বিজ্ঞাপন বার্তা: কাজেই উজ্জ্বল

দেলোয়ারার নকশিকাঁথা এখন যুক্তরাষ্ট্রে, যুক্তরাজ্যে

প্রথম আলো অনলাইনে ৭ অক্টোবর প্রচারিত গ্লো অ্যান্ড লাভলী নিবেদিত ‘কাজেই উজ্জ্বল’ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি অতিথি হিসেবে এসেছিলেন উদ্যোক্তা দেলোয়ারা বেগম। যিনি পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি আর পুরোনো একটি সেলাই মেশিন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন সেলাই-ফোঁড়াইয়ের। তাঁর প্রতিষ্ঠান দীপ্ত কুটির এখন দীপ্তি ছড়াচ্ছে দেশ ও দেশের বাইরে। জীবনের লক্ষ্য ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন দাঁড় করিয়েছেন কোটি টাকার ব্যবসা। একই সঙ্গে বহু নারীকে সেলাই, পোশাক তৈরি, নকশা, রং করা, বাটিকসহ নানা কাজ শিখিয়ে পারদর্শী ও স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। দেলোয়ারার সঙ্গে অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন পার্থ শঙ্কর সাহা।

সফল নারী উদ্যোক্তা দেলোয়ারা
ছবি: ইউটিউব থেকে নেওয়া

দেলোয়ারা বেগম একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। নকশিকাঁথা নিয়ে তিনি ১৮ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। ১৮ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল দেলোয়ারার। বিয়ের পর সংসারে অভাব–অনটন হানা দেয়। এর মধ্যেই দুই সন্তানের মা হয়ে যান তিনি। নিজে একটা কিছু করবেন, এই ভেবে জামালপুরের একটা ভাড়া বাসায় থেকে ২০০৫ সালে শুরু করেন নকশিকাঁথা বিক্রির কাজ। ধীরে ধীরে জামালপুরের বাইরে থেকে তাঁর কাঁথার অর্ডার আসতে শুরু করে। এরপর তিনি দেশের বাইরের বিভিন্ন উদ্যোক্তা–মেলাগুলোতে অংশ নেওয়া শুরু করেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাধ্যমে তিনি নেপাল, চীন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর কাঁথা নিয়ে বিক্রি করেন। সেসব জায়গা থেকে দারুণ সাড়া পান।

দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এত চাহিদা বাড়তে লাগল যে সেগুলো সরবরাহ করার মতো পুঁজি ছিল না দেলোয়ারার। তাই তিনি প্রথমবার জামালপুরের ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলেন। এরপর ব্যবসা আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ, ৩৫ লাখ, ৫০ লাখ, এমনকি কোটি টাকা পর্যন্ত লোন নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এখন দেলোয়ারার প্রতিষ্ঠানে ৪২ জন কর্মী, তাঁদের বেশির ভাগই নারী।

কেন নকশিকাঁথা? উত্তরে দেলোয়ারা বলেন, ‘জামালপুর নকশিকাঁথার জন্য বিখ্যাত। এ জন্য শুরু করলাম। পরে দেখলাম এটা করেই আমি ভালোভাবে চলতে পারছি।’ ২০১২ সালে দেলোয়ারা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কৃত হন। এই পুরস্কার তাঁকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। এখন দেলোয়ারা তাঁর ব্যবসার আয় থেকেই জামালপুর শহরে ৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করছেন ছয়তলা ভবন। সেখানে ইতিমধ্যে দীপ্ত কুটিরের একটি শোরুম হয়েছে। শিগগিরই নতুন ভবনে শুরু হবে দেলোয়ারার বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই ভবনে থাকবে নিজেদের থাকার ফ্ল্যাট, প্রশিক্ষণকেন্দ্র আর বিশাল শোরুম। দেলোয়ারার প্রতিষ্ঠানে এখন চাকরি করছেন ৪২ জন কর্মী। তাঁদের বেশির ভাগই নারী।

অনুষ্ঠানে অনলাইন আড্ডায় কথা বলছেন দেলোয়ারা

বিভিন্ন দেশে নিজের কাঁথা বিক্রির ব্যাপারে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘আবুল গ্রুপের মাধ্যমে আমি যুক্তরাষ্ট্রে কাঁথা বিক্রি করি। সিলেটের এক ভদ্রলোকের মাধ্যমে আমি লন্ডনে কাঁথা, পোশাক বিক্রি করি। লন্ডনে বিক্রির মাধ্যমে আমার ব্যবসার বেশ উপকার হয়। আমি ওদের সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি করেছি। এর মাধ্যমে আমি অসংখ্য পোশাক, কাঁথা বিক্রি করেছি, করছি।’

দেলোয়ারা জানান, তাঁর সঙ্গে যে নারীরা কাজ করছেন, তাঁরা সবাই তাঁর সঙ্গেই থাকে। দেলোয়ারা কেবল নিজে নন, তাঁর এ উদ্যোগের ফলে উপকৃত হয়েছে আরও প্রায় অর্ধশতাধিত নারী। চ্যালেঞ্জ কী ছিল, জানতে চাইলে এই সফল নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। স্বামী মাঝেমধ্যে বকাবকি করত। তা ছাড়া আর তেমন অসুবিধা হয়নি। যখন টাকার সমস্যা হয়েছে, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছি।’ করোনাকালে কুটিরশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহামারিকালের চ্যালেঞ্জ নিয়ে জানতে চাইলে এই নারী বলেন, ‘করোনাকালে আমি আমার মতো করে ব্যবসা এগিয়ে নিয়েছি। তখন আগের মতো পারিনি, তবে অনলাইনে ভালো সেল হয়েছে। আমি কোনো কর্মী ছাঁটাই করিনি।’

আগামী দিনের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে আনোয়ারা বলেন, ‘পরিশ্রম করতেই হবে। পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। ছেলে হোক, মেয়ে হোক, যে–ই হোক না কোনো, পরিশ্রম করলে এর ফল আসবেই। সে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সসতা, নীতি, মানের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আর নিজের কাজটাকে দ্বিতীয়তে নেওয়া যাবে না। স্বামী, সংসার, সন্তান সব নিয়েই নিজের কাজটাকে প্রাধান্য দিয়ে করে যেতে হবে।’