
৫০ বছর আগে ‘হান্না’ নামের এক তরুণী একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ম্যাগাজিনের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশিত হয়েছিল। অর্ধশতক পরে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ছবিগুলোই এবার নতুন রূপে ফিরেছে চলমান ভিডিও হিসেবে; সঙ্গে যোগ হয়েছে ভয়েসওভার ও শব্দ।
এই ধারণা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘শেভড’ নামের এক ব্যতিক্রমী প্রকল্প, যা এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবের পাশের আয়োজনে প্রদর্শিত হয়েছে। পরে এটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কাল্টপিক্সেও মুক্তি পায়। নরওয়ের প্রতিষ্ঠান মাল্টিফরম্যাটের থমাস মেইয়ার ১৯৭৬ সালের বিভিন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের ম্যাগাজিনের স্থিরচিত্র ব্যবহার করে সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলোকে অ্যানিমেটেড ভিডিওতে রূপ দিয়েছেন। শুধু ভিডিও নয়, এতে যোগ করা হয়েছে রং, সমন্বিত শব্দ, সংলাপ ও ভয়েসওভার।
সত্তরের দশকের আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা
সংকলনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শেভড’ শুরু হয় সত্তরের দশকের তথাকথিত ‘পর্ন ফাঙ্ক’ সংগীত দিয়ে। ভারী বেজ, ইলেকট্রিক গিটারের রিফ আর ধীর লয়ের এই সংগীত একসময় প্রাপ্তবয়স্কদের চলচ্চিত্রের পরিচিত সাউন্ডট্র্যাক ছিল। একে অনেকে ‘বাও–চিকা–ওয়াও–ওয়াও’ ঘরানার সংগীত বলেও চেনেন।
ছবির শুরুতেই দেখা যায় হান্না নামের এক তরুণীকে। ভয়েসওভারে তাঁর অতীত স্মৃতি, সম্পর্ক ও একাকিত্বের কথা উঠে আসে। পরে গল্প এগোয় আত্মান্বেষণ, সম্পর্ক ও যৌনতার নানা প্রসঙ্গে।
পরবর্তী অংশে আরও কয়েকজন নারী চরিত্রকে দেখা যায়, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের জটিলতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে সত্তরের দশকের যৌনতানির্ভর চলচ্চিত্রের ঢঙে।
সংকলনের আরেকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘আফটার–মুভি পার্টি’তেও একই ধরনের আবহ বজায় রাখা হয়েছে। সেখানে গভীর রাতে সিনেমা দেখা শেষে দুই দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কের মুহূর্ত দেখানো হয়।
প্রযুক্তিগত বিস্ময় নাকি বিতর্কিত পরীক্ষা
সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এর প্রযুক্তিগত দিকের। অনেক দর্শকের মতে, এআই ব্যবহার করে পুরোনো স্থিরচিত্রকে এত বাস্তবসম্মত ভিডিওতে রূপান্তর করা বিস্ময়কর। বিশেষ করে মুখের অভিব্যক্তি, শরীরের নড়াচড়া ও সত্তরের দশকের পোশাক–পরিচ্ছদ ও সেট ডিজাইন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। বিশেষ করে খুব কাছ থেকে ধারণ করা কিছু দৃশ্যে এআইনির্ভর ভিজ্যুয়ালের কৃত্রিমতা ধরা পড়ে। কোথাও কোথাও মানুষের ত্বক বা অবয়ব প্লাস্টিকের মতো মনে হয়।
তারপরও অনেকের মতে, ‘শেভড’ শুধু একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রকল্প নয়; বরং এটি দেখিয়ে দিয়েছে ভবিষ্যতে জেনারেটিভ এআই পুরোনো আর্কাইভ ছবি ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নিয়ে কী করতে পারে।
নস্টালজিয়া, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার প্রশ্ন
সমালোচকদের কেউ এটিকে নিছক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা বলছেন, কেউ দেখছেন প্ররোচনামূলক শিল্পচর্চা হিসেবে। আবার অনেকে মনে করছেন, এটি চলমান ছবির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত।
কারণ, এখানে শুধু পুরোনো ছবি জীবন্ত করা হয়নি; বরং একটি সময়ের নান্দনিকতা, সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও নিখুঁত হয়ে উঠবে। তখন শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের চলচ্চিত্র নয়, পুরোনো আর্কাইভ, ঐতিহাসিক ছবি কিংবা হারিয়ে যাওয়া ভিজ্যুয়াল উপাদানও নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এর সঙ্গে উঠে আসছে নৈতিকতার প্রশ্নও। বাস্তব মানুষদের পুরোনো ছবি এআই দিয়ে নতুন পটভূমিতে ব্যবহার করা কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই বিতর্কও জোরালো হচ্ছে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে