থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন নামের হরমোন সব প্রকার শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া ও বিপাকজনিত কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগের প্রকোপ বেশি। থাইরয়েডের রোগ প্রজননক্ষমতা ও গর্ভধারণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গর্ভধারণকালে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মা ও গর্ভস্থ শিশুর নানা সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।
মায়ের থাইরয়েড হরমোনে ঘাটতি সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা। এ সময় সাবক্লিনিক্যাল লেভেলে বা বর্ডার লাইনে হাইপোথাইরয়েডজিম থাকলেও থাইরয়েড হরমোন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি। গর্ভকালে এ সমস্যার চিকিৎসা জটিল। কারণ, চিকিৎসাপদ্ধতিগুলো কোনোটাই পুরো নিরাপদ নয়। থাইরয়েডে প্রদাহও এ সময়কার একটি সমস্যা। এ ছাড়া গর্ভাবস্থার শুরুতে অতিরিক্ত বমি ও অরুচির কারণে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটতে পারে। প্রসব–পরবর্তী সময়ে পোস্ট পারটাম থাইরয়েডাইটিস নামে বিশেষ ধরনের প্রদাহ দেখা দিতে পারে কারও কারও।
গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মায়ের থাইরয়েড হরমোনের প্রভাব অনেক। মায়ের থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে গর্ভপাত, কম ওজন ও কম ম্যাচিউর শিশুর জন্ম, শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে নবজাতক ক্রিটিন বেবি বা জন্মগত জটিলতা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। সেই সঙ্গে মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, প্রি–একলাম্পসিয়া, রক্তশূন্যতা প্রসব–পরবর্তী রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
যাঁদের আগে থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা আছে, তাঁরা অবশ্যই সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করলে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে-কমিয়ে নিরাপদ মাত্রায় এনে তারপর সন্তান নেবেন। যাঁদের কোনো সমস্যা নেই, তাঁদেরও উচিত সন্তান ধারণের আগে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা। যদি গর্ভধারণের আগে না করা হয়ে থাকে, তবে প্রথম চেকআপের সময় অন্য পরীক্ষার সঙ্গে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা জরুরি।
যদি হরমোনে ঘাটতি অথবা বাড়তি দেখা দেয়, তবে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর পরীক্ষা করে দেখতে হবে হরমোন নিরাপদ মাত্রায় আছে কি না। কারণ, এ সময় হরমোনের মাত্রা ঘনঘন পরিবর্তিত হয়।
অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা