প্রযুক্তি

হাতের মুঠোয় আয়

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করা যাবে। ছবি: নকশা
আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করা যাবে। ছবি: নকশা

ঘরে বসেই বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করার (ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং) বিষয়টি এখন বেশ পরিচিত। নারী কিংবা পুরুষ যে কেউ চাইলেই এ কাজ করতে পারেন। ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজগুলো করতে চাইলে নির্দিষ্টভাবে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা থাকতেই হবে এমন নয়। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি এমন অনেক বিষয় আছে যা চাইলে আগ্রহী যে কেউ করতে পারেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রাফিকস ডিজাইন, নিবন্ধ লেখা, ভিডিও প্রযোজনা, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্সিয়াল পরিকল্পনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, লিগ্যাল অ্যাডভাইজর, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার, ই-মেইল এবং টেলি মার্কেটার, কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার, লাইভ চ্যাট এজেন্ট, ফোন সাপোর্ট বিশেষজ্ঞ, ভার্চ্যুয়াল সহকারী, ট্রান্সক্রিপশনিস্ট, ওয়েব রিসার্চার, রিক্রুটার্স ইত্যাদি। এ ধরনের কাজগুলো করার ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রযুক্তিজ্ঞানের প্রয়োজন এমন নয়। তবে এ কাজটি করতে চাইলে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের সহায়তা পাওয়া সম্ভব বলে জানালেন বেসিসের সেরা ফ্রিল্যান্স পুরস্কারজয়ী ক্রিয়েটিভ কিটেনসের প্রতিষ্ঠাতা এমরাজিনা ইসলাম।
ঘরে বসে ইন্টারনেটের সহায়তা বর্তমানে ভার্চ্যুয়াল সহকারীর কাজটিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কাজটিও অনেকটাই ব্যক্তিগত সহকারীর কাজ। পার্থক্য হচ্ছে এ কাজটি বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকেই করা যায়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কাজ করছেন অনেকেই। বিভিন্ন গ্রুপ কিংবা পেজ পরিচালনার মতো কাজগুলো বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেস থেকে করা যায়।
শুরুতে যা করতে পারেন
অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং কাজের জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস আপ ওয়ার্কে (www.upwork.com) গিয়ে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কাজের বিষয়ে সার্চ করুন। কাজের বিস্তারিত বর্ণনা পড়ে মিলিয়ে নিন আপনি কোন কোন কাজগুলো পারবেন। কাজ শেখার ক্ষেত্রে গুগলে সার্চ করে সহায়তা নিতে পারেন। আপ ওয়ার্কে গিয়ে শুরুতে নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করুন। যেখানে আপনার ছবি, বিস্তারিত তথ্যাদি, কাজের বর্ণনা ইত্যাদি থাকবে। শুরুতে কিংবা পরবর্তী সময়ে প্রোফাইল এবং কাজের বর্ণনা দেখেই মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া কীভাবে কাজ শুরু করবেন সে বিষয়েই নিতে পারেন www.upwork.com/i/howitworks/ freelancer ঠিকানা থেকে। এমরাজিনা জানালেন, মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরুর আগে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আগে নিজে নিজেই কিছু কাজ করুন। এতে কাজের ওপর নিজের আস্থা বাড়বে। এতে করে মার্কেটপ্লেসে আপনার নিজের প্রোফাইলের কাজের বর্ণনাগুলো রাখলে কাজ পেতেও সুবিধা হবে।

নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই কাজ শুরু করা সম্ভব। এ জন্য ফ্রিল্যান্সিং কাজের বাজারগুলোতে (মার্কেটপ্লেস) গিয়ে পছন্দসই কাজগুলোর বিস্তারিত পড়ে নেওয়া উচিত বলে জানালেন এমরাজিনা। তিনি বলেন, যিনি যে কাজটি করতে চান বা কাজটি পারেন তিনি সে বিষয়ে আগে মার্কেটপ্লেসে গিয়ে খুঁজে দেখতে পারেন। ক্যাটাগরি অনুযায়ী কাজ দেখে সেখানে কী কী চাহিদা আছে সেসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। ইংরেজি ভালো জানলে লেখালেখি, ট্রান্সক্রিপশনের কাজগুলো যে কেউ করতে পারেন। আবার ভালো ইংরেজি বললেও কণ্ঠভিত্তিক নানা কাজও করতে পারেন যে কেউ।