
এত দিন ব্যাটারিচালিত রিকশার জীবন ছিল অনেকটা স্বাধীন শিল্পীর মতো—যেখানে ইচ্ছা, সেখানে যাত্রা। এখন তাদের জীবনেও আসছে নিয়মকানুন। অঞ্চলভেদে চলাচল, আলাদা রং, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে রিকশার জীবনেও শৃঙ্খলা আসার কথা। নতুন নীতিমালা হাতে নিয়ে তাই এক ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ডেকে নেওয়া হলো চাকরির ইন্টারভিউতে। ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন মাহমুদুল হাসান।
আপনার নাম?
ব্যাটারিচালিত রিকশা।
অভিজ্ঞতা?
ঢাকা শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সব জায়গায় কাজ করেছি।
আপনার কোনো নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র ছিল?
ছিল না। এটাই আমার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।
কিন্তু নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট এলাকায় চলতে হতে পারে।
তাই নাকি! এত দিন পর বুঝলাম, আমারও অফিসের ঠিকানা হবে।
ঢাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হলে আপনার অসুবিধা হবে না?
না। শুধু একটা অনুরোধ—জোন যেন এত ছোট না হয় যে এক যাত্রী তুলেই জোন শেষ হয়ে যায়।
আপনার গায়ে আলাদা রং করা হবে। কেমন লাগছে?
ভালোই। এত দিন মানুষ আমাকে দেখে শুধু ‘রিকশা’ বলত। এখন অন্তত রং দেখে বুঝবে, আমি কোন এলাকার নাগরিক।
জিপিএস বা জিও-ফেন্সিং সম্পর্কে কী জানেন?
এত দিন যাত্রী আমাকে খুঁজত। এখন শুনছি সরকারও আমাকে খুঁজবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের কথাও আছে। এটা ভালো। তবে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে যাত্রীদেরও একটু প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।
কী প্রশিক্ষণ?
‘ভাই, একটু দ্রুত যান’ বলার আগে রাস্তার অবস্থা দেখা।
আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
মানুষ আমাকে একদিকে চায়, আবার অন্যদিকে চায় না। বাহন হিসেবে সবাই ভালোবাসে, যানজটের কারণ হিসেবে কেউই পছন্দ করে না।
নতুন নীতিমালা হলে আপনি কি বদলে যাবেন?
অবশ্যই। এত দিন ছিলাম ‘যেদিকে রাস্তা, সেদিকেই যাত্রা’। এখন হব— 'যেদিকে নীতিমালা, সেদিকে যাত্রা।’
শেষ প্রশ্ন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আগে ঠিকানা ঠিক করব, তারপর ফিটনেস করাব, তারপর রং করাব। এরপর যাত্রী নিয়ে বের হব।
আর যদি যাত্রী বলে, ‘ভাই, একটু শর্টকাটে যান’?
বলব, 'স্যার, শর্টকাটের যুগ শেষ, এখন আমারও নীতিমালা আছে!’