
শহুরে জীবনে নিজেকে পরিপাটি রাখতে পারলার বা সেলুনে যাওয়া এখন নিয়মিত প্রবণতা। তবে একটু অসতর্কতা আপনার এই সৌন্দর্যচর্চাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বদলে দিতে পারে। একই কাঁচি, চিরুনি, রেজর বা তোয়ালে একাধিক ব্যক্তির ওপর ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে নানাবিধ ছোঁয়াচে রোগ।
পারলার বা সেলুনে মূলত তিনভাবে রোগ ছড়াতে পারে—
ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে
কর্মীর মাধ্যমে
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে
চর্মরোগ: মাথার খুশকি, ফাংগাল ইনফেকশন বা দাদ এবং স্ক্যাবিস (খোসপাঁচড়া) খুব সহজেই চিরুনি বা তোয়ালের মাধ্যমে ছড়ায়।
রক্তবাহিত রোগ: ব্যবহৃত ব্লেড বা রেজরে যদি হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এমনকি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত লেগে থাকে, তবে সামান্য ক্ষত থেকেও অন্যজন সংক্রমিত হতে পারেন।
ভাইরাসজনিত সমস্যা: আঁচিল বা ওয়ার্টস এবং কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা) আক্রান্ত কর্মীর সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। এ ছাড়া সাধারণ ফ্লু বা কোভিড-১৯–এর মতো শ্বাসতন্ত্রের রোগও এখানে ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
সাধারণত সংক্রমণের পর ত্বকে চুলকানি, লালচেভাব, ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা পানিভর্তি দানা দেখা দিতে পারে। হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে লিভারের সমস্যা বা জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়। সংক্রমণের স্থান ফুলে যাওয়া বা পুঁজ হওয়া ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের লক্ষণ।
সতর্কতাই এখানে প্রধান হাতিয়ার। ঝুঁকি এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি—
১. ব্যক্তিগত কিট: সম্ভব হলে নিজের চিরুনি, রেজর বা মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
২. জীবাণুমুক্তকরণ: সেলুনকর্মীকে অবশ্যই প্রতিটি ব্যবহারের পর যন্ত্রপাতি ‘অটো ক্লেভ’ বা স্টেরিলাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শুধু পানি বা সাধারণ অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ধোয়া যথেষ্ট নয়।
৩. ডিসপোজেবল পণ্য: শেভিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবার নতুন ব্লেড ব্যবহার নিশ্চিত করুন। ওয়ান-টাইম তোয়ালে বা টিস্যু ব্যবহার করা শ্রেয়।
৪. কর্মীর সচেতনতা: কর্মীর যদি কোনো দৃশ্যমান চর্মরোগ বা সর্দি-কাশি থাকে, তবে তাঁর সেবা নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। সেবা দেওয়ার সময় কর্মীর গ্লাভস ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, সুস্বাস্থ্যও এর অংশ। পারলার নির্বাচনে সস্তাকে প্রাধান্য না দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিন। কোনো কারণে সংক্রমণের শিকার হলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।