ভৈরবে বন্ধুমেলা

২৭ মে ভৈরব বন্ধুমেলায় রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ বন্ধুসভার পরিবেশনা
২৭ মে ভৈরব বন্ধুমেলায় রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ বন্ধুসভার পরিবেশনা
কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার রিফাত ইসলাম ও তাইবার পরিবেশনা

চার জেলার নয়টি বন্ধুসভার ২৫০ জন বন্ধুর অংশগ্রহণে ভৈরবে হয়ে গেল বন্ধুমেলা। স্থানীয় জিল্লুর রহমান পৌর মিলনায়তনে ২৭ মে হয়ে যাওয়া দিনভর এই আয়োজনটি ছিল উচ্ছ্বাসে ভরপুর।
শুরুতে ভৈরবসভার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, কসবা, কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ, হাজী আসমত কলেজ বন্ধুসভার বন্ধুদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়।
সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র ফখরুল আলম। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি দন্ত্যস রওশন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আতাউর রহমান, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. রফিকুল ইসলাম, বন্ধুসভার সাবেক উপদেষ্টা ডা. আজিজুল হক, ডা. তাসলিমা হক, অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মনসুর।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো ভৈরব অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা।

উপজেলা পর্যায়ে বন্ধুমেলার মতো বড় এই আয়োজনটি করতে পারায় বন্ধুসভার সভাপতি ভৈরবসভার বন্ধুদের ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে এর আগে অন্য একটি উপজেলা শহরে বন্ধুমেলা হয়। এটি দ্বিতীয় আয়োজন। তারুণ্যের এই উচ্ছ্বাসকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর এই শক্তির ওপর ভর করে চারপাশ থেকে দূর করতে হবে যত অমঙ্গল ও অন্ধকার।

বন্ধুমেলা শেষে ভৈরবসভার বন্ধুরা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বেড়ে ওঠার আহ্বান ছিল তাঁর। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি গল্প শোনান তিনি। গল্পটি শোনার পর আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভেসে চলা মিলনায়তনে অন্য রকম এক আবহ তৈরি হয়। অনেক তরুণের চোখের কোণ ভিজে ওঠে।
তার আগে দন্ত্যস রওশনের রচনা ও কবির বকুলের সুর করা বন্ধুসভার থিম সংয়ের ওপর ভৈরবসভার একটি দলীয় নাচ প্রদর্শনের মাধ্যমে উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। নাচটি করে জুয়েনা, তানশী, রিদম, তমা, মোয়াজ্জেম, প্রীতি, দ্বীপ ও অর্পণ। পুরোনো ও নতুন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গানের দৃশ্যায়ন নিয়ে ‘রুপালি পর্দায় সোনালি সময়’ মঞ্চায়ন করে পল্লব, তানশী, মোয়াজ্জেম, আফসানা মিম, প্রীতি, রিদম। ফ্যাশন শোতে অংশ নেন, সুমি, দ্বীপ, মোয়াজ্জেম, জুয়েনা, তমা, রিদম, আনোয়ার, তানশী, রাজিবুল, প্রীতি, আফসানা মিম ও অর্পণ। গান করেন রনি বিশ্বাস। প্রথম আলোর নরসিংদী প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান ও ভৈরবসভার সাধারণ সম্পাদক জনি আলম দম্পতিকে নিয়ে করা হয় বধূবরণ পর্ব।
হবিগঞ্জ বন্ধুসভার পক্ষ থেকে পাপড়ি সরকার ও বাঁধন একক গান পরিবেশন করেন। নাচ করেন প্রবীর শীল ও সাদিয়া চৌধুরী।

কটিয়াদী বন্ধুসভার পলাশের জাদু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার পক্ষ থেকে রম্য বিতর্কে অংশ নেন রামিছা, উর্বি ও সেজুতি। পালকি নিয়ে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেন শাহাদাত, মেহেদী, জান্নাত, আবদুল্লাহ ও আবির। দ্বৈত নাচে অংশ নেন নাওমি ও টিপু। নিঝুম পরিবেশন করেন একক নাচ।
কিশোরগঞ্জ সভার রিফাত ইসলামের ছিল রোবটের জীবন নিয়ে একটি বিশেষ পরিবেশনা। রিফাতের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিলেন তাইবা। আবু জাভিদ সোহেল পরিবেশন করেন কৌতুক। নাজমুল রুয়েল ও ববি দ্বৈত নাচ পরিবেশন করেন।
কটিয়াদী বন্ধুসভার শাওন একক গান পরিবেশন করেন। পলাশ বিশ্বাস দেখান জাদু। নাঈম মাসুদ পরিবেশন করেন একক নাচ।
কসবা বন্ধুসভার রেজবিন কবিতা আবৃত্তি করেন। নাচ পরিবেশন করেন রবিন ও সুরাইয়া আক্তার।
রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ বন্ধুসভায় বৃষ্টি, শৈলী, শারমিন, নিলা নাচ করেন। কবিতার ছন্দে দাম্পত্য বিবাদে অংশ নেন বর্ষা, কনেক্সী, রত্না, সূচনা, রিমা ও শিখা। এ ছাড়া রম্য বিতর্ক পর্বে অংশ নেন প্রমা।

হাজী আসমত কলেজ সভায় তূর্য ও বাদশার পুতুল নাচ পরিবেশনাসহ সব পরিবেশনা ছিল উপভোগ্য।

মাদক, ইভ টিজিং, অ্যাসিড সন্ত্রাসকে ‘না’ উচ্চারণ করে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বন্ধুসভার সমাপ্তি টানা হয়।

বন্ধুসভার থিম সংয়ের ওপর ভৈরবসভার উদ্বোধনী নাচ
হবিগঞ্জ বন্ধুসভার পাপড়ি সরকার,আবৃত্তি করছেন কসবা বন্ধুসভার রেজবিন রুদাওয়ানা