশের এক শরণার্থীশিবিরে বড় হচ্ছে। চারপাশে অনিশ্চয়তা, সীমাবদ্ধতা, ভবিষ্যৎহীনতা।

‘লস্ট ল্যান্ড সিনেমার একটি দৃশ্যে দুই শিশু

একদিন তারা খালার সঙ্গে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে গোপনে যাত্রা শুরু করে। ভোরের আলো-আঁধারিতে শরণার্থীশিবির থেকে নৌযাত্রার সেই দৃশ্য যেন পুরো চলচ্চিত্রের আবহ তৈরি করে দেয়। কোথাও নিরাপত্তা নেই, কোথাও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নেই—তবু মানুষ যাত্রা শুরু করে, কারণ থেমে থাকারও কোনো উপায় নেই। একটি টেলিফোন আলাপ থেকে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় তাদের এক চাচা রয়েছে। মূলত উন্নত জীবনের সেই স্বপ্নই তাদের ঠেলে দেয় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে।
এরপর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে অবৈধ অভিবাসনের নির্মম বাস্তবতা। দালালরা যাত্রীদের কাছ থেকে সব মুঠোফোন কেড়ে নেয়। খাবার ও পানির কড়া হিসাব। সামান্য ভুলেও রূঢ় আচরণ। প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্ক—কখন ধরা পড়ে যায়, কখন মৃত্যু এসে গ্রাস করে।

দুই শিশুর কাছে পুরো অভিজ্ঞতাই অচেনা ও বিস্ময়কর। কিন্তু তাদের ঘিরে থাকা বড়রা যেন নিজেদের শেষ মানবিকতাটুকু দিয়ে শিশু দুটিকে আগলে রাখতে চায়। কেউ নিজের খাবার ভাগ করে দেয়, কেউ আদর করে মাথায় হাত রাখে। এই দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রটিকে শুধু শোকের গল্প হতে দেয় না; বরং মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকা সহমর্মিতার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

‘লস্ট ল্যান্ড’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

সমুদ্র—ভয় ও আশার প্রতীক
চলচ্চিত্রে সমুদ্র যেন আরেকটি চরিত্র। কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। যাত্রীদের মনোজগৎও যেন সেই সমুদ্রের মতোই ওঠানামা করে।
একদিন দূর থেকে দেখা যায় মিয়ানমারের উপকূল। স্মৃতির টানে এক রোহিঙ্গা যাত্রী গেয়ে ওঠেন বাড়ি ফেরার গান। মুহূর্তটি গভীর আবেগময়। কিন্তু তার কপালে জোটে ভর্ৎসনা। কারণ, ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাও যেন এখানে বিলাসিতা।
সমুদ্রযাত্রা যত দীর্ঘ হয়, যাত্রীদের ক্লান্তি ও আতঙ্কও তত বাড়তে থাকে। এক প্রবীণ সহযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঝড়ের ধাক্কা, ক্ষুধা আর অবসাদে একসময় নৌকাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরে মরদেহ সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
দৃশ্যটি নিছক মৃত্যুর নয়; এটি রাষ্ট্রহীন মানুষের পুরো অস্তিত্বের প্রতীক। জীবিত অবস্থায় যেমন তার জন্য কোনো নিরাপদ ভূমি নেই, মৃত্যুর পরও নেই কোনো কবর, কোনো শোকের স্থান। শুধু অসীম সমুদ্র।

সীমান্ত পেরোলেও মুক্তি নেই
অবশেষে নৌযান পৌঁছায় থাইল্যান্ড উপকূলে। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করে নতুন আতঙ্ক। হঠাৎ কোস্টগার্ডের অভিযান শুরু হলে সবাই দৌড়াতে থাকে অন্ধকারের মধ্যে। কেউ সাঁতরে তীরে ওঠে, কেউ জঙ্গলের দিকে পালায়।
সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে আলাদা হয়ে যায় শাফি, সমীরা ও তাদের খালা। এখান থেকেই চলচ্চিত্রের আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
দুই শিশুর সামনে তখন শুধু অজানা পথ। তারা জানে না কোথায় যাবে, কীভাবে খুঁজে পাবে মালয়েশিয়ায় থাকা চাচাকে। এর মধ্যেই তারা আবারও মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে। যারা টাকা না পেলে মানুষ হত্যা করতেও দ্বিধা করে না।
তবে ছবিটি কেবল অন্ধকারের নয়। এর ভেতরে বারবার ফিরে আসে আলোর ছোট ছোট মুহূর্ত। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, কেউ মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করার কথা বলে। আবার শত কষ্টের মাঝেও শাফি ও সমীরার শিশুসুলভ খুনসুটি, অভিমান, হাসি—সব মিলিয়ে ছবিটি মানবিক উষ্ণতায় ভরে ওঠে।
অভিনয় নয়, যেন জীবনের পুনরাভিনয়
‘লস্ট ল্যান্ড’-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি এর অভিনয়। চলচ্চিত্রে অংশ নেওয়া শতাধিক রোহিঙ্গার কারও অভিনয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কারণ, তারা অভিনেতা নন; তারা বাস্তব জীবনের শরণার্থী।
রোহিঙ্গা সহপ্রযোজক সুজাউদ্দিন করিমুদ্দিন তাদের যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নির্মাতা দল অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে যে অনেক সময় তারা ক্যামেরার উপস্থিতিই ভুলে যেতেন। ফলে অভিনয়ের বদলে যেন বাস্তব জীবনই ধরা পড়ে পর্দায়।

বিশেষ করে দুই শিশু চরিত্রের স্বতঃস্ফূর্ততা ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কখনো তারা খাবারের জন্য মানুষের দ্বারে যায়, কখনো খেত থেকে ফল তুলে খায়, কখনো সমীরা ক্লান্ত ছোট ভাইকে খেলনা গাড়িতে টেনে নিয়ে যায়। আবার মাঝেমধ্যে খেলায় মেতে ওঠে তারা।
পরিচালক জানিয়েছেন, এসব দৃশ্যের অনেকগুলোতেই শিশুরা সত্যিই খেলছিল। ক্যামেরা শুধু সেই মুহূর্ত ধারণ করেছে।
ফুজিমোতোর ভাষায়, ‘প্রশিক্ষিত অভিনেতা না হলেও তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার গভীরতাই পর্দায় তাদের উপস্থিতিকে অনস্বীকার্য শক্তি দিয়েছে।’

ডকুড্রামার বাস্তবতা
চলচ্চিত্রটি অনেকাংশেই পর্যবেক্ষণধর্মী ডকুড্রামার মতো। সংলাপ, ক্যামেরা মুভমেন্ট, চরিত্রের আচরণ—সবকিছুতেই বাস্তবতার ছাপ স্পষ্ট।
এই দিকটি মনে করিয়ে দেয় ব্রিটিশ চলচ্চিত্রকার পিটার ওয়াটকিন্সের কথা, যিনি ‘দি ওয়ার গেম’, ‘পানিশমেন্ট পার্ক’ কিংবা ‘লা কমিউন’-এর মতো চলচ্চিত্রে অপেশাদার শিল্পীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবহার করেছিলেন। তবে ফুজিমোতো তাঁর অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন রবার্ট ফ্ল্যাহার্টির কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ‘নানুক অব দি নর্থ’ (১৯২২)-এর কথা।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলীও সেই বাস্তবতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরের কিছু দৃশ্য থাকলেও ছবির বড় অংশের শুটিং হয়েছে মালয়েশিয়ায়। প্রায় এক মাস ধরে চলা শুটিংয়ে হ্যান্ডহেল্ড ক্যামেরার ব্যবহার ছবিটিকে দিয়েছে একধরনের ডকুমেন্টারি আবহ।

আলো-আঁধারির ভিজ্যুয়াল ভাষা
চলচ্চিত্রটির আরেক বড় শক্তি এর সিনেমাটোগ্রাফি। ডিওপি ইয়োশিও কিতাগাওয়ার ক্যামেরা যেন সব সময় চরিত্রগুলোর শ্বাসপ্রশ্বাস অনুসরণ করে।
নৌকায় কাটানো আতঙ্কের রাত, কোস্টগার্ডের ভয়ে অন্ধকারে দৌড়, গাছের ছায়ায় লুকিয়ে থাকা কিংবা পথ হারানোর দৃশ্য—সব জায়গাতেই আলো-আঁধারির কন্ট্রাস্ট অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
কখনো দৃশ্যগুলো বিশৃঙ্খল ও আতঙ্কময়, কখনো আবার শান্ত ও মায়াময়। দীর্ঘ শট, কম আলো ও বাস্তবধর্মী ক্যামেরা মুভমেন্ট ছবিটিকে ডকুমেন্টারির মতো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

ইয়োশিও কিতাগাওয়া এর আগে অস্কারজয়ী নির্মাতা রিউসুকে হামাগুচির ‘ইভিল ডাজ নট এক্সিস্ট’ (২০২৩)-এর সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বেও ছিলেন। ‘লস্ট ল্যান্ড’-এও তাঁর দক্ষতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
প্রযোজক কাযুতাকা ওয়াতানাবে জানান, কালার কারেকশনেও ছিল বিশেষ মনোযোগ। ফরাসি কালারিস্ট ইয়োব মুর প্রতিটি দৃশ্যের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে কাজ করেছেন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। আর বিশ্বখ্যাত কম্পোজার আর্নস্ট রেইজেগারের আবহসংগীত ছবির বিষণ্নতা, ভয়, মায়া ও আশাকে আরও গভীরভাবে দর্শকের মনে পৌঁছে দেয়।

আমগাছের ছায়ায় হারানো স্বদেশ
চলচ্চিত্রের শেষ অংশটিই সম্ভবত এর সবচেয়ে কাব্যিক ও প্রতীকী অংশ।
যাত্রাপথে খালা শিশুদের একটি গল্প শোনান—তাঁদের গ্রামে ভয়াবহ আগুন লাগলেও একটি বিশাল আমগাছ অলৌকিকভাবে টিকে ছিল। একদিন দেশে ফিরতে পারলে সেই গাছের কাছেই ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখান তিনি।
শেষ পর্যন্ত নানা বাধা পেরিয়ে শাফি পৌঁছায় মালয়েশিয়ায়। কিন্তু হারিয়ে যায় তার স্বজনেরা। একদিন স্মৃতির টানে বেরিয়ে পড়ে সে। তখন পথের ধারে দেখতে পায় একটি বিশাল আমগাছ। গাছটি যেন হয়ে ওঠে তার হারানো দেশ, স্মৃতি, আশ্রয় আর ভালোবাসার প্রতীক। মানুষ যেখানে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে প্রকৃতি যেন তাকে আপন করে নেয়।

চলচ্চিত্রের এই শেষ দৃশ্য গভীরভাবে প্রতীকী। এটি শুধু এক শিশুর গল্প নয়; বরং পৃথিবীর সব দেশহারা মানুষের গল্প। যারা স্বজন হারিয়েছে, পরিচয় হারিয়েছে, তবু আশ্রয়ের স্বপ্ন হারায়নি।

ইতিমধ্যেই ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ওরিজোন্তি প্রতিযোগিতা বিভাগে জুরি পুরস্কার পেয়েছে ‘লস্ট ল্যান্ড’। বর্তমানে টোকিওসহ জাপানের বিভিন্ন শহরে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে পরিচালক আকিও ফুজিমোতো জানান, সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশে বড় পরিসরে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চান—যেখানে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশি দর্শকরাও ছবিটি দেখার সুযোগ পাবেন।