‘বার্জার-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন শো’তে তুলে ধরা হয়েছে এবারের ঈদের পোশাক
কোনোটি হালকা সাদা। কোনোটি আবার গাঢ় কালো। উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মসলিন কিংবা নেট। সব মিলিয়ে শাড়িগুলোকে বলা যায় ‘জমকালো’। ১ এপ্রিল চট্টগ্রামে ‘বার্জার-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন শো’তে নতুন নকশার এই শাড়িগুলো দেখা গেল। শোটির ২১তম আসরে শাড়ি ছাড়াও সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানিসহ নানা পোশাকে মঞ্চে ওঠেন মডেলরা। পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসনে নিজেদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে হাজির হন বন্দরনগরীর শীর্ষ ১০ ডিজাইনার। অনুষ্ঠানের সহযোগী পৃষ্ঠপোষক ছিল জিপিএইচ ইস্পাত।
প্রথম কিউতে ডিজাইনার আইভি হাসানের পোশাক পরে মঞ্চে হাজির হন আট মডেল। নানা রঙের নকশার শাড়ি মুহূর্তেই কেড়ে নেয় দৃষ্টি। দেখা গেছে উজ্জ্বল রং, বাদামি, সাদা, হালকা সাদা, গোলাপি, ঘিয়ে প্রভৃতি রং। কাপড়ে প্রাধান্য পেয়েছে মসলিন, সিল্ক, ব্লক আর নেট। আইভি হাসান বললেন, শাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ব্লাউজের ডিজাইন করা হয়েছে।
এরপর আসে ছেলেদের উৎসবের পোশাক শেরওয়ানি। ঈদের কথা চিন্তা করেই আরামদায়ক কাপড়ের দিকে নজর ছিল ডিজাইনারের। জ্যাকার্ড প্রিন্ট ও ভেলভেট কাপড়ের ওপর হালকা কাজ। রং ছিল মেরুন, গোলাপি, সাদা, কালো। শৈল্পিকের এইচ এম ইলিয়াস বলেন, গরমের কারণে অনেকেই শেরওয়ানি পরতে চান না। কিন্তু তাঁরা হালকা রং আর জুতসই কাপড়ের ওপর নকশা করেছেন। যেকোনো উৎসবেই পরা যাবে পোশাকগুলো।
শেরওয়ানির পর ছিল আরও চমক। পোশাকে দেখা গেল ষাট-সত্তরের দশকের ঐতিহ্য। শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে মঞ্চে ওঠেন যুগল মডেলরা। তখন বাজছিল মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘ময়ূরকণ্ঠী রাতেরও নীলে’। গানের সুরে-তালে শাড়ি-পাঞ্জাবিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন মডেলরা। পরনে ছিল সপুরা সিল্কের অ্যান্ডি কটনের পোশাক। রং ছিল হালকা। ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরী বলেন, সাজ-পোশাকের দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। নকশায় ছিল কাঁথা ফোঁড়, লম্বা গিঁট, ভরাট স্টিচসহ বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ।
চরকায় বোনা খাদি কাপড় এই অঞ্চলের ঐতিহ্য। বর্তমান যুগের সঙ্গে এই ঐতিহ্যকে মিশিয়ে দারুণ এক ফিউশন দেখান ডিজাইনার ফারজানা মালিক। তিনি জানালেন, প্রতিটি পোশাক দেশীয় সুতি বা খাদি কাপড়ে রাজকীয় নকশায় বোনা। অনুষ্ঠানে আশির দশকের ট্রেন্ড নিয়ে হাজির হন ডিজাইনার আমিনা রহমান। তিনি জানান, কাপড় হিসেবে বেছে নেওয়া হয় অ্যান্ডি সিল্ক, অ্যান্ডি কটন, মসলিন। রঙের ক্ষেত্রে রুবি, লাল, হলুদ, নীল, কমলা, কালো। নকশায় ছিল ফ্লোরাল কিছু মোটিফ ও জ্যামিতিক ফরম।
অন্যদিকে ‘মিথলজি’ নিয়ে কাজ করেছেন ডিজাইনার নাসরিন সরওয়ার। তাঁর নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে বিখ্যাত চিত্রকর্ম আর ভাস্কর্য। পুরো কাজটি হয়েছে মসলিন আর খাদি কাপড়ের ওপর। রং ছিল সাদা আর কালো। মসলিন হ্যান্ড পেইন্টের ওপর কারচুপি নকশার অপরূপ পরিবেশনা। শাড়ি-শেরওয়ানির যুগলবন্দী উপস্থাপন করেন সায়মা সুলতানা। সায়মা বলেন, ঈদ, বিয়ে ও অন্য কোনো পার্টিতে পরার উপযোগী করে কাপড় নির্বাচন করা হয়েছে। নকশাও করা হয়েছে উৎসবের কথা মাথায় রেখে।
ডিজাইনার নূজহাত নূয়েরির কিউটি ছিল হাতের কাজের নকশা নিয়ে। ঈদের জন্য জমকালো এই ডিজাইনগুলো করা হয় দেশীয় নানা উপকরণ দিয়ে। একেবারে ভিন্ন ঘরানার ফিউশন ছিল মনিদীপা দাশের কাজে। কাপড় ছিল সিল্ক আর খাদি। এর সঙ্গে সুতার ম্যাকরামের কাজ। মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ে আসেন মসলিন আর সপুরা সিল্কের কাপড়ে নানা নকশায় তৈরি শাড়ি আর সালোয়ার-কামিজ।