
মাশরুম অতি সুস্বাদু একটি খাবার। চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি বহুকাল ধরেই জনপ্রিয়। পরিবার পরিজন নিয়ে খাবারের জন্য মাশরুম সংগ্রহ করা সেখানকার রেওয়াজ। আমাদের দেশেও ইদানীং জনপ্রিয় হচ্ছে এই সবজি। তিন থেকে চার ধরনের মাশরুম চাষও হচ্ছে। এসবের মধ্যে ওয়েস্টার ও মিল্কি হোয়াট বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।
মাশরুমে প্রচুর খনিজ উপাদান ও অাঁশ থাকে এবং এটিতে শর্করা ও চর্বির পরিমাণও খুব কম। তাই মাশরুম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী। তা ছাড়া এই খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে মজবুত করে।
মাশরুম অনেকভাবে খাওয়া যায়। মাছ-মাংস, সবজি, স্যুপ, ওমলেটের পাশাপাশি পিৎজা, নুডলস, চপ, সমুচা ও বার্গারের সঙ্গেও মাশরুম খাওয়া যায়। ওয়েস্টার মাশরুম হালকা ভাপে সেদ্ধ করে টেম্পুরা বা বেসনে ডুবিয়ে তেলে ভেজে দিলে শিশুরা বেশ পছন্দ করবে।
মাশরুমে শর্করা, আমিষ, ভিটামিন ও মিনারেলের এমন সমন্বয় আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে মজবুত করে। এতে আছে শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভস্টনিন এবং এনটাডেনিন। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। মাশরুমে আছে বিটা-ডি, গ্লুকেন ল্যাম্পাট্রোল যা ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধ করে। আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও লৌহ যা গর্ভবতী নারী ও শিশুর জন্য আদর্শ খাদ্য। মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে সালফার সরবরাহকারী অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকায় এটি নিয়মিত খেলে চুল পাকা ও পড়া রোধ করে। এতে নিউক্লিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টি অ্যালার্জেন থাকায় কিডনি রোগ ও অ্যালার্জি রোগের প্রতিরোধ করে। মাশরুমে আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম যা হজমে সহায়ক। এতে প্রচুর গ্লাইকোজেন থাকাতে শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। পাশাপাশি নিয়াসিন এবং প্যান্টোথ্যানিক অ্যাসিড থাকায় এটি হাত পায়ের জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।
সবচেয়ে বড় কথা ডায়াবেটিক রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এটি। পাশাপাশি রক্তের চর্বি কমায় বলে মাশরুম হতে পারে একটি আদর্শ পথ্য।
লেখক: প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল