মেয়েদের চুলে এখন যে কাট জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক সময়ে প্রজাপতির পাখার মতো ছড়ানো একধরনের বিশেষ হেয়ারস্টাইল সবার নজর কেড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বড় বড় হেয়ার স্যালনে এখন এই কাটের চাহিদা বেশ তুঙ্গে।

প্রজাপতির পাখার মতো ছড়ানো এই হেয়ারস্টাইল সবার নজর কেড়েছে। মডেল: রাশিকা, হেয়ারকাট: পারসোনা
ছবি: সুমন ইউসুফ

কয়েক বছর ধরেই চুলের কাটে নতুন অনেক ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের লেয়ার, বব কাট, লং বব, পিক্সি—বাহারি নামের এমন আরও চুলের কাট পারলারগুলোতে প্রচলিত আছে। এসব থেকে মুখের গড়ন, চুলের ঘনত্ব ও পছন্দ অনুযায়ী পছন্দের কাটটি বেছে নেন মেয়েরা। বর্তমানে বাটারফ্লাই হেয়ার কাট নামে একধরনের হেয়ার কাট বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

প্রজাপতির পাখার মতো ছড়ানো এই হেয়ারস্টাইল সবার নজর কেড়েছ । সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বড় বড় হেয়ার স্যালনে এখন এই কাটের চাহিদা বেশ তুঙ্গে।
সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান জানান, ‘বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হেয়ার কাটগুলোর মধ্যে বাটারফ্লাই অন্যতম। কাটটি একই সঙ্গে ট্রেন্ডি ও ক্ল্যাসিক, তাই সব বয়সের মানুষই এটি পছন্দ করছেন।’

বাটারফ্লাই হেয়ার কাটের মূল সৌন্দর্য এই লেয়ারিংয়েই লুকিয়ে আছে

কেন একে বাটারফ্লাই কাট বলা হয়

এই হেয়ার কাটে চুলে অনেকটা হালকা, ফ্লোয়ি ধরনের ভাব আসে। চুলকে একাধিক লেয়ারে কাটা হয়। যে কারণে চুল সেট করার পর এই লেয়ারগুলো প্রজাপতির ডানার মতো ছড়িয়ে থাকে।
নুজহাত খান বলেন, বাটারফ্লাই হেয়ার কাটের মূল সৌন্দর্য এই লেয়ারিংয়েই লুকিয়ে আছে। এই কাটে চুলকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে কাটা হয়, যাতে আলাদা করে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে প্রতিটি লেয়ার। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম লেয়ারটি খুব ছোট রাখা যাবে না। মাঝারি দৈর্ঘ্যের লেয়ার রাখলে এই কাট চেহারায় আনবে অনেকটা ন্যাচারাল লুক।

সব চুলেই কি এই কাট মানায়

যদিও কাটটি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের চুলেই করা যায়, তবে কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুলে এটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় লাগে। এই দৈর্ঘ্যে চুলের একেকটি স্তর সুন্দরভাবে চোখে পড়ে, চুলে তৈরি হয় ঢেউখেলানো একটা ভাব। তবে লম্বা চুলেও এটি খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে যাঁরা তাঁদের চুলের দৈর্ঘ্য ঠিক রেখে নতুন লুক চান, তাঁদের জন্য এটি একটি দারুণ হেয়ারস্টাইল।

যাঁদের চুল ঘন বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুরু, তাঁরা এই কাট দিতে পারেন

স্টাইলিং গুরুত্বপূর্ণ

বাটারফ্লাই কাটের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি অনেকটা ‘সেটিং ডিপেনডেন্ট’। অর্থাৎ শুধু কাট করলেই এর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না। সঠিকভাবে ব্লো ড্রাই অথবা আউটকার্ল করে সেট করা হলে তবেই কাটটি তার পূর্ণ রূপ পায়। আউটকার্ল বা চুলের ডগা বাইরের দিকে কার্ল করলে এই কাটের লেয়ারগুলো স্পষ্ট হয়, চুলে তৈরি হয় একটি ড্রামাটিক ভলিউম। ব্লো ড্রাই বা কার্লিং টুল ব্যবহার করে খুব সহজেই এই লুক তৈরি করা সম্ভব জানান নুজহাত খান।

এই কাট দেওয়ার আগে যে বিষয় জানা জরুরি

এই কাট প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্যই উপযোগী। তবে চুলের ধরন এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাঁদের চুল খুব পাতলা, তাঁদের জন্য এই কাট খুব একটা উপযুক্ত নয়, বলছিলেন নুজহাত খান। কারণ, একাধিক লেয়ারের কারণে চুল আরও পাতলা দেখাতে পারে। অন্যদিকে যাঁদের চুল ঘন বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুরু, তাঁদের জন্য এটি একেবারেই আদর্শ।

কাটটি সুন্দর রাখতে হলে নিয়মিত ট্রিম করাতে পারেন, লেয়ারগুলো যাতে ঠিক থাকে। পাশাপাশি চুলচর্চার ভালো মানের সামগ্রী—যেমন ভলিউমাইজিং মুস বা হালকা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করলে সেটিং দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।