
সাম্যের কবি চিরতারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বাড়ি আমরা দেখে আসতে পারি খুব সহজেই। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে ছিল কবির পৈতৃক নিবাস। এই সময়ে ছায়াঢাকা নিভৃত গ্রাম কোটালীপাড়ার উনশিয়া যেন সাজে নতুন সবুজ সাজে। ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর, ঝোপ, বাঁশের ঝাড় এই পল্লিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। বড়সড় পুকুরগুলোতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ছিটকে যাওয়ার দৃশ্য আমাদের মনে নতুন কাব্য রচনার রসদ জোগাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক রকমের পাখিরও দেখা পাবেন এখানে।
কবির বাড়িতে রয়েছে একটি মিলনায়তন, একটি পাঠাগার। কবির লেখা বিভিন্ন বই এখানে পাবেন। দল বেঁধে এখানে এলে ছোটখাটো সমাবেশ করতে পারেন। কবির বাড়ির আঙিনায় এখন জবা, স্থলপদ্মসহ নানা রকমের বাহারি ফুল ফুটেছে। এসব আপনার মন ভালো করার বাড়তি অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। সামনে বাঁধানো একটি ছোট্ট পুকুর রয়েছে। সেখানে বসতে পারেন। এই উনশিয়া ছিল মূলত একসময় এই অঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতির সূতিকাগার।
আমরা এখানে দেখতে পারি কবির বাড়ির পাশে ভট্টের বাগান। কথিত আছে, এখানে একসময় কপালিকেরা সাধন ভজন করতেন। বাড়ির পাশে গ্রাম্য কামারের দেখা মিলবে। দেখে নিতে পারবেন কী করে শক্ত লোহা আগুনে নরম করে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন জিনিস। উনশিয়া প্রবেশের আগেই আপনাকে ঘাঘর ব্রিজ অতিক্রম করতে হবে।
আমরা ঢাকার গাবতলী বাসটার্মিনাল বা গুলিস্তান বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে কোটালীপাড়াগামী দিগন্ত, টুঙ্গিপাড়া, ইমাদ, মধুমতি পরিবহনের যেকোনো একটি গাড়িতে কোটালীপাড়ার টিকিট কেটে উঠে পড়তে পারি। ভাড়া কমবেশি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সময় লাগবে কম করে পাঁচ ঘণ্টা। পথে আপনাকে পদ্মা নদী অতিক্রম করতে হবে। দেখতে পাবেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্মাণকাজ পদ্মা সেতু। যে কথা বলছিলাম, বাস থেকে নামবেন আপনি কোটালীপাড়ার পশ্চিমপাড়ে। এখান থেকে ভ্যানে আপনি উনশিয়ায় কবির বাড়ি যেতে পারবেন। যে কথা মাথায় রাখবেন, তা হলো আপনাকে সকাল সকাল বের হয়ে পড়তে হবে। সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে যে গাড়িগুলো ছেড়ে যায়, তার একটিতে চেপে বসবেন। পশ্চিম পাড়ে বাস থেকে নেমে বেশ কিছু ভালো মানের খাবারের হোটেল আছে, সেগুলোর একটিতে খেয়ে নিতে পারবেন।