একজন ফ্রেশারের মধ্যে যদি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা আত্মোন্নয়নের তীব্র তাগিদ থাকে, তবে তিনি যেকোনো জটিল প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।
একজন ফ্রেশারের মধ্যে যদি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা আত্মোন্নয়নের তীব্র তাগিদ থাকে, তবে তিনি যেকোনো জটিল প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।

ফ্রেশারদের মধ্যে আমরা কী খুঁজি

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে ব্যাংক, টেলিকম ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মতো করপোরেট–দুনিয়ায় পা রাখার স্বপ্ন অনেক তরুণেরই থাকে। কিন্তু এই দুনিয়া নিয়ে তাঁদের মনে থাকে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা। তরুণদের যাত্রাপথ সহজ করতেই লিখেছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন

অনেকের ধারণা, সিজিপিএ বা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ই করপোরেট ক্যারিয়ারের একমাত্র টিকিট। বাস্তব অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন। নিয়োগের প্রক্রিয়ার শুরুতে হয়তো হাজার হাজার আবেদনের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই করার জন্য আমরা একাডেমিক স্কোর বা সিজিপিএ দেখি, কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে ডাক পাওয়ার পর আসল মূল্যায়ন শুরু হয় শিক্ষার্থীর চিন্তাধারা ও মানসিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে।

নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ

প্রযুক্তি ও করপোরেট–জগৎ এখন প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে শুধু ফোনে কথা বলা বা প্রচলিত সেবাই ছিল প্রধান, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ওটিটি ও ডিজিটালাইজেশন পুরো ব্যবসার ধরন বদলে দিয়েছে। তাই কোনো প্রার্থী একাডেমিক দিক থেকে কতটা জানেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—নতুন বিষয় শিখতে তিনি কতটা আগ্রহী। একজন ফ্রেশারের মধ্যে যদি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা আত্মোন্নয়নের তীব্র তাগিদ থাকে, তবে তিনি যেকোনো জটিল প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।

প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও আগ্রহ

ইন্টারভিউ বোর্ডে আসার আগেই প্রার্থীকে ঠিক করতে হবে—যে সংস্থায় কাজ করতে যাচ্ছেন, সেই সংস্থা ও শিল্পের চলমান পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি কতটুকু জানেন। ধরা যাক, আপনি টেলিকম খাতে কাজ করতে চান। এই ক্ষেত্রে কী কী রূপান্তর ঘটছে, মূল প্রোডাক্ট বা লক্ষ্য কী—এসব বিষয়ে প্রার্থীর পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। আমরা সব সময় দেখি যে প্রার্থী কি শুধু একটা চাকরির জন্য এসেছেন, নাকি প্রতিষ্ঠানের কাজের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি মেলাতে পেরেছেন।

অভিজ্ঞতা ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড

আমরা প্রার্থীর পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ দেখার চেষ্টা করি। তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাব বা প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন? কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? কিংবা কোনো সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছেন? এসব কার্যক্রম প্রার্থীর উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা, টিমওয়ার্ক ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রকাশ করে। একাডেমিক ফলাফলের বাইরে এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় প্রার্থীর যোগ্যতা প্রমাণের বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো

কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আসবেই। কোনো কাজের ফলাফল হয়তো প্রত্যাশামতো হবে না কিংবা কাজের ধরন হঠাৎ বদলে যেতে পারে। সেই মুহূর্তে একজন ফ্রেশার কত দ্রুত নিজের ভুল থেকে শিখে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন, তা অত্যন্ত জরুরি। পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের ভেতরে পরিবর্তন আনার মানসিকতা থাকা চাই।

বর্তমান চাকরির বাজারে প্রথাগত বা ডিগ্রিভিত্তিক ধারণা অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রি বা সাবজেক্টের চেয়ে প্রার্থীর শেখার ইচ্ছা, ইতিবাচক মানসিকতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। নিজের যোগ্যতা ও চিন্তাভাবনাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলে যেকোনো ফ্রেশারের জন্যই করপোরেট সাফল্যের পথ উন্মুক্ত।

গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন