কত ভঙ্গিতে, কত ঢঙেই না পরা যায় শাড়ি। ১২ হাত লম্বা কাপড়টার পরার ধরন অঞ্চলভেদে যেমন বদলে যায়, উৎসবভেদে বদলে যেতে পারে উপস্থাপনও। শাড়ির বড় গুণ হলো সব গড়নের শরীরে এটি মানিয়ে যায়। কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ পাতলা বা একটু ভারী—শাড়ি যেন সবার জন্য। আর শাড়ি এমন এক পোশাক, যা সারা বছরই পরা যায়। ঈদের মতো উৎসবে অন্য পোশাকের চলতি ধারা আসে, আবার সময়ের সঙ্গে মিলিয়েও যায়; কিন্তু শাড়ি থেকে যায় স্বমহিমায়। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—একটু ভিন্ন স্টাইলেই শাড়ি হয়ে উঠতে পারে তিন বেলার সঙ্গী। এবারের ঈদ উপলক্ষে আসা নতুন কিছু শাড়ির নকশা বাজার ঘুরে এসে তুলে ধরলেন রয়া মুনতাসীর।
গাঢ় নীল রঙের মসলিন শাড়ির ওপর সুতার ভারী কাজ। সাদা সুতায় মেশিন এমব্রয়ডারি পুরো শাড়িতে এনেছে জমকালো ভাব। নীলের গভীরতার সঙ্গে সাদা কাজ আলাদা করে চোখে পড়ে।
শাড়িতে বাড়তি কোনো কাজ নেই, তাই ধরা দিয়েছে কাপড়টির স্বাভাবিক সৌন্দর্য। ব্লাউজ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ক্রপ টপ; সেটির রং আবার শাড়ির পাড় থেকে ধার করা। সকালে এই শাড়ি হালকা গয়নাসহযোগে আর দুপুরে পরতে চাইলে একটু বেশি গয়না যোগ করে নিতে পারেন। আরামদায়ক কাপড়ের কারণে গরমেও থাকবে স্বস্তি।
হালকা জলপাই রঙের সিল্কের শাড়িটির ওপর সোনালি ছাপা নকশা প্রথম দেখাতেই এনে দেয় উৎসবের অনুভূতি। পাড়ে রয়েছে স্ক্যালপড ডিজাইন ও ঘন কারুকাজ, যা শাড়িটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। আঁচলে জ্যামিতিক লাইন ও ফুলেল নকশার সমন্বয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। গরমের কথা মাথায় রেখে গয়না ও সাজ রাখা হয়েছে হালকা, যাতে আরাম ও সৌন্দর্য—দুটিই বজায় থাকে।
ছাপা নকশার সুতির শাড়িটি সকাল বা বিকেলের ঘোরাঘুরির জন্য পরতে পারেন। শাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে তিন থেকে চারটি রং। কাপড় হালকা হওয়ায় গরমের পুরো সময়টাতেই আরাম দেবে।
ফিরোজা রঙের শাড়িটির ওপর একই রঙের সুতার কাজ সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দুপুরের দাওয়াতে এমন একটি শাড়ি বেছে নিতে পারেন। শাড়ির আঁচলে টারসেলের ব্যবহার নজর কাড়ে। শাড়ির সঙ্গে বেছে নেওয়া হয়েছে রুপার গয়না, ফিরোজা রংকে যা আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।