
বুদ্ধিমান হওয়া কেবল জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেও বুদ্ধিতে শান দেওয়া যায়। আমরা অনেকেই ভাবি, বেশি তথ্য জানলেই বুদ্ধিমান হওয়া যায়। আদতে বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে ভাবেন, শেখেন ও নতুন ধারণার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন, তার ওপর। নিচে বুদ্ধিমত্তা চর্চার কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।
যেসব বিষয় আপনাকে ভাবায় বা বিভ্রান্ত করে, সেসব এড়িয়ে না গিয়ে লিখে রাখুন। কৌতূহলই শেখার প্রথম ধাপ। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার অভ্যাস আপনাকে নতুন জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নিয়ে যাবে।
ছোট ছোট পোস্ট বা ভিডিওর বাইরে গিয়ে প্রবন্ধ পড়ুন। এতে আপনি একটি বিষয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বুঝতে শিখবেন। এটি আপনার বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়াবে। শুধু চোখ বুলিয়ে পড়বেন না, আন্ডারলাইন করুন, নোট নিন ও প্রশ্ন তুলুন। এতে আপনি তথ্যের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারবেন।
এখন তো হাতের মুঠোয় পডকাস্ট। নিয়মিত পডকাস্ট শোনার অভ্যাস আপনার নিজের চিন্তার কাঠামো উন্নত করতে সাহায্য করবে।
নতুন কিছু শেখার পর সেটিকে সহজ ভাষায় অন্য কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার নিজের বোঝাপড়া আরও পরিষ্কার হবে এবং কোথায় ঘাটতি আছে, তা–ও ধরা পড়বে।
একসঙ্গে অনেক কিছু না শিখে একটি বিষয় বেছে নিন। কয়েক মাস ওই একটি বিষয় নিয়েই থাকুন। গভীর জ্ঞান আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
উত্তর খোঁজার পাশাপাশি প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভালো প্রশ্নই নতুন চিন্তার দরজা খুলে দেয়। প্রতিদিন মনের কোণে উঁকি দেওয়া প্রশ্নগুলো টুকে রাখুন।
অযথা স্ক্রল করার বদলে ডকুমেন্টারি বা শিক্ষামূলক কিছু দেখুন। এতে আপনি বাস্তব পৃথিবী সম্পর্কে নতুন ধারণা পাবেন।
কোনো বিষয় নিয়ে অন্যদের মন্তব্য দেখার আগে নিজে ভাবুন বা অন্যের মন্তব্য শোনার পরও বিষয়টিকে ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের চিন্তা গড়ে তোলার ক্ষমতাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
বুদ্ধিমান হওয়া একদিনের কাজ নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন অভ্যাসই আপনাকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়, আরও বুদ্ধিমান মানুষে পরিণত করে। আপনি যত বেশি ভাববেন, প্রশ্ন করবেন, শিখবেন, ততই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হবে। তাই নিজের চিন্তাশক্তিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার এই যাত্রা আজই শুরু করুন।
সূত্র: এমএসএন