কুশল সংবাদ

মৌসুমের জ্বর...

প্রকৃতির হাওয়া বদল হতে শুরু করেছে। দিনে গরম লাগে, আবার রাতের দিকে বেশ একটা শীত শীত ভাব। এই গরম ঠান্ডার মধ্যে মৌসুমি জ্বরও তার প্রভাব বিস্তার করে। এই ভাইরাল জ্বর বায়ুবাহিত হওয়ায় দ্রুত একজনের মাধ্যমে আরেকজন সংক্রমিত হয়। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এমন ভাইরাল জ্বরকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ভাইরাস জীবাণুর সংক্রমণের কারণে এ জ্বর হয়। এটি সাধারণত ৭-১৪ দিন স্থায়ী হতে পারে। ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার খেলে এই সময়ের মধ্যে জ্বর ভালো হয়ে যায়। ভাইরাল জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
ভাইরাল জ্বরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, মাথা ভারী মনে হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি। তবে শিশুদের মুখ লাল হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা বেশি, মাথা ব্যথা, সর্দি ও কাশি হতে দেখা যায়।

কীভাবে বুঝবেন ভাইরাল জ্বর
 হঠাৎ জ্বর আসা ও সাত-আট দিন ধরে চলতে থাকে।  শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়।  জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা থাকে।  বেশির ভাগ সময় জ্বরের সঙ্গে সর্দি, কাশি থাকে।  বিশেষ ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।  গায়ে, হাত, পায়ে অসহ্য ব্যথা করে।  মুখে বিস্বাদ, বমি বমি ভাব ও খিদে কমে যায়।  গলায় ব্যথা হতে পারে।  জ্বরের মাত্রা খুব বেশি হলে শিশুরা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা ও পরামর্শ
 জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর কমানোর ও শরীরের ব্যথা কমার ওষুধ খেতে পারেন।
 জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো শরীর নরম কাপড় ভিজিয়ে মুছে ফেলতে হবে। মাথা পানি দিয়ে ধুয়ে বাতাস করে জ্বর কমাতে হবে। জ্বর কখনোই বাড়তে দেওয়া যাবে না।
 খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক রাখতে হবে। শরীরে যাতে পুষ্টির অভাব না হয়, সে জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পুষ্টিকর খাবার। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে সেই ক্ষমতা দিয়ে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভালো হয়ে যায়।
 অসুস্থ ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
 সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা হলে সকাল-বিকেল চা বা কফি খাওয়া যেতে পারে।
 চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
 ভাইরাল জ্বর হলে রোগীকে একটু আলাদা রাখতে হবে।
 জ্বর হওয়ামাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।