সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে হঠাৎ অস্বাভাবিক সুন্দর ত্বক দেখা যায়। দেখলে মনে হয়, অত্যন্ত উজ্জ্বল, মসৃণ আর যেন ভেতর থেকে গ্লো করছে। এই ‘গ্লাস স্কিন’ লুকের পেছনে আছে নতুন এক ট্রেন্ড—স্কিন ফ্লাডিং। ২০২৬ সালে এই স্কিন কেয়ার পদ্ধতিই এখন বিউটি–দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

সহজভাবে বলতে গেলে, স্কিন ফ্লাডিং হলো ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্র (হাইড্রেট) করা এবং ত্বকের ভেতর ময়েশ্চারাইজার আটকে রাখা।
এতে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে হালকা ভেজা ত্বকের ওপর একের পর এক হাইড্রেটিং প্রোডাক্ট, যেমন টোনার, এসেন্স, সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার লেয়ারিং করে ব্যবহার করা হয়।
এর লক্ষ্য, ত্বকের ভেতরে যতটা সম্ভব আর্দ্রতা প্রবেশ করানো এবং সেটিকে লক করে রাখা।
স্কিন ফ্লাডিং আদতে নতুন কিছু নয়। এটি মূলত কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের লেয়ারিং ধারণার আধুনিক সংস্করণ। কোরিয়ান গ্লাস স্কিন এর আবশ্যক ধাপ।
সঠিকভাবে করলে এটি আপনার ত্বককে আরও আর্দ্র, স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
এই পদ্ধতিতে প্রোডাক্টগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমে ব্যবহার করা হয়।
হালকা থেকে ভারী টেক্সচারের দিকে। যেমন সবার আগে টোনার, তারপর সিরাম, এরপর ময়েশ্চারাইজার।
সবশেষে সানস্ক্রিন দিয়ে আগের প্রোডাক্টগুলো ত্বকের ভেতরে লক করে রাখা হয়।
চাইলে কেউ ফাইনাল টাচ হিসেবে লিকুইড ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে লেয়ার করলে ত্বক গভীরভাবে হাইড্রেটেড হয়, ফলে—
ত্বক বেশি প্লাম্প বা টান টান দেখায়।
শুষ্কতা কমে।
দীর্ঘ সময় বিউটি পণ্যগুলো ত্বকে কাজ করার ফলে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।
এই ট্রেন্ড মূলত হাইড্রেশন–বেজড বা আর্দ্রতাকেন্দ্রিক স্কিন কেয়ার ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যা টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এটি ত্বককে তাৎক্ষণিক গ্লো দেয়।
স্পা–লাইক ফিনিশিং দেয়।
প্রোডাক্টগুলো হাইড্রেশন–বেজড হওয়ায় খুবই হালকা। ক্ষতিকর কেমিক্যালের পরিমাণ খুবই কম।
বিভিন্ন ধরনের সিরাম ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। যেমন রাতে রেটিনলভিত্তিক অ্যান্টি–এজিং সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। সকালে ভিটামিন সি ব্যবহার করতে পারেন।
সহজেই বাসায় পণ্যগুলো ব্যবহার করা যায়।
স্কিন ফ্লাডিং শুষ্ক বা ডিহাইড্রেটেড ত্বকের জন্য খুব উপকারী; তবে অয়েলি বা একনে–প্রোন বা ব্রণ হয়, এমন ত্বকে অতিরিক্ত লেয়ারিং সমস্যা করতে পারে। নতুন ব্রণ দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে এই রুটিন অনুসরণ করাই ভালো।
সূত্র: উইমেন ডটকম