চ ল তি র স

বেয়ার গ্রিলস ইন অ্যাডভেঞ্চারাস বাংলাদেশ

আমি বেয়ার গ্রিলস, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাগুলোতে যাই আপনাদের দেখাতে যে কীভাবে বেঁচে ফিরতে হয়। আমি সারা পৃথিবী ঘুরলেও বাংলাদেশে এই প্রথম। শুনেছি, এখানে বেঁচে থাকা খুব মুশকিল। দেখি, এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারি কি না!

কার্টুন: অপূর্ব দীপ্ত

বাংলাদেশের প্রথম দিনটা আমি কাটাব ঢাকায়। শুনেছি, সন্ধ্যা নামতেই এখানে ছিনতাইকারী আসে। আমি একদম হটস্পটে আছি। দেখি কী হয়। একি! ওরা কারা আমার দিকে এগিয়ে আসছে! হাতে ধারালো কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। নাহ্‌! এটা বেশ বিপজ্জনক। দৌড়ে পালাতে হবে!

আমার কাছে এখন খুব অল্প কিছু টাকা আছে, এখানে সবকিছুরই অনেক দাম৷ দেখা যাক, এই অল্প টাকায় এখানে খাবার পাওয়া যায় কি না। ভাতের হোটেলে গিয়ে ভাত আর গরুর মাংস খেতে চাইলাম। কিন্তু ৫০০ টাকা দাম চাইছে। এটা অসম্ভব। আজ রাতটা তাহলে ভালো কাজের হোটেলেই খেতে হবে।

আজ সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি। বাইরে সবাই হাঁটুসমান পানি পার হয়েই চলাফেরা করছে। আমিও বেরিয়ে ছিলাম, অমনি একটা গর্তে পা পড়ে গেল। দুই হাত দিয়ে গর্তের দুই পাশ আটকে ধরেছি। না! এটা কোনো গর্ত না। লোকজনের থেকে জানতে পারলাম, এখানে ম্যানহোলে ঢাকনা থাকে না এবং আমি ম্যানহোলেই পড়ে যাচ্ছিলাম! এবারের মতো হয়তো বেঁচে গেলাম। জানি না, সামনে কী অপেক্ষা করছে।

বন্ধুরা, এখন যে জায়গায় আছি, এখানে রাতের বেলা মশা গোল গোল হয়ে মাথার ওপর ঘুরে বেড়ায়। এখানে মানুষ ময়লা–আবর্জনা জমিয়ে রাখে, পানি জমাট বাঁেধ। আর এসব থেকেই জন্ম নেয় এই ভয়ংকর প্রানী। শুনেছি, ঠান্ডা-কাশির মতো এখানে সবার ডেঙ্গু হয়। আমি মোটামুটি ৯০০টা মশার কামড় খেয়েছি। জানি না, কাল ডেঙ্গু হয়ে যাবে কি না।

এখানকার সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই সময়ে এসেও এখানে কারেন্ট চলে যায় দিনে তিন–চারবার। বিষয়টা কিন্তু খুবই ইন্টারেস্টিং! জায়গাটি খুব গরম, তার ওপর কারেন্ট নেই। খুবই নাজেহাল অবস্থা। কিন্তু আমাকে টিকে থাকতে হবে। এখানকার মানুষেরা এভাবেই আদিম যুগের মতো বিদ্যুৎ–সমস্যার মধ্য দিয়েই জীবন যাপন করছে। দে আর ফাইটারস!

একটু পরপরই বিকট শব্দ। প্রথমে বাজি-পটকা ভাবলেও এটা আরও জটিল বিষয়। এখানে প্রায়ই ককটেল ফাটে। আমি বেশ সাবধানতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় ঠিক উল্টো পাশেই ককটেল ফাটল। কিন্তু কেউ খুব একটা বিচলিত না। আমিও চোখকান খোলা রেখেই এগোলাম। আবার একই রকম শব্দ হলো। নাহ্‌! এখান থেকে বেঁচে ফেরার রাস্তা এখন একটাই। যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে।