মা-বাবা যখন আইসোলেশনে

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময় যে কারও আইসোলেশনে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মা কিংবা বাবা অথবা উভয়কে কাছে না পেয়ে ছোট শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুসন্তানদের মা-বাবা থেকে দূরে রাখা কঠিন। সন্তানের যত্ন নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েন মা-বাবা। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও অনুকূলে থাকবে।

. মা অথবা বাবা যখন করোনায় আক্রান্ত কিংবা সন্দেহভাজন আক্রান্ত, তখন তাঁদের সন্তানের দেখাশোনার জন্য পরিবারের অন্যদের এগিয়ে আসতে হবে। দাদা-দাদি, নানা-নানি বা সাহায্যকর্মীকে এ বিষয়ে আগেই সচেতন করতে হবে। শিশুটি কখন কী খায়, কী চায়, কোথায় কী আছে—সে বিষয়ে ধারণা দিয়ে রাখা ভালো।

২. শিশুসন্তানদের বয়স অনুযায়ী সঠিক তথ্য জানান। করোনাভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়, কেনই-বা কারও এ রোগ হলে আলাদা থাকতে হয়—এমন সব বিষয় বুঝিয়ে বলুন। তবে এমন কিছু বলবেন না, যাতে শিশু আতঙ্কিত বোধ করে বা আঘাত পায়।

মা অথবা বাবার সঙ্গে সন্তানের ভিডিও কলে বা টেলিফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে তার অসহায়ত্ব কাটবে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা প্রকাশ করবেন না।

৩. শিশুকে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বারবার মনে করিয়ে দিন। মাঝেমধ্যে এমনিতেই মজা করে বাসায় শিশুকে মাস্ক পরিয়ে রাখুন, যাতে পরে প্রয়োজন হলে সে মাস্ক পরতে ঝামেলা না করে।

৪. শিশুকে তার মনের কথা প্রকাশ করতে দিন। মায়ের কাছে চিঠি লিখে, ছবি এঁকে, কার্ড বানিয়ে সময় কাটাতে দিন। বাগান করে, খেলাধুলায় মেতে কিংবা অন্য কোনোভাবে পরিবারের অন্যরাও তাকে সুন্দর সময় কাটাতে সাহায্য করুন।

ডা. সিফাত ই সাইদ, সহকারী অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়