রসালাপ

মামলা-টামলা খাইলে পরের কয়েক মিনিট মনটা খারাপ থাকে, তখন আস্তেই চালাই –জনৈক বাস ড্রাইভার (লোকাল)

মানুষের জীবন মূলত লোকাল বাসের ড্রাইভারের উপর নির্ভরশীল। জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিটির সাক্ষাৎকার কেউ নেয় না। চাইলেও তারা দেয় না। তাই জনৈক লোকাল বাস ড্রাইভারের সাক্ষাৎকার কাল্পনিক উপায়েই নিয়েছেন সাবরিন জাওয়াদ। 

ভাই, কেমন আছেন?

জি, ভালোই আছি। আমগো তো ধরেন খারাপ থাকার কিছু নাই। অলটাইম দৌড়ের উপর।

দৌড় আর কই, বেশির ভাগ সময় তো যাত্রী ওঠানোর নাম করে বসেই থাকেন!

আপনারা যেইটারে বসে থাকা বলেন, আমরা সেইটারে রেস্ট বলি। আমাগোও রেস্ট দরকার হয়।

আপনি কবে থেকে বাস চালান?

চালাই মনে করেন জন্মের পর থাইকাই। আগে খেলনা বাস উল্টাইতাম, এখন আসলটাই উল্টাই।

আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে?

লাইসেন্স দিয়ে কি আর বাস চলে? বাস চলে হাওয়ার উপরে। শোনেন নাই গান, হাওয়ার উপর চলে গাড়ি…

আপনার বাসের ফিটনেস আছে?

ফিটনেস? আমার বাস তো আর মডেলিং করতে যাবে না যে ফিটনেস থাকব! 

সারা দিনে কয়টা আইন ভাঙেন?

দুই দিনের দুনিয়ায় এত হিসাব রাখি না। যখন যেইটা সামনে পড়ে, ভাইঙ্গা দেই।

কখনো ইচ্ছা হয় নাই যে আজকে একটু নিয়ম মেনে আস্তে–ধীরে চালাবেন?

চালাই তো। মামলা-টামলা খাইলে পরের কয়েক মিনিট মনটা খারাপ থাকে, তখন আস্তেই চালাই। তা বাদে আস্তে চালানোর সময় কই! 

বাস চালানোর সময় আপনার সবচেয়ে পছন্দের কাজ কোনটা?

সামনের বাস রে ঠ্যালা–ধাক্কা দিয়ে ওভারটেক করা। কী যে শান্তি!

এত হর্ন বাজান কেন?

হরেন দিলে শইল্লে একটা ভাব আসে। তা ছাড়া হরেনের জন্ম হইছে কেন? হরেন তো আর বোবা না। ওর কাজই হইতেছে বাজা। 

ট্রাফিক পুলিশ নাকি আপনাকে ওভারটেক করতে চাওয়া বাস, কোনটাকে বেশি বিরক্ত লাগে?

দুইটা দুই রকমের টেনশন, একটাতে পকেটের উপর চাপ পড়ে, আরেকটায় মেজাজের উপর।

যাত্রীকে আদর করে বাসে তুলে ঘাড় ধরে নামান কেন?

যাত্রী ওঠেই তো নামার জন্য। যে চইলা যাইতে চায়, তারে আটকান যায় না। ওই জন্য আগেই ঘাড় ধরে নামায় দেই।

ছাত্রদের থেকে হাফ ভাড়া রাখতে এত সমস্যা কেন?

ছাত্রজীবনই তো শিক্ষা নেওয়ার বয়স। তাই তাদের বাস্তবতা বুঝাই, চাইলেই অর্ধেক দিয়া জীবন চলে না। এগুলারে আমি সামাজিক কাজ মনে করি।