ওনিকা তানিয়া মারাজকে কি চেনেন? এটি নিকি মিনাজ-এর আসল নাম। হুট করে যিনি ট্রাম্পের ‘প্রশংসায়’ ভাসছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ‘আসল সম্পর্ক’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
জীবনযাপন ডেস্ক
৮ ডিসেম্বর ১৯৮২। সেদিনই সেন্ট জেমস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় আর্থিকভাবে অসচ্ছল এক পরিবারে জন্ম নেন নিকি, যেখানে অশান্তি লেগেই ছিল। তবে সেই প্রতিবন্ধকতাই নিকিকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অনুপ্রাণিত করেছিলদামি জুতা, পোশাক না থাকা এক কিশোরীই বদলে দিল বিশ্ব ফ্যাশনের রীতিনীতি। নিকির যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন তাঁর পরিবার উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়। নিকি ‘ভোগ’ সাময়িকীকে জানিয়েছিলেন, সহপাঠীদের মতো দামি পোশাক বা জুতা কেনার সামর্থ্য তাঁর পরিবারের ছিল না। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় এক সহপাঠী তাঁকে বিদ্রূপ করেছিল। সেটি দীর্ঘ সময়ের জন্য তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলনিকির বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে পরিবারে সব সময় অশান্তি চলত। সংসার চালাতে নিকির মাকে ভীষণ সংগ্রাম করতে হয়েছে। নিকি একসময় বলেছিলেন, তাঁর সাফল্যের অন্যতম প্রেরণা ছিল মাকে আর্থিক কষ্ট থেকে মুক্ত করা। আর্থিক সচ্ছলতা আদতে কেমন, মাকে তা জানাতে চেয়েছিলেন নিকি
বিজ্ঞাপন
নিকি মিনাজ বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় র্যাপার। দ্রুতগতির র্যাপ, কণ্ঠের বৈচিত্র্য, রঙিন ও নাটকীয় ফ্যাশন, দামি, বিলাসবহুল ফ্যান্সি জুতা, মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং নিজেকে বারবির মতো উপস্থাপন তাঁকে অন্যদের থেকে সহজেই আলাদা করেছে। তাঁকে প্রায়ই ‘কুইন অব র্যাপ’ বলা হয়ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিকি মিনাজের সম্পর্কটি মূলত রাজনৈতিক সমর্থন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তবে এর পেছনে ‘অন্য কোনো রহস্য’ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরানিকি ২০২৫ সাল থেকে ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি নিজেকে ট্রাম্পের ‘নম্বর ওয়ান ফ্যান’ বলেছিলেন। আর এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত দ্য মিলিয়ন ডলার পিচ কম্পিটিশনের অন্যতম বিচারক হিসেবেও অংশ নিয়েছেন২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে ট্রাম্পের সমাবেশে যোগ দিয়ে নিকি তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁকে সমর্থন করার কথা জানান। এদিকে ট্রাম্প যে ভাষায় নিকির শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন, তা উল্লেখ করার অযোগ্য
নিকির সংগীতজগতে উত্থান ঘটে ২০০৭–০৯ সালের দিকে। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠার পর তিনি নিজে গান বাঁধতে শুরু করেন। একাধিক মিক্সটেপ প্রকাশ করেন। ২০০৯ সালে র্যাপার লিল ওয়েনের ইয়াং মানি এন্টারটেইনমেন্ট রেকর্ড লেবেলে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসেনিকির জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি গান বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তবে সার্জারি করে শারীরিকভাবে নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্য নাকি নিজের সংগীত প্রতিভার জন্য তিনি বেশি জনপ্রিয়, তা নিয়ে বিতর্ক আছে২০১০ সালে প্রকাশিত নিকির প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘পিঙ্ক ফ্রাইডে’ তাঁকে মূলধারার সংগীতজগতে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে। পরবর্তী সময়ে ‘দ্য পিঙ্কপ্রিন্ট’ ও ‘কুইন’ অ্যালবামের মাধ্যমে নিজের সংগীতশৈলী আরও মেলে ধরেননিকির বিশেষত্ব শুধু গানেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরুষপ্রধান হিপ-হপ জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করা, ব্যতিক্রমী পোশাক ও চুলের সাজ, ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠে র্যাপ করা, শারীরিক পরিবর্তন ও নিজের ব্যক্তিত্বকে ব্র্যান্ডে রূপান্তর করার দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করেছে