
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনও পেরিয়েছে ৩ দশক। এবার রস+আলোর মুখোমুখি হলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের।
প্রথম প্রশ্ন, লোডশেডিং কেমন উপভোগ করছেন?
বেশ উপভোগ করছি। হয়তো খুব শিগগির এটা ঠিক হয়ে যাবে। লোডশেডিংয়ের সময়টাকে পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম হিসেবেই নিচ্ছি। আর বিদ্যুৎ এলে মনে হয়, জীবনে আবার নতুন করে আলো ফিরে এসেছে!
আচ্ছা, চৌধুরী সাহেবকে ম্যানেজ করা কঠিন, নাকি চৌধুরী
সাহেবের মেয়েকে?
যে চৌধুরী সাহেবকে বলেছি, তিনি মারা গেছেন, এখন আর সংলাপ দিয়ে লাভ নাই। তবে মেয়েকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করলে হয়তো আবার নতুন কোনো চৌধুরী সাহেবের আবির্ভাব ঘটতে পারে!
বাংলা সিনেমায় সব সময় বড়লোকের মেয়েদের সাথেই আপনার প্রেম হয়ে যেত কেন?
এ জন্যই তো ওমর সানী! ওমর সানী হচ্ছে গরিবের আর্টিস্ট, এটা নিয়ে আমি খুব প্রাউড। আমি বড় লোকের আর্টিস্ট হতে চাই না। গরিবের ভালোবাসায় যে স্বস্তি আছে, বড়লোকের এসিতে সেটা পাওয়া যায় না!
ভিলেনদের সাথে ফাইট, নাকি ফেসবুকে নেগেটিভ কমেন্ট যারা করে তাদের সাথে ফাইট—কোনটা করতে বেশি মজা লাগে?
ফেসবুকে যারা নেগেটিভ কমেন্ট করে, ওরা না বুঝেই করে। ওদের জন্য দোয়া করি, যেন ব্রেনটা ঠিক থাকে। আর ওদের সঙ্গে ফাইটে নামলে তো আমারই সময় নষ্ট—ভিলেনের সঙ্গে ফাইট করে টাকা পাই, ফেসবুকের সঙ্গে ফাইট করে কী পাই? তাই ওদের কমেন্টকে এখন বিনোদন হিসেবেই নিই, ফ্রি কমেডি শো—টিকিটও লাগে না!
আপনার রেস্টুরেন্টের নাম ‘চাঁপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ কেন? এটা কি নিজের জীবন থেকে নেওয়া?
পৃথিবীতে শ্বশুরবাড়ির খাবার সব সময় মজার হয়। আমার এখানে যারাই কাস্টমার হিসেবে আসেন, তাঁদের শ্বশুরবাড়ির পয়েন্ট অব ভিউ থেকে আপ্যায়ন করি। এ জন্যই নাম—চাঁপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি। এখানে খেতে এসে কেউ যেন বিল দেওয়ার সময় মনে না করেন, ‘শ্বশুরবাড়িতে এসে আবার বিল কেন!’ তাই খাবারটা শ্বশুরবাড়ির, কিন্তু বিলটা একদম নিজের বাড়ির।
অনেক ব্যবসাই তো করলেন, চাবুকের ব্যবসা করবেন কবে?
চাবুকের ব্যবসা করব না। ভাতের হোটেলই আমার শেষ ব্যবসা। চাবুক দিয়ে মানুষ পেটানো যায়, কিন্তু ভাতের হোটেলে মানুষ পেট ভরে খায়—আমি তাই দ্বিতীয়টাই পছন্দ করি। এখন জীবনের বাকি সময়টা চাবুক নয়, চামচ-থালা নিয়েই কাটাতে চাই!
আপনি কি আসলেই অরিজিনাল চাবুক অর্ডার করেছিলেন?
আসলে পরিচালক–প্রযোজকেরা চাবুক নিয়ে আসত। আমার হাতে দিত কিংবা নায়িকার হাতে দিত। কিন্তু এখন হইছে কি, একটা চাবুক রাখব। সাক্ষাৎকার দিতে এলে এই চাবুক নিয়ে আসব। প্রশ্ন করার আগে সাংবাদিকেরাও একটু ভেবেচিন্তে প্রশ্ন করবে! আর উত্তর পছন্দ না হলে চাবুক দেখিয়ে বলব—‘পরের প্রশ্ন!’
ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনি নায়ক নন, গায়ক। এমন হলে কোন গানটি গাইবেন?
আমি প্রায় একটা গান করি। গানটা আমার ভীষণ প্রিয়—‘জীবন আঁধারে পেয়েছি তোমারে/ চিরদিন পাশে থেকো বন্ধু’! নায়ক না হয়ে গায়ক হলে এই গান দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করব—গলায় সুর থাকুক আর না থাকুক! তবে শ্রোতারা যদি গান শুনে আবার আমাকে নায়ক বানিয়ে দিতে চায়, তখন আর কী করা—ফিরে আসতেই হবে!
তা কোন বন্ধুকে চিরদিন পাশে রাখতে চাইবেন, নতুন বন্ধু, নাকি ৩১ বছরের পুরোনো বন্ধু মৌসুমী...
৩১ বছরের পুরোনো বন্ধু মৌসুমীকেই পাশে রাখব। নতুন বন্ধুত্ব করার বয়স আর ধৈর্য—দুটোই এখন কমে গেছে! ৩১ বছর যাকে সহ্য করে এসেছি, তাকে এখন আর ছেড়ে নতুন কাউকে খুঁজব কেন? নতুন বন্ধুর আবার কত দিনের গ্যারান্টি, মৌসুমীর তো ৩১ বছরের ওয়ারেন্টি চলছে!
এত বছর নায়ক ছিলেন, এবার যদি নিজের জীবন নিয়ে সিনেমা বানান—নাম কী দেবেন?
নাম দেব ‘ওমর সানী এখনো আছেন’। কারণ এত কিছুর পরও আমি টিকে আছি—এটাই তো সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স! আর সিনেমার শেষে একটা কথা থাকবে—নায়ক বদলাতে পারে, চাবুক বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না!