থিমভিত্তিক নকশায় মেয়ে ও ছেলেশিশুদের জন্য ফ্যাশন হাউসগুলো এনেছে সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক, গাউন, পাঞ্জাবি, কাবলি, শার্ট, টি-শার্ট! আর ঈদ যেহেতু গরমে হচ্ছে, তাই স্টাইলের পাশাপাশি স্বস্তির দিকটাও খেয়াল রাখা হয়েছে।
ঈদপোশাকে প্রধানত সুতি, লিনেন ও ভিসকস—এই তিন ধরনের কাপড় প্রাধান্য পেয়েছে। তবে সুতি কাপড়ই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ডাবল জর্জেট, সাটিন সিল্ক, সিল্কও ব্যবহার করা হয়েছে।
মেয়েশিশুদের জন্য আছে সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক, টিউনিক, ঘাগরা-চোলি, ওয়ান–পিস, টু–পিস ও থ্রি–পিস স্যুট। আরও আছে সারারা, খাটো কামিজ, ফারসি এবং লেহেঙ্গা ধাঁচের স্কার্ট। আগে ফ্রক ও টিউনিকের চাহিদা বেশি থাকলেও এবার সালোয়ার-কামিজ আর ঘাগরা-চোলির দিকেই ঝোঁক বেশি।
ছেলেশিশুদের জন্য আছে পাঞ্জাবি, পায়জামা, কাবলি, টি-শার্ট, পোলো শার্ট ও ফতুয়া। এ ছাড়া আছে হাফহাতা, ফুলহাতা এবং থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট।
গরমকে মাথায় রেখে পোশাকের রং বাছাই করা হয়েছে। মেয়েশিশুদের পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে উজ্জ্বল রং। ফিরোজা, লাল, কমলা, গোলাপি ও বেগুনির বিভিন্ন শেড ব্যবহার করা হয়েছে।
ছেলেশিশুদের ঈদপোশাকগুলো মোজাইক থিমে করা হয়েছে। নীল, ধূসর, বাদামি এবং রাস্টিক অরেঞ্জ রংগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। শার্ট ও পাঞ্জাবির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সুতি এবং ভিসকস কাপড়। পাঞ্জাবির মোটিফে আছে স্ট্রাইপ, সঙ্গে আছে রঙিন কোটি।
শিশুদের আগ্রহোদ্দীপক বিষয়গুলো স্ক্রিন প্রিন্টের মাধ্যমে ছেলেশিশুদের শার্টে তুলে আনা হয়েছে। শার্ট ও টি-শার্টে বিভিন্ন ধরনের কার্টুন এবং অ্যানিমেশন চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের প্যাচওয়ার্কও করা হয়েছে। আজরাক ও বোহো থিমকে কেন্দ্র করে পোশাকে নকশা এসেছে।
পাঞ্জাবিতে আজরাক থিমের প্রিন্টে নকশা করা হয়েছে। এতে জারদৌসি, কারচুপির কাজও আছে। বোহো থিমে শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট এবং মেয়েদের টপ নকশা করা হয়েছে। স্পিডবোট, তরমুজ, কলা—এসব মোটিফ কমিকধাঁচে শিশুদের পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মেয়েশিশুদের পোশাকের প্যাটার্নে লেয়ারিং, ফ্লেয়ার গুরুত্ব পেয়েছে। স্তরভিত্তিক নকশাও আছে। যেমন অরগাঞ্জা কিংবা টিস্যু কাপড়ের সঙ্গে জর্জেট, ভিসকস বা সাটিন কাপড়ের স্তর। হাতায় এসেছে বৈচিত্র্য—পাফ হাতা, লেয়ারড হাতা, সার্কুলার হাতা, বেলুন আকৃতি দেখা যাচ্ছে। মেয়েশিশুদের পোশাকে এমব্রয়ডারি, কাচের কাজ, জারদৌসি এবং কারচুপির কাজ করা হয়েছে।