জেনে নিন

নানা রকম ওয়ালেট

.

হাল ফ্যাশনের পোশাক পরেছেন আর পকেট থেকে বের করলেন একটা ছাল-চামড়া ওঠা মানিব্যাগ। মাঝেমধ্যে ব্যাপারটা নিশ্চয়ই বিব্রতকর! আবার উল্টোটাও আছে। মানিব্যাগ সংগ্রহ করাই অনেকের শখ। তবে শখ হোক আর প্রয়োজন—মানিব্যাগটা এখন স্টাইলের একটা অংশ হয়ে গেছে ছেলেদের কাছে। চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কারিগরের ব্যবস্থাপনা অংশীদার তানিয়া ওয়াহাব বলেন, ছেলেরা এখন নানা ধরনের ওয়ালেট ব্যবহার করে। অনেকে শুধু টাকা রাখার জন্য মানিব্যাগ বেছে নেন। কেউ আবার কার্ড ও টাকা—দুটোই রাখতে চান। আবার শুধু ভিজিটিং কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড রাখার জন্য আলাদা ওয়ালেট আছে বাজারে। রঙের ক্ষেত্রে কালো মানিব্যাগের বাইরে এখন চকলেট, বাদামি, ছাই, নীল ইত্যাদি চলছে ভালো। তবে বয়স ও পেশার ওপর ভিত্তি করে ছেলেদের মানিব্যাগ বেছে নেওয়া উচিত।
অনেকেই প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বেছে নেন মানিব্যাগ। যাঁরা চাকরি করেন, তাঁদের জন্য বেশি কার্ড রাখার জন্য পকেট আছে এমন মানিব্যাগ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন তানিয়া৷ তবে যাঁরা শিক্ষার্থী তাঁরা অনেকটা হালকা-পাতলা গোছের মানিব্যাগ কিনতে পারেন। বাটা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিজ্ঞাপন ও প্রমোশন) রাজিব জাহান ফেরদৌস জানালেন, খুব বেশি মোটা বা ভারী মানিব্যাগের চল কিছুটা কমে গেছে। তার বদলে হালকা ধরনের চামড়ার তৈরি মানিব্যাগ পছন্দ করছেন তরুণেরা। মানিব্যাগের কাটে কিছুটা ভিন্ন ধরন খোঁজেন অনেকে। তাই সেসব দিক বিবেচনায় নিয়ে নানা ধরনের মানিব্যাগ রাখা হচ্ছে শোরুমগুলোতে৷

ধরন–ধারণ
বাজার ঘুরে দেখা গেল, শিক্ষার্থীদের উপযোগী আইডি কার্ড বা ছবি রাখার সুবিধাসহ এক ভাঁজের মানিব্যাগে আছে নানা রং। এ ছাড়া পাঁচ থেকে আটটি পকেটসহ আছে মানিব্যাগ। মোবাইল ফোনের সিম কার্ড বা মেমোরি কার্ড রাখার জন্য আলাদা পকেটও আছে কোনো কোনো মানিব্যাগে। অনেকেই একাধিক ক্রেডিট কার্ড নিয়ে ঝামেলায় পড়েন। শুধু ক্রেডিট কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড রাখার জন্য আলাদা ওয়ালেট পাওয়া যায়। যাঁরা মানিব্যাগে টাকাপয়সা রেখে ভয়ে থাকেন, তাঁরা চেইনযুক্ত মানিব্যাগ বেছে নিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ভালো মানের চেইন দেওয়া মানিব্যাগ বেছে নিন। লম্বা পার্সের মতো চিকন মানিব্যাগ এই সময়ে চলছে বেশি। ফ্যাশন সচেতন ব্যক্তিরা এ ধরনের মানিব্যাগ বেশি ব্যবহার করছেন।
মানিব্যাগে নানা ধরনের প্রিন্টের চল এসেছে। বাংলাদেশের মানচিত্র, বর্ণমালা, বাঘের মুখ ইত্যাদি প্রিন্ট দেখা যাচ্ছে সেখানে। শুধু বাইরের দিকে না, ভেতরের দিকে থাকা পকেটের কাপড়ের ওপরেও বর্ণমালার প্রিন্ট আছে কোনো কোনো ব্যাগে। এ ছাড়া কার্ড হোল্ডার, চাবি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ওয়ালেট আছে মুঠোফোন বা ট্যাবের কভারের সঙ্গে কার্ড রাখার সুবিধা আছে অনেক ওয়ালেটে৷ গাঢ় কালো, হালকা কালো, ছাই, বাদামি, চকলেট, মেরুন, নীল, লালচে ইত্যাদি নানা ধরনের রং বেশি চলছে মানিব্যাগে। এ ছাড়া পাটের ও কাপড়ের তৈরি মানিব্যাগ মিলবে অনেক দোকানে চামড়ার তৈরি মানিব্যাগ ছাড়াও রেক্সিন, সিনথেটিক, কাপড়, পাট, বোতামের মানিব্যাগ পাবেন দোকানে।

দরদাম
সিনথেটিক চামড়া বা রেক্সিনের হলে দাম পড়বে ১০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে, চামড়ার হলে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা, পাট বা কাপড়ের মানিব্যাগ পাবেন ১০০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া কার্ড হোল্ডার পাবেন ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।

যেখানে পাবেন
বাটা, অ্যাপেক্স, আড়ং, যাত্রা, কারিগর, ওটু, ইনফিনিটি, জেনিস, লেদারেক্সসহ বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্যের দোকানে। এ ছাড়া এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডির বিভিন্ন মার্কেট, গুলিস্তান, পল্টন, মালিবাগ, গুলশানের বিভিন্ন মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক ও পলওয়েল মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানে।