শূন্যতা অনুভব করলাম

অলংকরণ: মাসুক হেলাল
অলংকরণ: মাসুক হেলাল

অন্য দিন ১০ টাকা ভাড়া চাইলে চোখে আগুন নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতাম। আজকে খুশি মনে ১০ টাকা দিলাম। কারণ, ভাড়া নিয়ে এখন আমার বিন্দুমাত্র চিন্তা করার সময় নেই। টিউশনে যেতে ভালো লাগে না, আজকে লাগছে। আজ টিউশনের সম্মানী প্রাপ্তির কথা।
আরেকটা কারণও অবশ্য আছে। সেটাই কি মুখ্য নয়? টাকা পেলে কাল সারা দিন ঈশিতার সঙ্গে দেখা করব। চমকে দিয়ে ওর জন্য কিছু কেনাকাটাও করা যাবে। গ্রীষ্মের এই অসহ্য বিকেলেও মনটা নাচানাচি করছে।
পড়ানো শেষ। ছাত্রের মা পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। খামটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘নিলয় বাবা, তুমি তো গত মাসে ১৪ দিন এসেছ। হিসাব করে দিয়েছি, কেমন?’ আমি মাথা নেড়ে খামটা নিলাম। বাইরে এসে খামটা খুলে দেখলাম দুই দিনের টাকা কম।
ফেরার পথে বলাকা বাসে উঠেছি। বাঁ পাশের ঠিক পেছনের সিটটায়। এরই মধ্যে যাত্রী আর কন্ডাক্টর কয়েকবার ঝগড়া করলেন। কিছু মানুষ আছেন, বাসের ভাড়া নিয়ে খিস্তিখেউর না করলে তাঁদের চলে না। ঈশিতার হাসিটা মাথায় ঘুরছে। ঠোঁটের তিল, সুন্দর করে বাঁধানো দাঁত। মুচকি হাসি, খিলখিল হাসি, আহা! চোখ বন্ধ করে ভাবতে ভাবতে ঝিমিয়ে পড়েছিলাম।
বাসের জানালায় মাথাটা হঠাৎ বাড়ি খেল। যেখানে নামবার কথা তখন দেখি পার হয়ে এসেছি। তড়িঘড়ি করে নামতে গিয়ে ধাক্কা লাগল অন্য কারও গায়ে। কেউ কেউ চোখে আগুন নিয়ে তাকাল। একজন বলে উঠল, ভাই, কাইত হইয়া ঢুকেন না?
আরেকজনের দৃষ্টি দেখলাম স্থির এবং তীক্ষ্ণ। সেও নামবে বোধ হয়। আমার পেছন ঘেঁষে দাঁড়াল। বৃহস্পতিবার লোকজনের ঘরে ফেরার তাড়া প্রখর হয়ে যায়, সবাই আক্রমণাত্মক। নামতে গিয়ে স্যান্ডেল আটকে গেল বাসের গেটে। পেছনের লোকটা স্যান্ডেল নামিয়ে দিয়ে গেল। তাঁকে মাথা নেড়ে ধন্যবাদ যখন দিলাম তখনো তাঁর দৃষ্টি স্থির। দ্রুত চলনে তিনি প্রস্থান করার পর আমি পেছনের পকেটে শূন্যতা অনুভব করলাম হঠাৎ। বুকের ভেতর চিড়িক দিয়ে উঠল। হাত দিয়ে দেখলাম মানিব্যাগ নেই।
এখন রুমে ফিরছি। রিকশা ভাড়া নেই। হেঁটেই চলছি।
শোয়াইব সরকার
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।