আমাদের দেশে বহু দোকানে এবং বাড়িতে জিলাপি ভাজা হয় ডুবোতেলে
আমাদের দেশে বহু দোকানে এবং বাড়িতে জিলাপি ভাজা হয় ডুবোতেলে

ইফতারে রোজ জিলাপি খাওয়ার আগে লেখাটি পড়ুন

সারা দিন রোজা রাখার পর একসঙ্গে বেশ কয়েকটা জিলাপি খেয়ে নেন অনেকেই। তবে যেকোনো ভাজাপোড়া খাবারই রোজ খেতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা। জিলাপি তৈরি করা হয় ডুবোতেলে ভেজে। তার ওপর এতে দেওয়া চিনি হয়ে দাঁড়াতে পারে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ও পুষ্টিবিদ শম্পা শারমিন খানের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম

রক্তের শর্করায় প্রভাব

জিলাপিতে থাকে প্রচুর চিনি। এটি এমন ধরনের খাবার, যা রক্তের শর্করা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় খুব কম সময়ের মধ্যে। অল্প সময় পরে এই শর্করার মাত্রা আবার কমেও যায়। তাই অনেকটা জিলাপি খেলেও সহজেই ক্ষুধা লাগে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি তো বটেই, অন্যদের জন্যও এ ধরনের খাবার খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয়।

জিলাপিতে আছে প্রচুর ক্যালরি

বাড়বে ওজন, বাড়বে ঝুঁকি

জিলাপিতে আছে প্রচুর ক্যালরি। রোজ উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে খুব সহজেই। বাড়তি ওজনের কারণে অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়বে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের খাদ্যাভ্যাসে ভবিষ্যতে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

তেল পুনর্ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ

জিলাপি তৈরির সময় উচ্চ তাপে তেল গরম করতে হয়। এত তাপে তেল গরম করা হলে তেলের কিছু গঠনগত পরিবর্তন হয়। একবার ব্যবহারের পর এই তেল যদি আবার ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ এই তেল দিয়ে যদি পরদিন আবার জিলাপি ভাজা হয়, তাহলে সেই জিলাপি থেকে আপনি পাবেন মারাত্মক ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট।

ইফতারের সময় অনেকেই জিলাপি খান

আমাদের দেশে বহু দোকানে এবং বাড়িতে ডুবোতেলে কোনো কিছু ভাজার পর সেই তেল বারবার ব্যবহার করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এক দিনের ব্যবহৃত তেল নতুন তেলের সঙ্গে মিশিয়েও নেওয়া হয়। রোজ এভাবে তেল মেশাতে মেশাতে বহুদিনের পুরোনো তেলের অংশ রয়ে যায় সদ্য যোগ করা তেলের সঙ্গে।
শুধু এই ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতির কারণেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ। রক্তনালির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে ট্রান্সফ্যাটের কারণে। ভাজাপোড়া খাবার খেলে যেসব দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে, তেল পুনর্ব্যবহারের কারণে সেসব রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।

তাহলে জিলাপি বাদ?

বুঝতেই পারছেন, জিলাপি রোজ না খাওয়াই ভালো। এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। জিলাপি খাবেন কালেভদ্রে। সেটিও খুব অল্প পরিমাণে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ইফতারের জন্য দুই-একটি চিকন জিলাপি বেছে নিতে পারেন। নিশ্চিত হয়ে নিন, তা যেন পুনর্ব্যবহৃত তেলে তৈরি করা না হয়। চিনির জিলাপির চেয়ে গুড়ের জিলাপি খানিকটা কম ক্ষতিকর। তবে কোনো জিলাপিই রোজ খাওয়া যাবে না, খুব বেশি পরিমাণেও খাওয়া যাবে না। রোজ ইফতারে রসনার তৃপ্তি মেটাতে ফলমূল বা কাঁচা সবজি দিয়ে সুস্বাদু সালাদ করে নিতে পারেন। কিংবা বেছে নিতে পারেন ভিন্ন কোনো স্বাস্থ্যকর পদ।