পুরাতন কোর্ট রোড, কিশোরগঞ্জ।
বাবা এ কে এম নূরুল হক, মা হাসিনা হক।
স্ত্রী শিরিন সুলতানা। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৩৪২। গেজেটে নাম রফিকুল হক।
এ কে এম রফিকুল হক ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল নিজের এলাকা কিশোরগঞ্জ থেকে ভারতে গিয়ে প্রথমে একটি শিবিরে আশ্রয় নেন। কিছুদিন পর তাঁকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। আসামের ইন্দ্রনগরে তিনি প্রশিক্ষণ নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮।
প্রশিক্ষণ চলাকালেই তিনি ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে প্রথম অপারেশনে অংশ নেন। তাঁরা সেদিন সিলেটের বড়লেখা চা-বাগানে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দলের ওপর আক্রমণ করে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে রফিকুল হককে ৪ নম্বর সেক্টরের অধীন গণবাহিনীর (মুক্তিযোদ্ধা) একটি দলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জুনে তাঁরা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের একটি সেতু এবং সিলেটের লাতু রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী রেলসেতু বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করেন। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে তাঁদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরিত হয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি জিপ ধ্বংস হয়। ওই বিস্ফোরণে পাকিস্তানি এক ক্যাপ্টেন ও দুজন সেনাও নিহত হয়।
এরপর তাঁরা কালীগঞ্জ বাজারে রাজাকার ক্যাম্পে অতর্কিতে আক্রমণ করে ১৭টি রাইফেল ছিনিয়ে নেন। ২১ জুন শরিফপুর বাজারের পার্শ্ববর্তী রেলসেতু ও বরাক নদের মাটির বাঁধের অংশবিশেষ বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করেন। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে জকিগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৯ জুন তাঁরা জকিগঞ্জের আটগ্রামে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালান। তাঁদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে দুজন তাঁদের হাতে ধরা পড়ে।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি ৩ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন। ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁরা মিত্রবাহিনীর সঙ্গে আখাউড়ায় আসেন। আখাউড়ার যুদ্ধে এ কে এম রফিকুল হক সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান