দুর্ঘটনার পরও হার মানেননি, আকিনগেনিয়ের গল্প আশা জাগায়
জীবনযাপন ডেস্ক
আকিনগেনিয়ে ওলগের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায়।২০০৩ সালে মাত্র ৩ বছর বয়সে রান্নাঘরে এক দুর্ঘটনায় তাঁর মুখের একটা অংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়।সেই দুর্ঘটনায় আকিনগেনিয়ের চেহারা বদলে যায়। স্কুলে পড়াশোনা করাই কঠিন ছিল তাঁর জন্য। কেননা বাকি শিশুরা তাঁকে দেখে ভয় পেত। আর এ জন্য তাঁকে নিয়মিত স্কুল বদলাতে হতো।জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, আকিনগেনিয়ে কোনো দিন পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি। এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘সব সময় জানতাম, যদি বেঁচে থাকি, তাহলে ভালোভাবে লেখাপড়াটা শেষ করব। আর আমার মতো যাঁরা আছেন, তাঁদের জীবন যাতে আরেকটু সহজ হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করব।’২০২৪ সালে আকিনগেনিয়ে রুয়ান্ডার মাউন্ট কিগালি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস নিয়ে স্নাতক করেন। এখন তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন।আকিনগেনিয়ে ‘বিউটি বাই ওলগ্’ নামের একটি সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক। আদতে ছোটবেলা থেকে সবাই তাঁকে ‘অসুন্দর’, ‘ভয়ংকর’ ইত্যাদি বলায় এবং ‘সৌন্দর্য’ থেকে দূরে থাকার উপদেশ দেওয়ায় আকিনগেনিয়ে সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি এখন সফল সৌন্দর্য উদ্যোক্তা।এ ছাড়া ‘ওলগ্স ওয়ার্ল্ড’ নামে আকিনগেনিয়ের একটি ইউটিউব চ্যানেলও আছে। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও বানান।আকিনগেনিয়ে ৮ জানুয়ারি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিক দুবা আর্থারকে বিয়ে করেছেন।
বিজ্ঞাপন
নতুন জীবনে পদার্পণ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষজন শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এই জুটিকে।দুবা ইনস্টাগ্রামে আকিনগেনিয়ের সঙ্গে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘তুমি যেদিন “হ্যাঁ” বলেছ, সেদিনই ধন্য হয়েছি। আজ মনে হচ্ছে, আমি পূর্ণ।’ আকিনগেনিয়ে ও দুবার বাকি জীবনটা যেন এ রকমই ছবির মতো সুন্দর হয়, সেই শুভকামনা জানিয়েছেন অনেকেই।প্রতিবন্ধকতা মানেই অক্ষমতা নয়, বরং ইচ্ছা থাকলে মানুষ ঠিকই তাঁর সব স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলতে পারে, এই বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছেন আকিনগেনিয়ে।‘সোল ওভার স্কারস’ নামে আকিনগেনিয়ে একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনও পরিচালনা করেন। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধকতার শিকার মানুষদের কর্মমুখী কাজের প্রশিক্ষণ দেয়, অনুপ্রাণিত করে, আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে।