
টাকা জমানো কোনো কৃপণতা না, বরং নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আয় যতই হোক, সঠিক অভ্যাস আর সামান্য সচেতনতা থাকলে সঞ্চয় সম্ভব। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে বড় পার্থক্য গড়ে তোলে। এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি আর্থিকভাবে ধীরে ধীরে আরও স্থির ও নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।
যদি মনে করেন মাসের সব খরচ শেষে যা অবশিষ্ট থাকবে, সেটা জমাবেন, তাহলে আপনি কখনোই টাকা জমাতে পারবেন না। বেতন বা আয় পেলেই ২০ শতাংশ আগে আলাদা করে রাখুন। যা থাকে তা থেকে খরচ করুন—উল্টোটা নয়।
শুরুতে ঠিক করুন যে আপনি ১০ হাজার টাকা জমাবেন। এরপর ঠিক করুন ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা জমাবেন। এভাবে ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করতে করতে বড় অঙ্কের সেভিংসের দিকে এগিয়ে যান। জরুরি সময়, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, কোথাও ভ্রমণ, কিছু কেনা—এ রকম লক্ষ্য নিয়ে টাকা জমান। লক্ষ্য থাকলে সেভিং টেকে।
‘বেবি স্টেপ’ নিন। আয় যত কমই হোক, টাকা জমানো সম্ভব। মাসে ৫০০ টাকা করে জমান। বছর শেষে ৬ হাজার হবে। ৫ বছর শেষে ৩০ হাজার হবে। ৫০০ বা ১০০০ টাকা ছোট মনে হলেও নিয়মিত জমানো হলে অঙ্কটা বড় হয়। ধারাবাহিকতাই আসল।
বোনাস, গিফট, চাকরির পাশাপাশি অন্য কিছু করে অতিরিক্ত আয়—সব খরচ না করে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ জমান।
যেগুলো ব্যবহার করেন না—সেগুলো কেটে দিন। ছোট ছোট কাটছাঁটেই বড় সেভিং হয়। ধরুন, নেটফ্লিক্স বাবদ আপনার মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়, কিন্তু তা দেখারই সময় পান না। বাদ দিন। এতেই বছরে ১৪ হাজার ৪০০ টাকা বাঁচবে!
এর মানে হলো, মাথায় ১ টাকা ঋণ নিয়েও ঘুমাতে যাবেন না। ঋণ করে খরচের অভ্যাস অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
অন্তত তিন মাস যাতে ভালোভাবে চলতে পারেন, শুরুতেই সেই ফান্ড আলাদা রাখুন। একবার তিন মাসের জরুরি ফান্ড জমানোর পর এবার ছয় মাসের ফান্ড জমান।
জিনিসটার দাম কি আপনার বাৎসরিক আয়ের ১ শতাংশের বেশি? ধরুন বছরে আপনার বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জিনিসটার দাম কি ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি? তাহলে তিন দিন সময় নিন। জিনিসটা আপনার কেন লাগবেই ভাবুন। আস্তেধীরে সিদ্ধান্ত নিন। জিনিসটা যদি কিনতেই হয়, ৭২ ঘণ্টা পরে কিনুন। জরিপ জানাচ্ছে, শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে আপনি সেটা আর কিনবেন-ই না!
ধরুন, আপনার ৮টি শার্ট। নতুন ১টা শার্ট কিনলে পুরোনো একটা কাউকে দিয়ে দিন বা বিক্রি করুন। এভাবে সব ক্ষেত্রে চর্চা করলে সবকিছু আপনার হিসাবের ভেতর থাকবে। কখনোই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করবেন না। জিনিসপত্র থেকে জীবন—গুছিয়ে রাখাও সহজ হবে। নিজের ব্যাংক ব্যালান্সও...
শুধু টাকা জমালেই চলবে না। মাঝেমধ্যে নিজের ছোট ছোট শখ, আহ্লাদ পূরণ করুন। ছোট আনন্দ নিন—তাতে টাকা জমানোর অভ্যাসটা আরও অর্থপূর্ণ ও টেকসই হবে।
সূত্র: ইনভেস্ট আর্ন সেভ–এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল