পরিযায়ী পাখি

পাখির নাম চা

উড়ে চলেছে একজোড়া চা পাখি l ছবি: মো. মারুফ রানা
উড়ে চলেছে একজোড়া চা পাখি l ছবি: মো. মারুফ রানা

জলাশয়টির মাঝখানে এক জায়গায় পাশাপাশি দাঁড়ানো তিনটি হিজলগাছ। চারপাশে শাপলা-কলমি ও পানিফলের গাছ। একটা ফাঁকে টলটল জল। সকালের হিম-মিষ্টি রোদে জল যেন ঝলকাচ্ছে। ওই জলের ওপরেই দৌড়াদৌড়ি করছে শ খানেক জলমাকড়সা। এক জোড়া চা পাখি শাপলা-কলমি ও পানিফলের গাছ ছুঁই ছুঁই করে উড়ে এল ঝলক জলের ওপরে। দুটিতেই মাছরাঙার মতো ডাইভ মেরে ধরতে চাইল জলমাকড়সা। বেশ কটি জলমাকড়সা পেটে চালান করে উড়াল দিল আবার।
ডুবসাঁতারে পটু এই পাখির নাম টেনি চ্যাগা। চা পাখি নামেই ব্যাপক পরিচিত। পরিযায়ী এই পাখিদের শীতকালে আমাদের দেশের হাওর-বাঁওড়-মোহনা-দ্বীপ-চর-জলাশয়সহ খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের লেক-জলাশয়েও দেখা যায়। একাকী চরে, ছোট ছোট ঝাঁকেও চরে। বুকসমান জল ঠেলেও সামনে এগোতে পারে অনায়াসে। এরা পরিকল্পিত শিকার কৌশল জানে। মূল খাদ্য এদের জলজ ও অন্যান্য পোকামাকড়। জলকাদার তলার কেঁচো ও সুতোপোকা পেলে এরা নুডলসের মতো খায়।
এরা যখন বাংলাদেশে আসে, তখন শরীর থেকে ঝরে গেছে যৌবনের সব রং। রংঝরা পাখিটিও কিন্তু খুব সুন্দর। জলপাই-বাদামি চকচকে পিঠ ও মাথার তালু, চিবুক-গলা ও চোখের বৃত্ত সাদা, বুক-পেটও সাদা, বাদামি ঠোঁট, সবুজাভ পা। পা দুটি অপেক্ষাকৃত খাটো। আর বাসা বাঁধার সময় পিঠ লালচে-বাদামি, চিবুক ও বুকে সরু সরু রেখা ফুটে ওঠে। চোখের সাদা ভ্রুটা বেশি সাদা হয়। চোখ হয় বেশি উজ্জ্বল। উড়লে এদের ডানার প্রান্তজোড়া সাদা-চওড়া রেখাটা মুগ্ধ করে। যেন-বা সাদা ক্যানভাসে চিত্রশিল্পীর নিপুণ কারুকাজ। হাঁটার সময় এরা নাচতে নাচতে সামনে এগোয়।
দেশের সব অঞ্চলে যেমন প্রচুর সংখ্যায় দেখা যায় এদের, তেমনি হাওর-বাঁওড়-বিল-জলাশয়ে পেশাদার পাখি শিকারিদের জাল-ফাঁদে ধরাও পড়ে প্রচুর সংখ্যায়। দু-তিন হাত ঘুরে চলে যায় মানুষের রান্নাঘরের হাঁড়িতে। শীত মৌসুমে বাগেরহাটের ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী এলাকায় গেলেই এদের হালি-ডজন বা ঝুড়ি হিসেবে বিক্রি করতে দেখা যাবে। তবে বিক্রি হয় অতি গোপনে।
মিষ্টি কণ্ঠের সুরেলা এই পাখির ইংরেজি নাম Common Sand Piper. বৈজ্ঞানিক নাম acttitis hypoleucos. দৈর্ঘ্য ১৯-২১ সেন্টিমিটার, ওজন ৪০-৭০ গ্রাম।