শিক্ষক-সংকটে মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক-সংকট চলছে। ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে বর্তমানে পাঁচজনের পদই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকস্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দুইজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ১৯৮৩ সালে স্থাপিত মহেশখালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালে সরকারি করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার নারী শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যালয়টি ভূমিকা রেখে আসছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের পর থেকে শিক্ষক-সংকটের কারণে লেখাপড়ার মান কমে গেছে। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ফলাফল খারাপ হচ্ছে। কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বিদ্যালয়ে ২০০৩ সালে শিক্ষার্থী ছিল ৫৩০ জন। বর্তমানে ৩৩৮ জনে নেমে এসেছে।
২০০৩-০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৯৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছিল ২৮ জন। ২০১৩ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে আসে ৬১ জনে। এর মধ্যে পাস করেছে ৫৭ জন। শিক্ষকেরা জানান, মাঝখানে পরীক্ষার্থী ও পাসের হার দুটোই কমে গিয়েছিল। খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে মডেল টেস্ট গ্রহণ এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ফলে পাসের হার কিছুটা বেড়েছে। তবে শিক্ষার্থীর হার সেভাবে বাড়েনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এ বিদ্যালয়ে এসব বিষয়ে শিক্ষক নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। তাই ফলাফলও ওইসব বিষয়ে বেশি খারাপ হচ্ছে।
এক ছাত্রের অভিভাবক আবদুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষক-সংকট লেগে থাকার কারণে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া তেমন হয় না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। এটি এখন নামেই সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কাজে নয়।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিন জানান, ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র সাতজন আছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান শিক্ষক পদটিই শূন্য আট বছর ধরে। এ ছাড়া গণিত ও ইংরেজির একজন করে এবং বিজ্ঞানে দুজন শিক্ষকের পদ শূন্য। দু-এক বছর পর পর একেক বিষয়ে একেকজন শিক্ষক এলেও কিছুদিন পর তাঁরা বদলি হয়ে চলে যান। উচ্চমান সহকারী এবং দপ্তরির পদও শূন্য। ফলে শ্রেণীর কাজসহ প্রশাসনিক কাজ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে ১২ জন শিক্ষকের পদ নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী ও পড়ালেখার বিষয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা ২৭ জনে উন্নীত করা দরকার ছিল। কক্সবাজার সদর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়েও ২৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে শিক্ষক-সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার লেখালেখি করেও কোনো কাজ হয়নি। তাই বাইরে থেকে দুজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনো রকমে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখার ব্যবস্থা করেছি।’