
পড়াশোনা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে। পাশাপাশি অনেক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজও করছেন। ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানহা ইসলামের কথাই বলছি। ওয়েবসাইট দেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার ফায়ারফক্সের নির্মাতা অলাভজনক সংস্থ মজিলা ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ শাখার নয়জন প্রতিনিধির মধ্যে একমাত্র নারী তিনি। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সার্চ ইঞ্জিন গুগলের তৈরি বিশেষ ডুডলেও (লোগো) যুক্ত হয়েছেন তানহা। নারী দিবসের এ ডুডল তৈরি করা হয়েছে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাতিসত্তার নারীদের নিয়ে। ডুডলে থাকে ভিডিওতে নারীদের অনুভূতি, ভাষ্য, দৈনন্দিন কাজের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১০০ জন নারীকে দেখানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের তানহাও আছেন।
‘মজিলার পাশাপাশি গুগল ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের (জিডিজি) সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদেই এ ডুডলে যুক্ত হওয়া’—বললেন তানহা। জানালেন, ‘এ ডুডলটি তৈরি করতে সারা বিশ্বের জিডিজির সদস্যরা সাহায্য করেছেন। প্রতিটি জিডিজি থেকে নারীদের ছবি কিংবা কথা নিয়ে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে নির্বাচিত নারীদের ডুডলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
প্রথমবারের মতো গুগলের ডুডলে, তাও আবার বাংলাদেশ থেকে, কেমন লাগছে? তানহার উত্তর, ‘ভালো লাগছে এ ডুডলে যুক্ত হতে পেরে। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের কাজ করে যাচ্ছি, এটাও বেশ আনন্দের।’
মজিলায় কী কী করেন? জানতে চাইলে তানহা জানান, মজিলা ফাউন্ডেশনের জনপ্রিয় পণ্য ফায়ারফক্স ওয়েব ব্রাউজার, ফায়ারফক্স অপারেটিং সিস্টেমসহ আরও অনেক কিছু সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কাজ করি। আমরা বাংলাদেশে মজিলা এবং মুক্ত সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা দিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করি।ওয়েবের কাজ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে থাকি। তানহা কাজ করছেন মজিলার আঞ্চলিক বিপণনদূত হিসেবেও। যুক্ত আছেন ওমেন অ্যান্ড মজিলা (ডব্লিউওএমওজেড) কার্যক্রমেও। জানালেন, যেসব নারী মজিলার জন্য প্রদায়ক হিসেবে কাজ করছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে যাঁদের আগ্রহ আছে, তাঁরা ডব্লিউওএমওজেড কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন। এরই মধ্যে ভারতে অনুষ্ঠিত ওমেন মজিলার (ডব্লিউওএমও) নারীর ক্ষমতায়ন শীর্ষক আয়োজন ‘ওম্যানিয়া’য় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছেন তিনি। মজিলার বিষয়গুলোকে আরও ছড়িয়ে দিতে নিয়মিতভাবেই নিজের ক্যাম্পাসের পাশাপাশি নানা আয়োজন করে যাচ্ছেন তানহা। ইচ্ছেটা বড় আর নিজের ইচ্ছেটাকেই সামনে রেখে এগিয়ে চলছেন তিনি।