রস‍+আলো

আ–পদের পদত্যাগ

দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও কর্মক্ষেত্রে অব্যাহত শোষণের প্রতিবাদে এবার সরব হয়ে বাংলা ব্যাকরণের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা ফেসবুকে জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন স্বঘোষিত সমিতি—আমরা খাঁটি আ-পদ। হুবহু পোস্টটি তুলে দিয়েছেন মাহাবুবা শারমিন।

বন্ধুরা, আমরা বাংলা ব্যাকরণে পদ হিসেবে সেই আদিকাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু জন্মের পর থেকেই শিকার হয়ে আসছি নানাবিধ বৈষম্যের।

বাক্য গঠন থেকে শুরু করে অর্থের ভার বহন—সব কাজেই আমাদের অপরিহার্য ভূমিকা থাকলেও আমাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। আমাদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বিশেষ্যকে সব সময় নামের ভার বহন করতে হয়। অথচ নামের সঙ্গে বদনামও জোটে বিনাশ্রমে। বিশেষণকে অন্যের গুণ বর্ণনা করতে করতে নিজের গুণ বিসর্জন দিতে হয়। ক্রিয়াকে দিয়ে দিনরাত কাজ করানো হলেও সেই কাজের কৃতিত্ব জোটে কিনা অন্যের ভাগ্যে। সর্বনামকে অন্যের নাম আড়াল করতে গিয়ে নিজের বাপ-দাদার অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে হয়। অব্যয় কোনো পরিবর্তন না হওয়ার অপরাধে হয় প্রতিনিয়ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার। আর অব্যয়ের কাজিন অনুসর্গ? বেচারা সব সময় অন্যের পেছনে বসে থাকে। আগে বসার অধিকারটুকুও আজ পর্যন্ত সে অর্জন করতে পারেনি। এমতাবস্থায় আমরা পঞ্চপদ সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— 

তাই বন্ধুরা, অবিলম্বে আমরা আমাদের এই পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমাদের পদত্যাগের ফলে বাংলা ভাষার বাক্যব্যবস্থায় যে অনিবার্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। 

নেব না নেব না নেব না 

অন্যায় মেনে,

রব না রব না রব না ঘরের কোণে

ঘরের কোণে!

তাই বন্ধুরা, অবিলম্বে আমরা আমাদের এই পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমাদের পদত্যাগের ফলে বাংলা ভাষার বাক্যব্যবস্থায় যে অনিবার্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। 

তোমাদের এই বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়াকে ভুলে যেয়ো না। ফেসবুকে না পেলে imo-তে পাবেই আমাদের।