অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া
এ সপ্তাহের রাশিফল (১৪ ফেব্রুয়ারি–২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
এ সপ্তাহে আপনার ভাবনাচিন্তায় একটা পরিবর্তন আসবে। আগে যেখানে নিজের চাওয়া-পাওয়া বা ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেত, এখন সেখানে সমাজ, কাজ আর ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগের মতো লক্ষ্যগুলো আপনার সামনে চলে আসবে। বুঝতে শুরু করবেন, সবকিছু একা সামলানোর চেয়ে সঠিক মানুষ, দল বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিলেই এগোনো অনেক বেশি ফলদায়ক।
আগে মনে মনে লুকিয়ে রাখা কোনো স্বপ্ন বা ইচ্ছা আবার নতুন করে মাথা তুলতে পারে। এবার সেটাকে শুধু ভাবনায় না রেখে বাস্তব পরিকল্পনার দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দায়িত্ববোধ একটু বেশি চাপ দেবে। কাজ, সম্মান কিংবা নিজের অবস্থান নিয়ে আপনাকে কিছু কঠিন কিন্তু বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। আবেগ নয়, তখন যুক্তি আর বাস্তবতা আপনাকে পথ দেখাবে।
তবে সপ্তাহের শেষের দিকে এসে একটু মানসিক ক্লান্তি বা অকারণ চিন্তা ভর করতে পারে। মনে হবে, একটু একা থাকতে পারলে ভালো হতো। এই সময়টা নিজের জন্য রাখাই বুদ্ধিমানের। চুপচাপ বিশ্রাম, কম কথা, আর নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই আপনাকে আবার ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনবে।
আপনার জীবনে স্থিরতা আর নিরাপত্তার বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। আপনি চাইবেন কাজ হোক গোছানো, সম্পর্ক হোক নির্ভরযোগ্য আর ভবিষ্যৎটা যেন একটু নিশ্চিত দেখায়। হঠাৎ ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে আপনি ধীরেসুস্থে, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
কাজের ক্ষেত্রে সপ্তাহের শুরুতে কিছু দায়িত্ব বাড়তে পারে। প্রথমে একটু চাপ মনে হলেও ধীরে ধীরে বুঝবেন, এই দায়িত্বই আপনাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বিষয়েও সচেতনতা বাড়বে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুছিয়ে রাখার ভাবনা আসতে পারে।
সম্পর্কের দিক থেকে আপনি এই সপ্তাহে একটু বেশি বাস্তব থাকবেন। আবেগ আছে, কিন্তু সেটাকে প্রকাশ করার ধরন হবে শান্ত ও পরিমিত। কাছের মানুষের কাছ থেকে নির্ভরতা আর বোঝাপড়া আশা করবেন, আর সেটুকু না পেলে মনে একটু চাপ জমতে পারে। কথা চেপে না রেখে ধীরে, শান্তভাবে বললে ভুল–বোঝাবুঝি কাটবে।
সপ্তাহের শেষ দিকে শরীর আর মনের দিকে একটু নজর দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত কাজ বা দুশ্চিন্তা আপনাকে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। ভালো খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম আর পরিচিত আরামদায়ক পরিবেশ আপনাকে আবার নিজের ছন্দে ফিরিয়ে আনবে।
নতুন কিছু শেখা, কারও সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা, কিংবা পুরোনো কোনো বিষয় নতুনভাবে বোঝার সুযোগ আসবে। আপনি যত বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তত বেশি দরকারি তথ্য আর অনুপ্রেরণা পাবেন।
কাজ বা পড়াশোনার কিংবা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সপ্তাহের শুরুটা বেশ ভালো যাবে। আপনার কথা বলার দক্ষতা আর বুদ্ধিমত্তা অন্যদের নজরে পড়বে। কোথাও নিজের মতামত পরিষ্কারভাবে বললে সেটা ইতিবাচক ফল দিতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক কিছু করতে গিয়ে যেন অযথা নিজেকে ছড়িয়ে না ফেলেন, সব কাজে সমান মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
সম্পর্কের দিক থেকে এই সময়টা কথা বলার ওপর নির্ভর করছে। মনের কথা চেপে রাখলে ভুল–বোঝাবুঝি বাড়তে পারে, আবার খোলামেলা আলাপ অনেক দূরত্ব কমিয়ে দেবে। পুরোনো কোনো যোগাযোগ আবার ফিরে আসতে পারে, যা আপনাকে ভাবনায় ফেলবে।
সপ্তাহের শেষ দিকে মানসিকভাবে একটু অস্থির লাগতে পারে। মাথার ভেতর অতিরিক্ত চিন্তা ঘুরপাক খেলে নিজেকে একটু শান্ত করার চেষ্টা করুন।
আপনার মন ও শরীর কিছু পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। বাইরের ছোট ছোট ঘটনাও ভেতরে অনেক গভীরভাবে ছুঁয়ে যেতে পারে। আপনি আগের চেয়ে বেশি করে নিজের অনুভূতি, নিরাপত্তা আর আপনজনদের কথা ভাববেন। কোথায় স্বস্তি পাই, কার কাছে নিজেকে সত্যি মনে হয়, এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরবে।
কাজের দিক থেকে খুব নাটকীয় কিছু নাও হতে পারে, কিন্তু নিজের দায়িত্ব নিয়ে আপনি আগের চেয়ে বেশি আন্তরিক থাকবেন। কারও কাছ থেকে স্বীকৃতি বা আশ্বাস পেলে সেটা আপনাকে ভেতর থেকে শক্ত করবে। আবার সামান্য অবহেলা বা কঠিন কথা মনে দাগ কাটতে পারে। তবে সব কথা হৃদয়ে নিয়ে বসে থাকলে কষ্টই বাড়বে।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা বাড়বে। পুরোনো স্মৃতি, পরিবার বা অতীতের কোনো বিষয় আবার সামনে আসতে পারে। কারও স্নেহ বা বোঝাপড়া আপনাকে গভীর শান্তি দেবে, আবার সেই অভাবটাই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
সপ্তাহের শেষ দিকে একটু একা থাকার দরকার পড়তে পারে। সেটা দুঃখের জন্য নয়, বরং নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। নিজের যত্ন নিন, শরীর আর মনের কথা শুনুন। সবকিছুতে শক্ত থাকতে হবে—এই চাপটা নিজেকে দেবেন না।
এ সপ্তাহে সম্পর্ক ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আপনার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। আপনি বুঝতে চাইবেন, কে আপনার পাশে আছে, কে সত্যিই আপনার কথা শোনে। ব্যক্তিগত বা পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে অনেক ভুল–বোঝাবুঝির অবসান হতে পারে।
কাজের ক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়তে পারে, আর সেই সঙ্গে নজরও। মানুষ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকবে—আপনি কী করেন, কীভাবে করেন। এই সময়ে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখলে ফল ভালোই পাবেন। তবে অহংকার আর আত্মসম্মানের মধ্যে যে সূক্ষ্ম রেখাটা আছে, সেটা ভুলে গেলে চলবে না।
সম্পর্কের দিক থেকে আপনি একটু বেশি প্রত্যাশা করতে পারেন। কাছের মানুষদের কাছ থেকে সম্মান, গুরুত্ব আর খোলামেলা স্বীকৃতি চাইবেন। সেটা পেলে আপনি উদার হবেন, না পেলে মনে একটু অভিমান জমতে পারে। চুপ করে না থেকে অনুভূতিটা সহজভাবে জানানোই সবচেয়ে ভালো পথ।
সপ্তাহের শেষ দিকে শরীর আর মনের ক্লান্তি টের পেতে পারেন। সবকিছু নিজের কাঁধে নেওয়ার দরকার নেই, এই সত্যিটা মেনে নিতে শিখলে অনেক হালকা লাগবে। নিজের জন্যও একটু সময় রাখুন।
যেগুলো আগে চোখে পড়েনি, সেগুলোও এখন খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করবেন। নিজের কাজ, আচরণ, এমনকি অন্যদের কথাবার্তাও আপনি খুঁটিয়ে বুঝতে চাইবেন। ভালো করার তাগিদটাই এই সময়ে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। যদিও মাঝেমধ্যে সেটাই আপনাকে অযথা চাপেও ফেলতে পারে।
কাজ বা পড়াশোনায় আপনি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। ছোটখাটো ভুল চোখে পড়লে বিরক্ত লাগতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন, সবকিছু নিখুঁত না হলেও চলে। এই সপ্তাহে ধীরে, পরিকল্পনা করে এগোলে ফল আপনার পক্ষেই যাবে।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি একটু সংযত থাকবেন। বেশি আবেগ প্রকাশ না করে কাজে বা যত্নের মাধ্যমে নিজের ভালোবাসা দেখাতে চাইবেন। তবে মনের কথা না বললে কাছের মানুষ বুঝতে নাও পারে, সেখানে একটু খোলামেলা হওয়া দরকার।
সপ্তাহের শেষ দিকে শরীরের সিগন্যালগুলোর দিকে খেয়াল দিন। অতিরিক্ত চিন্তা বা কাজের চাপে ক্লান্তি জমতে পারে। বিশ্রাম, নিয়মিত খাবার আর একটু নিজের মতো সময় আপনাকে আবার ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনবে।
নিজের আনন্দ, ভালো লাগা আর সৃজনশীল দিকগুলোকে একটু বেশি গুরুত্ব দিতে ইচ্ছা করবে এ সপ্তাহে। লেখা, গান, আঁকা, কিংবা শুধু মনের কথা প্রকাশ করা—যা করতে ভালো লাগে, সেগুলোর দিকেই টান বাড়বে। প্রেমের বিষয়, শখ অথবা সন্তানের সঙ্গে জড়িত কোনো ভাবনাও এই সময়ে সামনে আসতে পারে, যা আপনাকে ভেতর থেকে খুশি করবে।
তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি এসে কাজের দায়িত্ব আর চাপ একটু ক্লান্ত করে দিতে পারে। মনে হতে পারে, আনন্দের মাঝেই হঠাৎ বাস্তবতার ভার এসে পড়ল। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাই আপনাকে আরও গুছিয়ে চিন্তা করতে শেখাবে, কীভাবে আনন্দ আর দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।
সপ্তাহের শেষ দিকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার সংবেদনশীল দিকটা আরও স্পষ্ট হবে। অন্যের কথা, অনুভূতি বা না বলা কষ্ট আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন। এই সহমর্মিতাই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে। শুধু খেয়াল রাখবেন, অন্যকে বুঝতে গিয়ে যেন নিজের অনুভূতিগুলো চাপা না পড়ে।
আপনার মনটা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে শিকড়ের কাছে। পরিবার, বাড়ি, নিজের নিরাপদ জায়গা—এই বিষয়গুলো হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে। পুরোনো কোনো স্মৃতি, কথা বা অনুভূতি আবার মাথায় ঘুরতে পারে।
এ সপ্তাহে নিজের আবেগ প্রকাশ করার সুযোগ আসবে। সৃজনশীল কোনো কাজ, প্রিয় মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা, কিংবা মনের চাপ ঝেড়ে ফেলার মতো কিছু করলে অনেকটাই হালকা লাগবে। জমে থাকা অনুভূতিগুলো বাইরে এলে আপনি নিজেই অবাক হবেন, কতটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
সপ্তাহের শেষ দিকে মনোযোগ যাবে দৈনন্দিন কাজকর্ম আর শরীরের দিকে। কাজের চাপ বাড়তে পারে, শরীরও একটু বিশ্রাম চাইতে পারে। এই সময়ে নিজেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলে উল্টো অস্থিরতা বাড়বে। সবকিছু নিজের মতো চলবে, এই ভাবনাটা একটু ছেড়ে দিলে মন অনেক শান্ত হবে।
এ সপ্তাহে আপনার ভেতরের কৌতূহলী মানুষটা বেশ সক্রিয় থাকবে। চারপাশে যা ঘটছে, তার পেছনের মানে বুঝতে ইচ্ছা করবে। কথা বলা, প্রশ্ন করা, নতুন কিছু জানা—এসবের মধ্যেই আপনি একটা আলাদা তৃপ্তি খুঁজে পাবেন। নিজের ভাবনাগুলো চেপে না রেখে প্রকাশ করতে পারলে মন অনেক হালকা লাগবে।
মাঝের দিকে এসে বুঝতে হতে পারে, সবকিছু শুধু নিজের মতো করে চলবে না। পরিবার বা ব্যক্তিগত দায়িত্বের কিছু বিষয় আপনার সময় আর মনোযোগ চাইবে। তখন স্বাধীনতা আর দায়িত্বের মাঝে একটু ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে। না পারলেও নিজেকে দোষ দেবেন না, এই শেখাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তাহ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মন আবার আনন্দের দিকেই ঝুঁকবে। হাসি, ভালোবাসা, সৃষ্টিশীল কিছু আপনাকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলবে। আপনি যত সহজভাবে জীবনকে নেবেন, ততই চাপ কমবে আর নিজের আসল ছন্দে ফিরে আসতে পারবেন।
কিসে আপনার মনে নিরাপত্তা আসে, কোন জায়গায় আপনি সত্যি স্বস্তি পান—এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরবে। অর্থ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনাও বাড়বে। অযথা খরচ নয়, বরং কীভাবে ধীরে ধীরে স্থির কিছু গড়ে তোলা যায়, সেটাই আপনার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হবে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে কথা বলার সুযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারও সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা, পরামর্শ নেওয়া বা নিজের পরিকল্পনা ভাগ করে নেওয়া থেকে উপকার মিলতে পারে। অনেক সময় মনের ভেতরে আটকে থাকা ভাবনাগুলো বললেই পথটা পরিষ্কার হয়, এ সপ্তাহে সেটা আপনি টের পাবেন।
সপ্তাহের শেষ দিকে আবেগ একটু বেশি সামনে আসবে। পরিবার, কাছের মানুষ বা পুরোনো কোনো অনুভূতি আপনাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত আপনি শক্ত থাকতেই অভ্যস্ত, কিন্তু এই সময়ে একটু নরম হওয়াই বরং আপনাকে হালকা করবে। সবকিছু শক্ত হাতে ধরেই রাখতে হবে, এই ধারণাটায় একটু ঢিল দিলেই মন অনেক শান্ত হবে।
আপনার ভেতরে একধরনের নতুন আত্মপরিচয়ের জাগরণ দেখা দেবে। আপনি নিজেকে আগের চেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে চাইবেন—কথাবার্তায়, চিন্তাভাবনায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে। অন্যরা আপনাকে কীভাবে দেখছে, সেই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তবে এবার আপনি আর অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহী নন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা এবং নিজের মতো করে চলার প্রবণতা বাড়বে। সপ্তাহের শুরুতে আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে শক্ত ভিত্তি পাবে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে আর আগের মতো দ্বিধা কাজ করবে না।
সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বাস্তব জীবনের হিসাব-নিকাশ সামনে আসবে। আয়-ব্যয়, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বা নিজের সামর্থ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হতে পারে। এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা বেশি কাজ করবে। আপনি বুঝতে পারবেন, কিছু পরিকল্পনা পরিবর্তন করা জরুরি, আবার কিছু ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই সময়ে নিজের মূল্যবোধ ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন উপলব্ধি আসবে, যা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।
সপ্তাহের শেষ ভাগে মানসিক দিকটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে। অল্প কথায় মন ভরে যাওয়া, হঠাৎ নীরব হতে ইচ্ছা করা বা গভীর ভাবনায় ডুবে যাওয়া—এই প্রবণতা বাড়তে পারে। অতীতের কোনো স্মৃতি বা অমীমাংসিত অনুভূতি ভেসে উঠতে পারে, তবে তা আপনাকে দুর্বল করবে না। বরং নিজের ভেতরের সত্যটা বুঝতে সাহায্য করবে। এই সময়ে যুক্তির পাশাপাশি অন্তর্দৃষ্টিকে গুরুত্ব দিলে সঠিক দিশা স্পষ্ট হবে। অতিরিক্ত বিশ্লেষণ না করে নিজের অনুভূতিকে বিশ্বাস করাই হবে এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সপ্তাহের শুরুতে আপনার মন থাকবে অনেকটাই নিঃশব্দ ও অন্তর্মুখী। বাইরের কোলাহল থেকে সরে এসে নিজের ভেতরের জগৎকে বোঝার প্রবণতা বাড়বে। আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন—অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, সামাজিক ব্যস্ততা বা অতিরিক্ত যোগাযোগ আপনাকে ক্লান্ত করে দিচ্ছে। ফলে একা থাকতে ইচ্ছা করবে, নিজের ভাবনার সঙ্গে সময় কাটাতে চাইবেন। এই সময়ে আত্মসমালোচনাও বাড়তে পারে, তবে সেটি নিজেকে ছোট করার জন্য নয়, বরং কোথায় পরিবর্তন দরকার, কোথায় নিজেকে ক্ষমা করা উচিত, সেটা বোঝার জন্য। আধ্যাত্মিক অনুভূতি, অন্তর্দৃষ্টি ও গভীর উপলব্ধি এই পর্যায়ে আপনাকে ভেতর থেকে সমৃদ্ধ করবে।
এ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে। আপনি নিজের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন এবং বুঝতে পারবেন, কোন বিষয়গুলো আপনার জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ আর কোনগুলো কেবল বিভ্রান্তি। অন্যের মতামতের প্রভাব কমে যাবে এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার শক্তি বাড়বে। এই সময়ে নিজের সীমা নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শেখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ভেতরের স্থিরতা আপনাকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে।
সপ্তাহের শেষ ভাগে বাস্তব বিষয়গুলো সামনে আসবে, বিশেষ করে অর্থ ও আত্মমূল্যবোধসংক্রান্ত চিন্তা। নিজের সামর্থ্য, প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হতে পারে। এখানে কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ানো জরুরি হবে। তবে এর মানে এই নয় যে আপনার স্বপ্ন অপ্রয়োজনীয়, বরং কীভাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়া যায়, সেটাই হবে মূল প্রশ্ন। এই সময়ে ছোট কিন্তু স্থির পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর হবে।
বিদেশ কিংবা দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহটি অত্যন্ত শুভ। যাঁরা গবেষণাধর্মী কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য সপ্তাহটি নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।