
ক্রিকেটার আল আমিনের বাড়ি কোনটি, তা জানতে চাইলে সবাই এক কথায় দেখিয়ে দেয়, ‘ওই যে ছোট গলিটির ভেতর।’
ঝিনাইদহ শহরের উত্তর পাশে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের সামনে টিনশেডের একটি একতলা বাড়ি।
এলাকার লোকের কাছে বাড়িটি খুব চেনা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ক্যাডেট কলেজপাড়ার সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল চারদিকে আনন্দের রেশ। আল আমিনের বাবা শাহ আলম বললেন, ‘ছেলে যখন দল থেকে বাদ পড়েছিল, তখন কষ্টে বুকের মধ্যে যন্ত্রণা করেছে। ছেলেকে প্রশ্ন করলে সে জানিয়েছে, “আব্বা, আমি কোনো অপরাধ করিনি।” তিনি আরও বলছিলেন, ‘ছেলেকে খেলার মাঠে না দেখে কষ্টই পেয়েছি। এখন খুব ভালো খেলতে দেখে ভালো লাগছে।’
আল আমিনরা দুই ভাই, এক বোন। বোন নূরজাহানের বিয়ে হয়েছে। বড় ভাই আফাঙ্গীর হোসেন গাইবান্ধায় একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
শাহ আলম জানান, তিনি ক্যাডেট কলেজে চাকরি করেন। আল আমিনের জন্ম এই ক্যাডেট কলেজপাড়াতেই। ছোটবেলা থেকেই আল আমিন পড়ালেখার পাশাপাশি খেলার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। প্রাইভেট পড়তে গিয়ে বই রেখে খেলায় ডুবে গেছেন আল আমিন—এমন ঘটনা অসংখ্য। কখনো ভাবেননি, একদিন এই খেলাই তাঁকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেবে।
আল আমিনের মা মনোয়ারা খাতুন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন ছেলের জন্য। তিনি বলছিলেন, ‘দোয়া করি, আমার ছেলের আর কখনো যেন খারাপ সময় না আসে।’