দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এ সময় আরও জরুরি
দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এ সময় আরও জরুরি

এসপিএফ বেশি হলেই কি ভালো সানস্ক্রিন?

রোদে বেরোলে কোনো না কোনো একটি সানস্ক্রিনসামগ্রী নিশ্চয়ই ব্যবহার করবেন। তবে কোন ধরনের সানস্ক্রিনসামগ্রী আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য ভালো, জেনে রাখাও প্রয়োজন। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এসপিএফ অর্থাৎ সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর থেকেই বোঝা যায়, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে কতটা সুরক্ষা পাওয়া যাবে। আদতেই কি ব্যাপারটা তাই? হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সিনথিয়া আলম-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

সূর্য থেকে যে অতিবেগুনি রশ্মি (আলট্রাভায়োলেট বা সংক্ষেপে ইউভি রে) আসে, তার দুটি ধরনই (ইউভিএ এবং ইউভিবি) আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ত্বকে পোড়াভাব, বলিরেখা এবং বয়সজনিত অন্যান্য দাগ ও ছাপ পড়ে। ত্বকের ক্যানসারের জন্যও দায়ী এসব ধরন। আমাদের দেশে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কম হলেও বিষয়টিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

তবে রোদও চাই

সুস্থতার জন্য রোদ যেমন প্রয়োজন রোজ, তেমনি অতিরিক্ত রোদের ক্ষতি থেকে বাঁচতেও হবে। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে দেহে ভিটামিন ডি তৈরি হবে না। ফলে ক্যালসিয়ামের অভাবসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।

তাই রোজ আপনাকে কিছুটা রোদ গায়ে লাগাতেই হবে। অর্থাৎ এ সময়টুকুর জন্য শরীর যতটা সম্ভব খোলা রেখে আপনাকে রোদে থাকতে হবে। এই সময়টাতে কোনো ধরনের সানস্ক্রিনসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ভালো হয়

বাকি সময় ঠিকঠাক সুরক্ষা

এ সময়টুকু ছাড়া দিনের অন্য যে সময়েই রোদে যান না কেন, সুরক্ষার ব্যবস্থা করতেই হবে। এই সময় কাপড় দিয়ে শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে নেওয়াই ভালো। কড়া রোদের সময় হাফহাতা জামার চেয়ে ফুলহাতা জামা রোদ থেকে বেশি সুরক্ষা দেবে।

মুখ ও শরীরের যেসব অংশ খোলা থাকবে, সেসব অংশে নিয়মমাফিক সানস্ক্রিনসামগ্রী প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, কোনো সানস্ক্রিনসামগ্রী রোদ থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। এমনকি এসপিএফ ১০০ হলেও তা কখনো শতভাগ সুরক্ষা দেয় না।

এসপিএফ কতটা গুরুত্বপূর্ণ

সানস্ক্রিনসামগ্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসপিএফ দেখে নেওয়া প্রয়োজন

সানস্ক্রিনসামগ্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসপিএফ দেখে নেওয়া প্রয়োজন। এটি দিয়ে আপনি ইউভিবি থেকে কতটা সুরক্ষা পাবেন, তা বোঝা যায়। এসপিএফ ৩০ মানে এটি এই ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেবে। এসপিএফ ৫০ থাকার অর্থ হলো তা এসপিএফ ৩০ থাকা প্রসাধনের চেয়ে কিছুটা বেশি সুরক্ষা দেবে। এর চেয়ে বেশি এসপিএফ তেমন জরুরি না।

আমাদের দেশের সূর্যালোক বিবেচনায় আপনি এসপিএফ ৫০–সমৃদ্ধ কোনো সানস্ক্রিনসামগ্রী বেছে নিতে পারেন। তবে ন্যূনতম ৩০ এসপিএফ চাই-ই চাই। অবশ্য পানির কাছাকাছি গেলে এসপিএফ ৫০ বেছে নেওয়া আবশ্যক। কারণ, পানিতে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হওয়ায় ক্ষতি দ্বিগুণ হতে পারে।

এসপিএফের গুরুত্ব তো জানলেন। তবে ইউভিএ থেকেও তো সুরক্ষা চাই। তাই ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিনসামগ্রী বেছে নিতে পারেন, যা দুই ধরনের রশ্মি থেকেই সুরক্ষা দেবে।

কোন ধরনের সানস্ক্রিনসামগ্রী বেছে নিচ্ছেন, তা–ও খেয়াল রাখবেন। কারণ, গরমে ঘেমে যাওয়ার ফলে প্রসাধনটি সহজেই ত্বক থেকে সরে যেতে পারে। গরমে তাই পাউডারজাতীয় সানস্ক্রিনসামগ্রী বেছে নেওয়া ভালো।

গুণগত মানের দিকটাও খেয়াল রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করুন রোদে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে। এসপিএফ যতই হোক, রোদে থাকলে দু-তিন ঘণ্টা পরপরই তা পুনরায় প্রয়োগ করুন, আর ঘেমে গেলে বা ভিজে গেলে আরও আগেই।