রাঙামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবরদান উৎসব আজ শুরু

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাঙামাটি রাজবন বিহারে আজ বৃহস্পতিবার থেকে কঠিন চীবরদান উৎসব শুরু হচ্ছে। এটি রাঙামাটি রাজবন বিহারের ৪২তম আয়োজন।
গত সোমবার রাজবন বিহারের কঠিন চীবরদান উৎসব সম্পর্কে অবহিত করতে উপাসক-উপাসিকা পরিষদের পক্ষ থেকে বিহার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জানানো হয়, দুই দিনের এ উৎসবে এবার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিহার ও আশপাশের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করবেন। এ ছাড়া প্রতিবছরের মতো প্রশাসন ও পুলিশের নিরাপত্তা সহায়তা নেওয়া হবে।
উপাসক-উপাসিকা পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, এটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লাখো মানুষ অংশ নেন। তাই সবার উচিত ধর্মীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে উৎসবে অংশগ্রহণ করা।
কঠিন চীবরদান উৎসব পরিচালনা কমিটির তথ্য উপকমিটির আহ্বায়ক সুস্মিতা চাকমা জানান, বৌদ্ধধর্মীয় সাধক বনভান্তে খ্যাত সাধনানন্দ মহাস্থবিরের অনুপ্রেরণায় রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিন টিলা বনবিহারে বৌদ্ধ যুগের আদলে প্রথম কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান হয়। বনভান্তের মহাপ্রয়াণের পর এটি রাঙামাটি রাজবন বিহারে চতুর্থ কঠিন চীবরদান।
সুস্মিতা চাকমা আরও জানান, প্রথম দিন বেলা পৌনে তিনটায় কঠিন চীবরদানের মূল অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়। এরপর চড়কায় সুতা কেটে চীবর বোনার কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন রানি য়েন য়েন। পরদিন বেলা তিনটায় চীবর বৌদ্ধভিক্ষুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
কঠিন চীবর তৈরিতে ১৬৪টি বেইন (কোমরতাঁত) ও দুই শতাধিক চর়কা ব্যবহৃত হবে। প্রতিটি বেইন ও চরকায় কমপক্ষে পাঁচজন নারী চীবর তৈরিতে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া পুরুষ পুণ্যার্থীরা সুতা রং করাসহ বিভিন্ন কাজে অংশ নেবেন।
পরিষদের সহসভাপতি দীপক খীসা বলেন, কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যে ভারত থেকে কয়েকজন বৌদ্ধ সাধক (ভিক্ষু) বিহারে এসে অবস্থান করছেন। উৎসবে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশ-বিদেশের বৌদ্ধ সাধক ও অনুসারীরা রাঙামাটি আসেন।