ইংরেজি নতুন বছর বরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে বিরাট এক আলো ঝলমলে বল ওপর থেকে নিচে নামানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে আকাশে ওড়ে কোটি কোটি কনফেত্তি; ওগুলোতে লেখা থাকে মানুষের শুভকামনা। ইংরেজি নতুন বছর বরণ করতে এমন জমকালো উদ্যাপনের রীতি চালু আছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তবে কিছু দেশের উদ্যাপনের রীতিনীতি একেবারেই আলাদা। তেমনই কয়েকটি ব্যতিক্রমী উদ্যাপনের খোঁজ পাবেন এখানে।

কলম্বিয়ার মানুষ ঘুরতে ভালোবাসে। ভ্রমণ তাঁদের এতটাই পছন্দ যে নতুন বছর উদ্যাপনেও থাকে বেড়াতে যাওয়ার প্রত্যাশা। ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঘড়িতে ১২টা বাজলে রীতি অনুযায়ী সেখানকার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এরপর তাঁরা বাড়ির চারপাশে ওই খালি স্যুটকেস নিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন। আসছে বছর কোনো একসময় বেড়ানোর উপলক্ষে তাঁদের এই খালি ব্যাগ পূর্ণ হবে—এ প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা এই রীতি পালন করেন।
৩১ ডিসেম্বর রাতে ‘কুশপুত্তলিকা’ পোড়াতে রাস্তায় নেমে আসেন ইকুয়েডরের মানুষ। তাঁরা তাঁদের দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়, অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে উল্লাস করতে থাকেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই উদ্যাপনই আগামী বছরে তাঁদের কপাল ফেরাবে।
নতুন বছরকে আমন্ত্রণ জানানোর আগমুহূর্তে জার্মানরা ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে ওঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও বেশ অদ্ভুত। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে তাঁরা সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে ফেলেন। এরপর গলিত সিসা ঠান্ডা পানিতে ঢালা হয়। পানিতে ঢালার পর সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। পানিতে সিসা যদি হার্ট বা হৃদয়ের মতো আকৃতি ধারণ করে, তাহলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আকৃতি যদি হয় মুকুটের মতো, তাহলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন। স্টার বা তারার আকার ধারণ করলে সুখে থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে মানেন তাঁরা।
লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ ব্রাজিল, মেক্সিকো, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোতে বছরের শেষ দিকে নতুন অন্তর্বাস কেনার ধুম পড়ে যায়। বর্ষবরণ উদ্যাপনে নতুন অন্তর্বাস পরনে থাকলে আসন্ন বছরে ভালো কিছু পাবেন বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু নতুন অন্তর্বাস হলেই চলবে না। অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রং রয়েছে—হলুদ আর লাল। আপনি যদি লাল পরেন, তাহলে ভালোবাসা পাবেন। আর হলুদ এনে দেবে সফলতা।
ইংরেজি নববর্ষে ইতালির নেপলস শহরের বাসিন্দারা উদ্ভট উদ্যাপনে মেতে ওঠেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, তাঁরা বছরের শেষ দিন রাতে ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বাড়ির বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরোনো সবকিছু ফেলে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার জন্য রূপক অর্থে তাঁরা এভাবে প্রতিবছর উদ্যাপন করেন।
স্প্যানিশদের নতুন বছরের আগমন উদ্যাপন বেশ স্বাস্থ্যসম্মত বলতে হয়। ৩১ ডিসেম্বর রাতে তাঁরা ১২টি করে আঙুর খান। নতুন বছরে উন্নতি লাভের আশায় তাঁরা নির্দিষ্টসংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি অনুসরণ করেন। ১৯০৯ সালে আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা এই রীতি চালু করেন। ১১১ বছর ধরে স্পেনে এখনো তা প্রচলিত আছে।
সূত্র: নিউজউইক