তারকা

প্রাণের বন্ধু

জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে যে যেখানেই থাক না কেন, চলার পথে ‘বন্ধুত্ব’—এই সম্পর্কের তুলনা বোধ হয় আর কিছুর সঙ্গেই চলে না। এ এমনই এক বিষয় যেন কিছু না থাকলেও বন্ধুত্ব থাকলে চলে। আবার সব থাকলেও বন্ধুত্ব ছাড়া চলে না! শুধু কি আমি, আপনি? কাজের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন তারকাদেরও রয়েছে আপনার মতো কোনো বন্ধু। নানা জগতের বিশ্ববিখ্যাত কয়েকজন তারকার বন্ধুত্ব সম্পর্কে থাকছে এই প্রতিবেদনে

বিনোদ কাম্বলি ও শচীন টেন্ডুলকার

বিনোদ কাম্বলি ও শচীন টেন্ডুলকার
বিনোদ কাম্বলি ও শচীন টেন্ডুলকার

২৮ বছর আগে সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের হয়ে ৬৬৪ রানের জুটি গড়ার পরই দুই কিশোর প্রতিভা শচীন টেন্ডুলকার ও বিনোদ কাম্বলিকে চিনেছিল ভারত। স্কুল থেকেই দুজনের বন্ধুত্বের শুরু। কাম্বলির মতে, সেই জুটিটা যদি না হতো মানুষ এই বিনোদ কাম্বলি বা এই শচীন টেন্ডুলকারকে চিনত না। তাঁদের সেভাবেই খেলে যেতে হতো। কারণ হিসেবে বলেন, মুম্বাইয়ে এ দুজনের চেয়ে আরও ভালো ক্রিকেটার ছিল।
একই সময়ে দুজনেরই অভিষেক হয় জাতীয় দলে। স্কুলজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় দল—শচীনের সবচেয়ে পুরোনো বন্ধুটির নাম হচ্ছে বিনোদ কাম্বলি। তবে তাতে ফাটল ধরেছে কয়েক বছর আগে। ধারণা করা হয়, ‘সাচ কা সামনা’ নামের টিভি শোতে কাম্বলির বলা কিছু কথাই দুজনের মধ্যে সৃষ্টি করে এই দূরত্ব। তবু দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব কি ভোলা যায়? তাই তো কদিন আগেও কাম্বলি টুইট করে জানিয়েছিলেন, বন্ধু শচীনকেই ভারতের কোচ হিসেবে দেখতে চান।

অপরাহ উইনফ্রে ও বারাক ওবামা

অপরাহ উইনফ্রে ও বারাক ওবামা

কমিউনিটিকে সংগঠিত করতে গিয়েই ২০০৬ সালে শিকাগোতে পরিচয় হয় দুজনের। ওবামা তখনো ততটা বিখ্যাত হননি উইনফ্রের মতো। তারপর ওবামা যখন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেন তখন উইনফ্রে প্রকাশ্যে কী বলেছিল, জানেন? ‘আমি চাই সে (ওবামা) তার দৌড় অব্যাহত রাখুক।’ শুধু তা-ই নয়, ওবামার অর্থ সংগ্রহের কাজেও সহায়তা করেছিলেন অপরাহ উইনফ্রে। তারপর উইনফ্রের বন্ধু হয়ে উঠলেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে মার্কিন রাষ্ট্রপতির যে কয়জন বন্ধু আছেন তার মধ্যে অপরাহ উইনফ্রের নাম একেবারে ওপরের দিকে রয়েছে।

মেসি ও নেইমার

মেসি ও নেইমার

২০১৩ সালে নেইমার যখন বার্সেলোনাতে যোগ দেন, তখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিল ব্রাজিল ফুটবলের ভক্তরা। কারণ শুধু একটাই, আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলতে হবে বলে। তখন তাঁদের কাছে আশা বলতে ছিলই একটা, মেসিকে ছাপিয়ে যাক নেইমার। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে তাঁদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আর এ বন্ধুত্বের কারণেই নাকি দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালো হওয়ায় ক্লাবের হয়ে সাফল্য পাচ্ছেন তাঁরা, এমনটাই ইতিমধ্যে দাবি করেছেন এমএলটেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সুয়ারেজের সঙ্গেও রয়েছে ভালো বন্ধুত্ব। এ তো গেল মেসির বয়ান। নেইমারও কম যান না। গত বছর গোল ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছিলেন, মেসি তাঁর প্রিয় বন্ধু।

ফারাহ খান ও সানিয়া মির্জা

ফারাহ খান ও সানিয়া মির্জা

‘কী এক রাত! অবশ্য বলতে হয়, আমি রাত চারটা পর্যন্ত জেগে ছিলাম। পুনরায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ গত বছরের ১৫ নভেম্বর এই লেখা টুইট করেছিলেন ফারাহ খান। উদ্দেশ্য, সানিয়া মির্জার ২৯তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানানো। সে রাতেই এই টেনিস তারকার জন্মদিন ঘটা করে আয়োজন করেছিলেন ফারাহ খান। অবশ্য প্রিয় বান্ধবী বলে কথা। সানিয়া মির্জা টুইটের জবাবে লিখেছিলেন, সেরা বন্ধু হিসেবে তোমাকে ধন্যবাদ এবং ভালো আয়োজনের জন্য। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
এখন নিশ্চয় পরিষ্কার হলেন এ দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতখানি।
গ্রন্থনা: এস এম নজিবুল্লাহ চৌধুরী
সূত্র: গোল ডটকম, মিড ডে, র্যাং কার