আমাদের পুষ্টি কথা

ক্যানসার ঠেকাতে বাঁধাকপি

শীতকালীন সবজি হলেও বাঁধাকপি এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। এ দেশে সবুজ বর্ণের বাঁধাকপির চাষ হলেও এখন দেশের বাইরে বেগুনি-লাল বর্ণের বাঁধাকপিও পাওয়া যায়।
বাঁধাকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ভিটামিনই আছে। এতে আছে রিবোফ্লাভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, থায়ামিন, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি ও কে।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বাঁধাকপিতে রয়েছে খাদ্যশক্তি ২৬ কিলোক্যালরি। শর্করা ৪ দশমিক ৭ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১ গ্রাম, চর্বি শূন্য দশমিক ১ গ্রাম, আমিষ ১ দশমিক ২৮ গ্রাম, থায়ামিন শূন্য দশমিক ৬৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লোবিন শূন্য দশমিক ৪ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন শূন্য ২৩৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-৬ শূন্য দশমিক ১২ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড শূন্য দশমিক ২১২ মিলিগ্রাম, ফোলেট ৪৩ আইইউ, ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন কে ৭৬ আইইউ, ক্যালসিয়াম ৩১ মিলিগ্রাম, লোহা শূন্য দশমিক ৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, ম্যাংগানিজ শূন্য দশমিক ১৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২৬ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৭০ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, জিংক শূন্য দশমিক ১৮ মিলিগ্রাম, ফ্লুরাইড এক আইইউ। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি বাঁধাকপির রয়েছে নানান রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতাও।
আসুন এবার জেনে নিই বাঁধাকপি কীভাবে ক্যানসার প্রতিরোধ করে। গবেষকেরা জানান, বাঁধাকপিতে রয়েছে লুপিওল, ডিনডলি মিথেন ও সিনিগ্রিন নামক ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান। তাই বাঁধাকপি ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে।
কেবল ক্যানসার নয়, নানা শারীরিক সমস্যায় বাঁধাকপি উপকারী। এটি বুক জ্বালা-পোড়া দূর করে। কিডনি রোগীদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য সবজি। যাঁরা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিস করিয়ে থাকেন, চিকিৎসকেরা তঁাদের কাঁচা বাঁধাকপি সুন্দর করে কেটে কাঁচা খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে, যা দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বাঁধাকপির রস খেলে ঘা ও ফোঁড়া সেরে যায়৷
রোজ ৫০ গ্রাম করে বাঁধাকপির পাতার রস খেলে পায়োরিয়া এবং দাঁতের অন্য কোনো সমস্যা দূর হয়। বাঁধাকপিতে উচ্চ আঁশজাতীয় উপাদান থাকায় হজম ভালো হয়। আলসার বা পেপটিক আলসার রোগীদের জন্য বাঁধাকপি উত্তম দাওয়াই। প্রচুর বিটা ক্যারোটিন থাকায় এটি চোখের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।
বাঁধাকপি হাড় ভালো রাখতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও সোডিয়াম, যা হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া বাঁধাকপিতে উপস্থিত ভিটামিন হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। যাঁরা নিয়মিত বাঁধাকপি খান তাঁদের বার্ধক্যজনিত হাড়ের সমস্যা হ্রাস পায়। বাঁধাকপি এমন একটা খাবার, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। বাঁধাকপিতে খুবই সামান্য পরিমাণ কোলেস্টেরল ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। সালাদে প্রচুর পরিমাণ বাঁধাকপি থাকলে অতিরিক্ত ক্যালরি বাড়ে না বললেই চলে। বহুস্তর বিশিষ্ট এ সবজি ফাইটোকেমিক্যালসের অন্যতম উৎস, যা শরীর ও ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। উজ্জ্বল এবং সুন্দর ত্বকের জন্য বাঁধাকপি বরাবরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী একটি সবজি।
লেখক, প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা
চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল