
আজ ৩১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক জেব্রা দিবস। এই দিনে আফ্রিকার তৃণভূমিতে ছুটে চলা এই অনিন্দ্যসুন্দর প্রাণীটির জীবনযাপন, স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে জেনে নেওয়া যাক ১০টি মজার তথ্য।
পৃথিবীতে জেব্রার তিনটি ভিন্ন প্রজাতি রয়েছে—প্লেইনস বা সমতলের জেব্রা, গ্রেভিস জেব্রা ও মাউন্টেন বা পবর্তের জেব্রা। এই তিন প্রজাতিরই আদি নিবাস আফ্রিকা।
জেব্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্লেইনস জেব্রা। এরা পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমি ও বনাঞ্চলে বিচরণ করে। গ্রেভিস জেব্রা মূলত কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার শুষ্ক অঞ্চলে বাস করে। আর মাউন্টেন জেব্রার আবাস পাহাড়ি ও টিলা-ঘেরা অঞ্চল—নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।
ঘোড়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জেব্রা। এদের শরীর মোটা, পা চিকন, লেজের ডগায় ঝুঁটি আর মাথা ও গলা লম্বা—যার ওপর থাকে ছোট খাঁড়া কেশর। তবে জেব্রার সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো তাদের গায়ে চোখধাঁধানো কালো-সাদা ডোরাকাটা দাগ।
কিন্তু জেব্রার গায়ে ডোরাকাটা দাগ কেন? বিজ্ঞানীরাও এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। ধারণা করা হয়, এই দাগ শিকারি প্রাণী ও রক্তচোষা পোকামাকড়কে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে, কিংবা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আবার প্রতিটি জেব্রার ডোরার নকশা আলাদা হওয়ায় নিজেদের মধ্যে পরিচয়ের ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগে।
জেব্রা তৃণভোজী প্রাণী। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তারা ঘাস খেয়ে কাটায়। পাশাপাশি পাতা, ডালপালা এমনকি গাছের ছালও খায়। ঘাস চিবোনোর জন্য তাদের দাঁত বেশ উপযোগী।
খাবার ও পানির খোঁজে জেব্রারা প্রায় সারাক্ষণই চলাচল করে। ঘাস আর পানির নতুন উৎসের সন্ধানে তারা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।
জেব্রা সামাজিক প্রাণী। তারা দলবদ্ধভাবে থাকে, যাকে বলা হয় হার্ড বা পাল। নতুন চারণভূমির দিকে যাত্রার সময় হাজার হাজার জেব্রা নিয়ে বিশাল ‘সুপার হার্ড’ও গড়ে উঠতে পারে। এই যাত্রাপথে তারা হরিণ বা ওয়াইল্ডবিস্টের মতো অন্য তৃণভোজী প্রাণীর সঙ্গেও চলতে দেখা যায়।
একটি পালের মধ্যে আবার ছোট ছোট পারিবারিক দল থাকে। সাধারণত একটি প্রভাবশালী পুরুষ, কয়েকটি স্ত্রী (মেয়ার) এবং তাদের শাবক (ফোল) নিয়ে এই পরিবার গঠিত হয়। এক থেকে তিন বছর বয়স হলে পুরুষ শাবকেরা দল ছেড়ে ‘ব্যাচেলর হার্ডে’ অর্থাৎ শুধু পুরুষদের দলে যোগ দেয়। পরে শক্তিশালী হলে তারা স্ত্রী জেব্রার জন্য প্রতিযোগিতায় নামে।
দেখতে যতই শান্ত ও মার্জিত হোক, জেব্রা কিন্তু বেশ আক্রমণাত্মকও হতে পারে। স্ত্রী জেব্রার জন্য লড়াই করে পুরুষ জেব্রারা। এতে তীক্ষ্ণ কামড় ও শক্তিশালী লাথির আঘাতে মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
তাদের এই লড়াকু স্বভাব আর দৃঢ় সামাজিক বন্ধন জেব্রাদের শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করে। সিংহ, চিতা, হায়েনা ও লেপার্ড জেব্রার প্রধান শিকারি। বিপদের সময় জেব্রারা আধা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে শিকারির মুখোমুখি হয় এবং প্রয়োজনে একসঙ্গে আক্রমণ চালায়। যদি কোনো জেব্রা আহত হয়, অন্যরা তাকে ঘিরে ধরে শিকারিকে তাড়ানোর চেষ্টা করে।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিডস