ভর্তি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিষয় নির্বাচনে যা মাথায় রাখা জরুরি

কদিন পরই শুরু হচ্ছে ‘ভর্তিযুদ্ধ’। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন লাখো শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কীভাবে বিষয় বাছাই করা উচিত, সেই বিষয়ে এখানে পরামর্শ দিয়েছেন একজন শিক্ষক ও একজন পেশাজীবী।

গবেষণার সুযোগকে গুরুত্ব দিতে হবে

রাগিব হাসান, সহযোগী অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম, যুক্তরাষ্ট্র

উচ্চশিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে গবেষণা ও জ্ঞান বিকাশ। একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়েই পড়ার সুযোগ পান না কেন, প্রথম থেকেই
গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে।

অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে সামনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয় পছন্দের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে কৌশলী হতে হবে। প্রযুক্তি, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং—এসব ক্ষেত্রে দেশের বাইরেও কাজের অনেক সুযোগ আসবে। সে জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে।

একদিকে যেমন নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে, তেমনি গবেষণার সুযোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সৃজনশীলতা বাড়ানো, মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ—এই দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগ্রহ ও পেশার সুযোগের সমন্বয় করতে হবে। পছন্দের বিষয় বা জনপ্রিয় বিষয়ে পড়ার সুযোগ না মিললেও হতাশ হওয়া যাবে না। ভবিষ্যতের দুনিয়া এখনকার চেয়েও দ্রুত পরিবর্তন হবে, সেই পরিবর্তনকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নানা কৌশল শিখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টা উপভোগ করতে হবে।

বই পড়তে হবে, বন্ধুত্ব করতে হবে, গান শুনতে হবে...

সুরাইয়া সিদ্দিকা

সুরাইয়া সিদ্দিকা, হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, গ্রামীণ ডানোন ফুডস

প্রথম কথা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা চলবে না। পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। এখন যে বিষয়েই ভর্তি হোন না কেন, ভবিষ্যতের পেশা ও কাজের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে প্রথম থেকেই। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা মানেই যেন ‘চান্স পাওয়া’। তার চেয়ে বরং আপনি যে বিষয়ে পড়ছেন, সেটিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সুযোগ তৈরি করুন। শুধু পড়াশোনার পেছনে সময় দিলে হবে না, সঙ্গে সৃজনশীলতা ও নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে। বই পড়তে হবে, বন্ধুত্ব করতে হবে। গান শুনতে হবে, সিনেমা দেখতে হবে, ভবিষ্যতের মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হবে।

অর্থনীতি, উন্নয়ন অধ্যয়ন বা চারুকলার মতো বিষয়গুলো নিয়ে পড়ালেখা করে পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কারও চাপে পড়ে, কিংবা কারও কথায় প্রভাবিত হয়ে বিষয় পছন্দ করা যাবে না। নিজের বুদ্ধি ও বিবেচনাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বুঝে বিষয় পছন্দ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ভবিষ্যতে উন্নয়ন সংস্থা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি চাকরিসহ নানা উদ্যোগের বিকাশ ঘটবে। এসব ক্ষেত্রে সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ইংরেজি ও বাংলা লেখা ও বলার দক্ষতা, সফট স্কিল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই।