ছাত্রদের ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রানার্সআপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ছাত্রদের ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রানার্সআপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাডমিন্টন আর টেবিল টেনিসের উৎসব

৮ মে বিকেল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ব্যাডমিন্টন কোর্টে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। দর্শকসারিতে বসে সেই খেলা উপভোগ করছিলেন বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। একটু দূরে টেবিল টেনিসও তখনো জমে উঠেছে। দুই খেলা ঘিরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল বাকৃবি ক্যাম্পাস।

৭-১১ মে এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ৩৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০৭ জন শিক্ষার্থী। ১৯১ জন ছাত্র, ১১৬ জন ছাত্রী।

ছাত্রদের টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় স্থান অর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রীদের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তৃতীয় স্থান অর্জন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রদের ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রানার্সআপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রীদের খেলায় চ্যাম্পিয়ন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রীদের টেবিল টেনিস খেলায় চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেখা হচ্ছে, শেখা হচ্ছে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াছমিন প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতাকে দেখছেন শেখার মঞ্চ হিসেবে। ব্যাডমিন্টনে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করা এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে এসে শুধু খেলাই হচ্ছে না, বরং নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের খেলার স্টাইল বোঝা, সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটাই অন্য রকম। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখানে জাতীয় পর্যায়ের অনেক খেলোয়াড় আছেন। তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাও একটা আনন্দ। যখন কোর্টে নামি, মনে হয় শুধু নিজের জন্য খেলছি না, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খেলছি।’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুহানুল ইসলামের কাছে অবশ্য এই প্রতিযোগিতা অনেকটা পুনর্মিলনীর মতো। রুহানুলও ব্যাডমিন্টন খেলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও জাতীয় পর্যায়ে খেলেছি। এখানে এসে সেই সময়ের অনেক পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে। কারও সঙ্গে একসময় একই টিমে খেলেছি, কারও প্রতিপক্ষ ছিলাম। আজ আবার একই কোর্টে দেখা হয়ে গেল।’

ছাত্রদের টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় স্থান অর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

একই কোর্ট, ভিন্ন অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও টেবিল টেনিস খেলোয়াড় সিফাত বিনতে আলমের কাছে এবারের প্রতিযোগিতার অনুভূতি একটু আলাদা। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেও এবারই প্রথম নিজ ক্যাম্পাসে এত বড় আয়োজনের অংশ হয়েছেন তিনি। বললেন, ‘অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আর নিজের ক্যাম্পাসে খেলার অনুভূতি এক নয়। এখানে সবাই পরিচিত, সবাই এসে খেলা দেখে, উৎসাহ দেয়। এটা যেমন একটা বাড়তি সাপোর্ট, তেমনি ভালো করার একটা চাপও তৈরি করে। কারণ, সবাই চায় আমরা নিজেদের মাঠে ভালো করি।’

একই রকম চাপ আয়োজকেরাও অনুভব করেছেন। শুধু তো প্রতিযোগিতা আয়োজন করেই তাঁদের দায়িত্ব শেষ নয়, ৩৩ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা অতিথিদের আপ্যায়ন করাও তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

বাকৃবির ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কৃষিবিদ আসাদুল হক বলেন, ‘পুরো আয়োজনটা সুন্দরভাবে করতে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। প্রায় দেড় মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। ভেন্যু প্রস্তুত করা, ম্যাচের সূচি ঠিক করা, অতিথিদের থাকা-খাওয়া ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা, সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর আন্তবিশ্ববিদ্যালয় খেলা আবার শুরু হলো, এটা আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। কারণ, এই ধরনের টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙা রাখে। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।’