একসঙ্গে জন্ম, দেখতে একই রকম, আবার পড়ছেনও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে। অভিজ্ঞতাটা কেমন?

একজন পড়ছেন অর্থনীতিতে, অন্যজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্রী। তবে ঠিকানা একটাই—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। হাসিখুশি দুই বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম আমরা।
‘ছোটবেলা থেকেই যমজ হওয়ার কারণে একটু বেশিই আদর পেয়েছি আমরা। দেখতে এক রকম বলে সবাই আমাদের মনে রাখত,’ বলছিলেন জান্নাতুল রোমানা ওরফে হাসি। যমজ হওয়ার সুবিধাগুলো দুই বোন পুরোপুরি কাজে লাগাতে চান। একজন আরেকজনের ক্লাসে ‘প্রক্সি’ দেন না ঠিক, কিন্তু দাপ্তরিক কাজগুলো করে দেন ঠিকই। ‘এমনো হয়েছে যে আমি ওর ডিপার্টমেন্টে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে এসেছি। কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে এটা অন্য কেউ,’ গোপন তথ্যটা বলেই দিলেন জান্নাতুল তামান্না ওরফে খুশি। এমনকি একবার নিজের পাসপোর্ট সাইজ ছবি খুঁজে না পাওয়ায় হাসি নাকি বোনের ছবি দিয়েই কাজ চালিয়ে নিয়েছেন!
দেখতে এক রকম হওয়ার কিছু বিড়ম্বনাও আছে। হাসিকে খুশি ভেবে কেউ খোশগল্প শুরু করে দিলে মাঝপথে তাঁকে থামানো মুশকিল হয়ে যায়। তাই মাঝেমধ্যে দুই যমজ আর ভুল ভাঙিয়ে দেন না।
এই জোড়ের মিল শুধু চেহারাতেই সীমাবদ্ধ নয়। জানালেন, ছোটবেলা থেকে তাঁদের জামাকাপড়, চুলের স্টাইল, স্কুল-কলেজ, সবকিছু একই ছিল। সব একসঙ্গে হওয়ায় কখনো আলাদা থাকার কথা ভাবতেই পারেননি। ক্লাস সেভেনে একবার দুই বোনকে আলাদা শাখায় ক্লাস করতে বলা হলো। তখন অধ্যক্ষের কাছে অনুমতি নিয়ে তারা এক ক্লাসে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আর ‘আবদার’ চলে না। মেধার জোরেই দুজন সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। খুশি বলেন, ‘আমরা সত্যিই ভাগ্যবান। দুজনকে আলাদা থাকতে হলে কী করতাম জানি না।’
বন্ধুরা যেন হাসিকে খুশি, আর খুশিকে হাসি ভেবে ভুল না করে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তাঁরা নিজেদের বেশভূষায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। চুল কেটেছেন আলাদা স্টাইলে। তবে দুজনের পছন্দগুলো এখনো একই আছে।
আর অমিল? হাসির মতে, ‘খুশি একটু বেশি সমঝদার। একটু গোছানো থাকতে পছন্দ করে। আমি আবার অল্পেই রেগে যাই।’ তবে দুই বোন নাকি দুজনের পরিপূরক। একজন সব সময় আরেকজনকে দেখে রাখেন। সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা আছে দুজনেরই। ভবিষ্যতেও দুজন একই সঙ্গে বড় সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সবাইকে অবাক করা অব্যাহত রাখবেন কি না, কে জানে!