দুই ভাই একসঙ্গে খেলছেন, মাঠে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন। কখনো দুই ভাই–ই এগিয়েছেন সমান তালে। আবার এক ভাই যতটা এগিয়েছেন, আরেকজন হয়তো ততটা পারেননি। ক্রিকেটের মাঠে দুই ভাইয়ের গল্প কম নেই। এই সময়ের ক্রিকেটে বিখ্যাত কয়েকজন ভাইয়ের কথা থাকছে এখানে

নাফিস ইকবাল-তামিম ইকবাল
অমিত সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ দলে এসেছিলেন নাফিস ইকবাল। সেই সম্ভাবনা পাখা মেলার আগে থেমে গেছেন এই ওপেনার। কিন্তু চট্টগ্রামের খান পরিবার থেকে আরেকজন পূর্ণ করেছেন তাঁর শূন্যতা। একটা সময় ক্রিকেট অঙ্গনে তামিম ইকবাল পরিচিত হতেন নাফিসের ছোট ভাই হিসেবে। সময়ের স্রোতে নাফিস পরিচিত ‘তামিমের বড় ভাই’ হিসেবে। এতে আক্ষেপ নয়, বরং গৌরব অনুভব করেন নাফিস। কিন্তু দুই ভাইয়ের একটাই আফসোস—ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও এখনো একসঙ্গে খেলা হয়নি জাতীয় দলের হয়ে।
উমর আকমল-কামরান আকমল
আকমলরা তিন ভাই সুযোগ পেয়েছেন পাকিস্তান দলে। আশ্চর্য মিল, তিনজনই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। আকমল পরিবার থেকে সবার আগে পাকিস্তান দলে সুযোগ পেয়েছেন কামরান। তাঁর পরে এসেছেন আদনান আকমল। ২১ টেস্ট ও ৫ ওয়ানডে খেলা এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ। তাঁদের ছোট ভাই উমর অবশ্য পাকিস্তান দলে মোটামুটি নিয়মিত মুখ। কিন্তু ২৭ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের গায়ে সেঁটে গেছে ‘ব্যাড বয়’ তকমা! নানা বিতর্কিত কাণ্ডে কদিন পর পর সংবাদ শিরোনাম হন তিনি। আকমলদের ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ২০১৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান দলে অভিষিক্ত তাঁদের কাজিন বাবর আজম।
নাথান ম্যাককালাম-ব্রেন্ডন
বাবাকে দেখে ছেলে কিংবা ভাইকে দেখে ভাই অথবা চাচাকে দেখে ভাতিজার ক্রিকেটে হাতেখড়ি—নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে এমন পারিবারিক গল্পের ছড়াছড়ি। পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ নিউজিল্যান্ডের এমন ক্রিকেটারদের তালিকা করতে বসলে হ্যাডলি-ক্রোর পরই আসবে ম্যাককালাম পরিবারের নাম। ৭৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা স্টুয়ার্ট ম্যাককালামের দুই ছেলে ব্রেন্ডন ও নাথান কিউইদের এনে দিয়েছেন বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে শুধু পরিবারে নয়, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটেই ব্রেন্ডন অনেক বড় নাম। ১০১ টেস্ট, ২৬০ ওয়ানডে ও ৭১ টি-টোয়েন্টি খেলা এই কিউই ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নিয়েছেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ৮৪ ওয়ানডে ও ৬৩ টি-টোয়েন্টি খেলা নাথানের কাছেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন অতীত।
ইউসুফ পাঠান-ইরফান পাঠান
অনেক দিন হলো ভারতীয় দলে নেই এ দুই ভাই। তাঁদের ব্যস্ততা তাই ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েই। ইরফান একসময় দ্যুতি ছড়িয়েছেন বাঁহাতি পেস বোলিং আর ব্যাটিংয়ে। ইরফানের মতো অতটা না হলেও ইউসুফও একটা সময় নিয়মিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। যদিও দুই ভাই ভারতের হয়ে একসঙ্গে খেলেছেন মাত্র ৮ ওয়ানডে ও ৮ টি-টোয়েন্টি।
শন মার্শ-মিচেল মার্শ
শন-মিচেলের অবশ্য তামিম-নাফিসের মতো আফসোস নেই। দুই ভাই এখন একসঙ্গে খেলছেন অস্ট্রেলিয়া দলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় শনের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০০৮ সালের জুনে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। আট বছরের ছোট মিচেলের আন্তর্জাতিক অভিষেকও টি-টোয়েন্টি দিয়ে। তবে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দলে দুজনের ভূমিকাও দুই রকম—শন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আর মিচেল পেস বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের রক্তে যে মিশে আছে ক্রিকেট, ‘মার্শ’ পদবি দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন—সাবেক অস্ট্রেলীয় ওপেনার, কোচ, নির্বাচক জিওফ মার্শ তাঁদের বাবা।
গ্রন্থনা: রানা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত