দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মহামারিকালে বিধিনিষেধে অনেকেই অনেক কিছু করেছেন। যাঁরা ছবি তুলেছেন, তাঁদের একাংশের জন্য ছিল এ আয়োজন। এতে একের ভেতর দুটো কাজ হয়েছে। প্রথমত অনলাইনে বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস উদযাপিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের অপটু হাতে তোলা ছবিগুলো প্রদর্শনীর জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে। ভবিষ্যতে আলোকচিত্রী হিসেবে পেশাদার বা অপেশাদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এ উদ্যোগ হতে পারে অনুপ্রেরণার সিঁড়ি। জমা পড়া ছবিগুলো থেকে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও প্রথম আলোর সমন্বিত গ্রাফিক্স বিভাগের প্রধান সৈয়দ লতিফ হুসেনের সহায়তায় বাছাইকৃত ১৫টি ছবি এই লেখার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

চলছে ক্রেয়নম্যাগ আয়োজিত ‘নিউ নরমাল থ্রু মাই আইজ’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহব্যাপী অনলাইন আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘নিউ নরমাল থ্রু মাই আইজ’। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার ইএমকে সেন্টারে চলছে এ অনলাইন প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)।
এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ১৯ ও ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় অনলাইন মাস্টারক্লাস ও ওয়েবিনার। ১৯ আগস্ট মাস্টারক্লাসের প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আলোকচিত্রী সাইফুল হক। তিনি বাংলাদেশের আলোকচিত্রশিল্পের বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা ছবি কেন তুলি? এই প্রশ্নের উত্তরের মাঝেই লুকিয়ে আছে আপনার ছবি তোলার সার্থকতা।’
২০ আগস্ট মাস্টারক্লাসের প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের কনসালট্যান্ট ফটোগ্রাফার কে এম আসাদ। তিনি আলোচনা করেন দুর্যোগকালীন আলোকচিত্র ও এর নানান দিক নিয়ে। কে এম আসাদ বলেন, ‘দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ছবি তুলতে গেলে অবশ্যই মানুষের সঙ্গে, ঘটনার সঙ্গে একাত্ম হতে হবে। তাদের কষ্টে সমব্যথী হতে হবে। তবেই একটা ছবি প্রাণ পাবে।’ প্রাণবন্ত এই সেশন দুটিতে অংশগ্রহণকারীরা নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
মাস্টারক্লাসের শেষে ২০ আগস্ট বিকেল পাঁচটায় আয়োজিত হয় অনলাইন ওয়েবিনার। যেখানে মডারেটর হিসেবে ছিলেন আলোকচিত্রী জান্নাত জুঁই। অন্যান্য আলোচক আলোকচিত্রীদের মধ্যে ছিলেন হাবিবা নওরোজ, মিশুক আশরাফুল আওয়াল ও মাহমুদ হোসেন। এখানে বিশেষ পরিস্থিতিতে কীভাবে ছবি তুলতে হয়, সেফটি প্রিকরশন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাব অংশগ্রহণ করেছে এ আয়োজনে। ক্লাবগুলোতে ২০০–এর বেশি শিক্ষানবিশ আলোকচিত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। ১৮৩৯ সাল থেকে ১৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালন করা হচ্ছে আলোকচিত্র দিবস। ফটোগ্রাফির অগ্রযাত্রায় যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস উপলক্ষে আলোকচিত্র নিয়ে ক্রেয়নম্যাগের এটাই প্রথম উদ্যোগ।
ছবিগুলো পাঠিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিকুর রহমান, আহমাদ ফাহিমুল, সৌরভ চৌধুরী, সাবা রাইদাহ, রাদিয়া ইসলাম, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সুপর্ণা রহমান, শাহনেওয়াজ আরিফ, রাকিবুল হাসান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জিহাদ মেহেদী, আহমেদ জাহিন, সাদমান আলম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাদমান সাকিব, তানজিম রহমান, নূর মোহাম্মদ, মো. ইকরামুজ্জামান, ফারহানা হক, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাওনি রুদ্র, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের রিফাত ফাতিমা, রাতুল ইসলাম, কানিজা রহমান, দোলা কাজী, আশরাফুল আলম, আর্মি আইবিএর নাজমুস সাকিব, মোরশেদ আলিফ, ফেরদৌস ইসলাম, ফারহান অভি, এহসান আমিন। এ ছাড়া অংশ নিয়েছে নাফিস আবিদ ও সোহান খান।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জমাকৃত আলোকচিত্র থেকে সেরা আলোকচিত্রগুলোকে প্রদর্শন করা হচ্ছে ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের প্রদর্শনীতে। ১৯ আগস্ট অনলাইনে শুরু হওয়া এ আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। এদিন সেরা তিন আলোকচিত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে।