পাঞ্জাবিতে উৎসবের ছোঁয়া

ঈদের পাঞ্জাবিতে থাকবে উৎসবের ছোঁয়া। নকশার এ আয়োজনে মডেল হয়েছেন সংগীত ও অভিনয়শিল্পী তাহসান খান। পোশাক: লা রিভ, স্থান কৃতজ্ঞতা: লেকশোর হোটেলস, ছবি: কবির হোসেন
ঈদের পাঞ্জাবিতে থাকবে উৎসবের ছোঁয়া। নকশার এ আয়োজনে মডেল হয়েছেন সংগীত ও অভিনয়শিল্পী তাহসান খান। পোশাক: লা রিভ, স্থান কৃতজ্ঞতা: লেকশোর হোটেলস, ছবি: কবির হোসেন

ঈদে ছেলেদের পোশাক মানেই যেন পাঞ্জাবি। এটা নতুন করে জানার কী আছে। তবে জানার আছে পাঞ্জাবির ধারা এবার কোন দিকে? খাটো নাকি লম্বা? ঢিলে নাকি আঁটসাঁট! জানার আছে পাঞ্জাবিতে কোন রং এবার ফ্যাশনে বাজিমাত করবে, সে বিষয়টিও। ঈদ বাজার এরই মধ্যে গমগমে। ফ্যাশন হাউসে ঈদের পাঞ্জাবিও আসতে শুরু করেছে।

ঈদের পাঞ্জাবিতে আরামদায়ক কাপড় প্রাধান্য পাবে। পোশাক: লুবনান

দোকানে যা এসেছে আর যা আসার অপেক্ষায় আছে, সবটার খবর জানতেই শপিং মল ও ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখা। নানা শেডের নীল রং ব্যবহার করা হচ্ছে পাঞ্জাবিতে। কেন এবার নীল রং বেশি? এই প্রশ্নের উত্তরে ফ্যাশন হাউস ওটুর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জাফর ইকবালের ব্যাখ্যা হলো—‘এ বছর ঈদে আবহাওয়া মেঘলা থাকতে পারে। আর আমাদের দেশে বৃষ্টির সঙ্গে নীলের একটা গভীর যোগাযোগ আছে। তাই বলে শুধু নীল রং দিয়েই যে পাঞ্জাবির বাজার ছেয়ে আছে, তেমনটাও নয়।’

নীল রঙের ব্যবহার বেশি হচ্ছে পাঞ্জাবিতে। পাঞ্জাবি: গ্রামীণ ইউনিক্লো

সেটা অবশ্য সাদা চোখেই দেখা যাচ্ছে। পাঞ্জাবিতে আছে লাল, হলুদ, সবুজ, ছাই রং, জলপাই, বটল গ্রিন, বেগুনি ইত্যাদি রং। তবে গাঢ় রঙের চেয়ে প্রতিটা রঙের হালকা শেড বেশি দেখা যাচ্ছে এবার। টকটকে লাল বা হলুদ না নিয়ে লালচে বা হলদে আভায় রাঙানো হচ্ছে পাঞ্জাবি। চোখে আরামদায়ক হালকা এই রংগুলো তরুণদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ডিজাইনাররা। চোখের আরামের পাশাপাশি শরীরের আরামের দিকেও নজর রেখেছেন ডিজাইনাররা। ফ্যাশন হাউস লুবনানের পরিচালক ও ডিজাইন বিভাগের প্রধান নাজমুল হক খান বলেন, ‘এবার বেশি পাঞ্জাবিতে সুতি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, বৃষ্টি ছাড়াও গুমোট গরমে যাতে অস্বস্তি না লাগে। তবে ঈদ যেহেতু আমাদের অন্যতম একটি উৎসব, তাই অনেকে বিকেলের পর থেকে কিছুটা জমকালো পাঞ্জাবিও পরেন। বিশেষ করে রাতের দাওয়াতে। এ কারণে সুতির বাইরে ভারী কাজের সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, জামেবর, জ্যাকার্ড, রাজশাহী সিল্ক, ভিসকস ইত্যাদি কাপড়ের জমকালো পাঞ্জাবি রাখা হচ্ছে।’

পাঞ্জাবিতে দেখা যাবে মধ্যম ঝুল

এবার চোখ রাখা যাক নকশায়। পাঞ্জাবিতে ছাপা নকশা তো আছেই, পাশাপাশি যোগ হয়েছে নানা ধরনের সুতার কাজ। আছে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের নকশা। মায়েদের হাতে পরম মমতায় সেলাই হয় কাঁথা। এই কাঁথায় যে তাগা দেওয়া হয়, সেই তাগার নকশায় আঁকা ফুল, লতাপাতা দেখা যাচ্ছে পাঞ্জাবিতে। ফ্যাশন হাউস লা রিভের প্রধান ডিজাইনার মুন্নুজান নার্গিস জানালেন, আন্তর্জাতিক নকশা হিসেবে জ্যামিতির আঁকিবুঁকি, প্রাচীন স্থাপত্যের নকশা ইত্যাদি বেশি চলছে। অনেক পোশাকে ছাপার পাশাপাশি নানা ধরনের রং ও উপাদান দিয়ে নকশা করা হচ্ছে, যে নকশায় পাওয়া যাবে থ্রিডি আবহ। তাই এটাকে থ্রিডি নকশা বলা হচ্ছে। পাঞ্জাবিতে একই রং (সেলফ কালার) ব্যবহার করে ভিন্নতা আনা হয়েছে।

দাওয়াতে পাঞ্জাবির ওপর চাপিয়ে নিন কটি। পোশাক: ওটু

মোটামুটি তিন ধরনের পাঞ্জাবি পাবেন বাজারে। যার মধ্যে আছে সাধারণ কাটের পাঞ্জাবি, মধ্যম ঝুলের (সেমি লং) পাঞ্জাবি ও শরীরের সঙ্গে পুরো লেগে থাকে, এমন (বডি ফিটিং) পাঞ্জাবি। এর মধ্যে প্রথম ধরনটা বয়স্কদের জন্য। বাকি দুই ধরনের পাঞ্জাবি তরুণ ও মাঝবয়সীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। পাঞ্জাবির সঙ্গে কটি পরে ভিন্ন চেহারায় নিজেকে উপস্থাপন করেন অনেকে। এবারও কটির চল থাকছে। বিশেষ করে ঈদের দিন দাওয়াতে গেলে এই কটি ভালো দেখাবে বলে জানাচ্ছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এ ছাড়া পাইপিং, চিকন জরির সুতা, মোটা রঙিন সুতার ব্যবহারে পাঞ্জাবির বাটন প্লেট, কলার ও হাতায় নকশা করা হয়েছে। বুকের দিকে এক বা দুই পকেটের পাঞ্জাবিও আছে। অনেক পাঞ্জাবিতে পেছনের দিকে ছাপার নকশা করে নতুনত্ব আনা হয়েছে।

দাওয়াতে পাঞ্জাবির ওপর চাপিয়ে নিন কটি। পোশাক: ওটু

ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের পোশাক তৈরি করে, এমন সব ফ্যাশন হাউসেই নতুন পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে। পাঞ্জাবি কেনা যাবে এক হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। তবে যেহেতু এবার পাঞ্জাবিতে ভারী নকশা কম, তাই দামও খানিকটা নাগালের মধ্যে। ব্র্যান্ডের দোকানেই দুই হাজার টাকার কমে অনেক পাঞ্জাবি মিলবে এবার। জমকালো পাঞ্জাবি কিনতে চাইলে দাম খানিকটা বেড়ে যাবে।

ঈদের দিনে তাহসান
ঈদের দিন খুব সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন তাহসান খান। ঈদের নামাজ পড়ার মধ্য দিয়েই দিনের শুরু হয়। তাহসানের ছোটবেলার ঈদ কাটত শান্তিনগর ও পরীবাগে। তবে এখন ঈদ বলতেই পরীবাগ। প্রতিবারের মতো এবারও বাবার সঙ্গে যাবেন ঈদের নামাজ পড়তে। সকালে পাঞ্জাবি-পায়জামা সঙ্গে চামড়ার চটি স্যান্ডেল পরবেন। পাঞ্জাবির রঙের ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দ কালো ও নীল। এই দুটো রঙেরই পাঞ্জাবি পরবেন এবার। সঙ্গে থাকবে কালো পায়জামা এবং একই রঙের স্যান্ডেল। ঈদের নামাজ পড়ে এসে মায়ের হাতের রান্না করা গুড়ের পায়েস না খেলে ঈদের পূর্ণতা পায় না তাঁর। ছোটবেলা থেকেই এই খাবারটি পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে। এরপর দুপুরের খাবারে রোস্ট, গরুর মাংসের সঙ্গে সবজি পছন্দ। ঈদের সময় তাঁর মা আর স্ত্রী মিথিলার হাতের রান্নাই বেশি পছন্দ।

ঈদে নীল রঙের পাঞ্জাবি পরবেন তাহসান

ঈদের দিনে দুপুর পর্যন্ত বাসাতেই থাকেন। এরপর বের হবেন আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে। সন্ধ্যার পর চলবে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। সারা দিন পাঞ্জাবি পরেই কাটাবেন তিনি। এবার ঈদে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে আছে তাহসানের। তবে সেটা কোন দেশ এখনো ঠিক করেননি।
ঘটা করে নিজের জন্য কেনাকাটা করা হয় না তাহসানের। পুরো রমজান মাসজুড়েই যখন যা পছন্দ হয়, কিনে ফেলেন। তবে মেয়ে আয়রার জন্য এবার আয়োজন করেই কেনাকাটা করবেন।
এবারের ঈদটা তাহসানের জন্য অন্যান্যবারের চেয়ে আলাদা। তিন বছর পর এবার ঈদে একক অ্যালবাম বের হচ্ছে তাঁর। আর প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করছেন।