রস কবিতা

ফিনিক্স

রসের আলো এত্ত নিলাজ, এত্ত গাড়ল-গোঁয়ার;

বোঝেই না, হায়—কখন ভাটা, কখন আসে জোয়ার।

কখন কোথায় থামতে হবে, কখন কোথায় শুরু;

পান্থপথের সাহস দেখে কোঁচকে কেবল ভুরু।

কত্ত রকম কাণ্ড করি, হয় না তবু বশ;

আটাশ বছর পরেও ওদের চুইয়ে পড়ে রস।

রসের হাঁড়ি, যশের হাঁড়ি—ফুরোচ্ছে না ওদের;

রাষ্ট্রে ওরা বিষের ফোড়া, কিসের ওপর? গোদের।

মুহুর্মুহু মিছিল-মিটিং—শূন্য দশক থেকেই;

যাচ্ছে তবু লিখেই ওরা, যাচ্ছে ওরা এঁকেই।

দেশের মানুষ ঘুমায় কেন—উঠুন এবার, জাগুন;

‘আলো’র নাচন বহাল কেন লাগার পরও আগুন?

অশ্ববেগে ছুটবে কেন ভস্ম হওয়ার পরও;

সকল কিছুর ঊর্ধ্বে ওরা? সবার চেয়ে বড়?

আমরা তবে ধঞ্চে নাকি, ঢাকায় আসা ভেসে?

গড়তে না-হোক, ভাঙতে পারি— সকল কিছু— হেসে।

পারছি না আর এদের নিয়ে, বেদের মেয়ে জোছন;

জিদের জোশে কান্দি বসে, অশ্রু না-যায় মোছন।

বন্ধ ছিল রসের আলো, ছাপবে নাকি আবার;

যুক্ত হলো নতুন জ্বালা, কম্ম হলো কাবার!

নতুন করে কাটবে ফোড়ন, মারবে আবার খোঁচা;

আমরা যারা ঊর্ধ্বনাসিক, আবার হব বোঁচা!

রাষ্ট্রজুড়ে ঘুরছে শনি, শনির পরই রবি;

শিক্ষা নিবি কখন তোরা? মানুষ কবে হবি?

থামলি না আর, নামলি না আর, নামল যখন সবে;

করব কী আর, বলব কী আর, তোদের দিয়েই হবে!

নিটোল পায়ে রিনিক্স, আবার নিটোল পায়ে ঝিনিক্স;

রসের আলো কাছিম যেন, আগুনচাপা ফিনিক্স।

চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে, ফিরল রসের আলো;

তোমরা যারা যুবক আছ, ইউরেনিয়াম ঢালো;

হায়, আল্লাহ্‌! আমরা, খালেদ, আগেই ছিলাম ভালো।