রাত তিনটা। চারপাশ সুনসান। এমন সময়ই হুট করে ঘুম ভেঙে গেল। টের পেলেন আপনার বুকের ওপর দিয়ে লোমশ একটা কিছু দৌড়ে গেল! কিংবা পায়ের আঙুলে আলতো কামড় অথবা কানের কাছে একটানা ‘ম্যাঁও ম্যাঁও’ ডাক। বিড়ালপ্রেমীদের কাছে এই দৃশ্য অতি পরিচিত। রাতের ঘুম নিয়মিতই হারাম হয়ে যায় প্রিয় বিড়ালের কর্মকাণ্ডে। আদরের প্রিয় বিড়াল কেন ঠিক মাঝরাতেই এমন করে? এটি কি নিছক দুষ্টামি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে?

বিড়াল মূলত নিশাচর প্রাণী। গৃহপালিত হওয়ার আগে ওরা স্বাধীনভাবে বনবাদাড়ে রাত কাটাত। সারা দিন ঘুমানোর পর রাতে বের হতো শিকারের খোঁজে। স্বভাব তো আর এক দিনে বদলে যায় না, তাই ঘরের বিড়ালের মধ্যেও সেই আদিম স্বভাব মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর পেছনে অবশ্য বেশ কিছু কারণ আছে।
সারা দিনের আলসেমি
ঘরের ভেতরে থাকা বিড়ালেরা সাধারণত সারা দিন শুয়েবসেই কাটায়। খুব একটা খেলার সুযোগ পায় না। আর যদি বাসার লোকজন বাসার বাইরে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। সারা দিন অফুরন্ত সময় ওদের হাতে। ফলে সারা দিন ঘুমানোর পর রাতকে বেছে নেয় নিজের কাজের সময় হিসেবে।
একাকিত্ব
সারা দিন ঘরের বাইরে থেকে যখন অবশেষে ঘরে ফেরেন, তখন বিড়ালও চায় আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে। ব্যস্ততার কারণে যেহেতু সারা দিন সময় দিতে পারেন না, তাই রাত তিনটায় বিড়াল আপনার সঙ্গে খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ক্ষুধা
বিড়ালেরা পূর্বপুরুষেরা যেহেতু রাতে শিকার ও খাওয়াদাওয়া করত, তাই এই অভ্যাস ওদের ডিএনএতে লেখা আছে। তাই ওরা রাতে খেয়েই অভ্যস্ত। আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও রাতের ক্ষুধা তো আর মরে যায় না। এ কারণে মাঝরাতে খাওয়ার জন্য আপনাকে জাগিয়ে তোলে।
রাত তিনটায় বিড়ালকে ঘুমানোর কথা বলে কম্বলটা আবার টেনে নিয়ে চোখ বোজার চেষ্টা করে আদতে লাভ নেই। বিড়াল আপনার কথা ভেবে নিজেও ঘুমাতে যাবে না। তাই পোষা বিড়ালের স্বভাব পরিবর্তনে চেষ্টা করতে হবে। বেশ কঠিন হলেও তা একেবারে অসম্ভব নয়। আপনার এবং বিড়ালের রাতের ঘুম ফিরে পেতে চাইলে কয়েকটি কাজ করতে পারেন।
ঘুমের আগে ভরপেট নাশতা ও খেলাধুলা
বিড়াল নিশাচর বলে শুরুতেই ওদের দেহঘড়ির পরিবর্তন আনতে হবে। এর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘুমানোর ঠিক এক ঘণ্টা আগে বিড়ালকে নিয়ে অন্তত আধা ঘণ্টা খেলাধুলা করা। এরপর ওকে হালকা কিছু খাবার দিন। এতে বিড়াল খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বে, পেটও ভর্তি থাকবে। ফলে রাতে ঘুম না ভাঙার সম্ভাবনাই বেশি।
পাত্তা না দেওয়া
মাঝরাতে বিড়াল ডাকতে শুরু করলে অনেকেই আদর করতে শুরু করেন কিংবা খাবার দেন। এতে বিড়াল ভাবে, রাতে আপনাকে ঘুম থেকে ওঠালেই সে খাবার পাবে। ফলে পরদিন থেকে সে আবারও একই কাজ করতে শুরু করে। এই ভুল করা যাবে না। বরং ওকে বোঝাতে হবে, এখানে এসে যত কিছুই করো না কেন, আমি উঠছি না। বিড়াল কয়েক দিনের মধ্যেই বুঝতে পারবে, রাতে আপনাকে পাওয়া যাবে না।
শোবার ঘর থাকুক বিড়ালের ধরাছোঁয়ার বাইরে
আপনার যদি গভীর ঘুমের প্রয়োজন হয়, তবে শুরু থেকেই বিড়ালকে শোবার ঘরে ঢোকার অনুমতি দেবেন না। তাকে লিভিং রুমের কোনো আরামদায়ক কোণ বা আলাদা ঘরে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিন। মনে রাখবেন, সেখানে যেন তার জন্য পানি এবং লিটার বক্সের ব্যবস্থা থাকে।
নিয়ম মেনে চলা
বিড়ালকে যেমন রাত তিনটায় খাবার দেবেন না, তেমনই প্রতিদিন কখন কী খাবে, কখন কী করবে, তার একটি রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন একই সময়ে খাবার দেওয়া, খেলাধুলা করা এবং আদর করার একটি রুটিন রাখুন। রুটিন ঠিকঠাক থাকলে বিড়ালও রাতবিরাতে এসে সমস্যা তৈরি করবে না।
বিড়ালকে নিয়ে একই বিছানায় না ঘুমানোই ভালো। বরং বিড়ালকে নিজের বিছানা করে দিন। ও যাতে নিজের মতো থাকতে পারে। এতে ও আপনাকে রাতে জ্বালাতে আসবে না।
রাতে ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার করে রাখার চেষ্টা করুন।
অন্ধকার ঘরে বিড়ালও বেশ শান্ত হয়ে থাকে।
আর এত কিছু করেও যদি কোনো কাজ না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, বিড়ালের কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।
সে ক্ষেত্রে রাতে ওর ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই প্রাণী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।
সূত্র: প্রিভেন্টিভ পেট, চেরি হিল ক্যাট ক্লিনিক