মো. আল আমিন
মো. আল আমিন

আতিথেয়তা শিল্প কেন পিছিয়ে

বাঙালির আতিথেয়তা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিকে আমরা এখনো একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তর করতে পারিনি। আমাদের দেশের আতিথেয়তা ও পর্যটনশিল্প এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের অবদান মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। অথচ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো পরিকল্পিতভাবে এই শিল্পকে তাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত করেছে।  

গত এক দশকে দেশের এই খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। বিশ্বমানের হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এই প্রবৃদ্ধি নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকেন্দ্রিক। দেশের অধিকাংশ পর্যটন অঞ্চলের অপার সম্ভাবনা এখনো অবহেলিত।

এই খাতের বিকাশে অন্যতম বড় অন্তরায় আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। আতিথেয়তাকে ব্যক্তিগত জীবনে মূল্য দিলেও এই শিল্পে কাজ করাকে এখনো সামাজিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে দেখা হয় না। বিশেষ করে নারীদের এই খাতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ থেকে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা আসে। ফলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি এবং তাদের এই পেশায় ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ খাতের জন্য সমন্বিত ১০ বা ২০ বছরের রোডম্যাপ দরকার। নীতিনির্ধারণ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং—সবই চলছে বিচ্ছিন্নভাবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের খাত হিসেবে এখানে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি।

● লেখক: মহাব্যবস্থাপক, রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেল।